সদস্যদের নিরঙ্কুশ ভোটে পাবনা জেলা সমিতির গঠনতন্ত্রের অনুমোদন

নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পাবনা প্রবাসীদের অন্যতম বড় সংগঠন পাবনা জেলা সমিতি। এ সমিতি দীর্ঘদিন নানা কাজ পরিচালনা করলেও নিজস্ব কোনো গঠনতন্ত্র ছিল না। এবার পাবনার প্রবাসীরা সেই গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিলো। যাতে করে সমিতি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। সমিতির সব সদস্য এই গঠনতন্ত্রের সবকটি ধারা ও উপধারা বিশ্লেষণ করে একটি আধুনিক ও বাস্তবসম্মত গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেছে। ভবিষৎ এ সমিতির সব কমকাণ্ড এর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। নিউইয়কে করোনার ভয়কে জয় করে শুধু পাবনা জেলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য ব্রুকলিনে সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে সদস্যরা মিলিত হন। সেখানে শুরুতে পাবনা জেলা সমিতির গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা উপধারা নিয়ে সম্যক ধারণা দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক পান্না। তিনি পাবনা জেলার প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ থেকে এ সমিতি পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করেন। পাবনা জেলার প্রবাসীদের যেকোনো স্বার্থ রক্ষা করতে এ সমিতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেই সাথে সমিতির আগামীর যেকোনো সিদ্ধান্ত এই গঠনতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন। এরপর শুরু হয় এই গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন দিক পযালোচনা। একে একে সমিতির সব সদস্য এর নানা দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। সমিতির এ গঠনতন্ত্রের মূল বিষয় নির্ধারণ হয় যে পাবনা জেলার সংসদীয় পাঁচটি আসনের সব সংসদ সদস্য পদাধিকারবলে এ সমিতির সদস্য হিসেবে মূল্যায়িত হবেন। অরাজনৈতিক এ সংগঠনটি আগামীতে আরো বড় পরিসরে পাবনা জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে তুলে ধরবে। আমেরিকায় বসবাসকারী পাবনার অধিবাসীদের যেকোনো সাহায্যে সবসময় নিয়োজিত থাকবে। বিশেষ করে আমেরিকায় আসা নতুন অধিবাসীদের সব ধরনের সহোযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর। শুধু নিউইয়র্ক কেন্দ্রিক নয়, এ সমিতির কাযক্রম সমগ্র আমেরিকাজুড়ে পরিচালিত হবে। প্রয়োজনে স্টেট-ভিত্তিক সাব-কমিটি গঠন করার ধারাও এতে যুক্ত করা হয়। যা ভবিষতে এ সমিতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি আব্দুল হাদী রানা বলেন, গঠনতন্ত্রের সব নিয়ম ও ধারা কঠিনভাবে মানা হবে। এ ছাড়া সমিতির এ অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় ধারা উল্লেখ করেন সমিতির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন আল্লাহর দুনিয়াতে জন্মালে মৃত্যু অনিবার্য। এ ছাড়া এবার করোনার মতো মহামারীতে যেভাবে মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, তাতে করে আমেরিকায় কবরের জায়গা ব্যবস্থা করা খুব কঠিন। এইসব বিষয় বিবেচনা করে আগামীতে সমিতির সদস্যদের কবরের সমস্যা সমাধানে বৃহৎপরিসরে কবরের জায়গা ক্রয় করা হবে। পরে সমিতির সব সদস্য এতে সম্মতি দেন। এবং অতি দ্রুতই এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান। এ দিকে সমিতির প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক আলমগীর ব্যাপারী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শুধু গঠনতন্ত্র পাস হলে হবে না। সবাইকে আন্তরিকভাবে এটিকে অনুসরণ ও সম্মান করতে হবে। পাবনা জেলাবাসীর স্বার্থে কাজ করতে হবে। সমিতির শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গঠনতন্ত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, সদস্যদের কল্যাণে যাতে এ সমিতি কাজ করতে পারে সেদিকে যাতে সবাই খেয়াল রাখে। কারণ পাবনাবাসীর স্বার্থই সমিতির মূল চালিকাশক্তি! সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রফেসর ইউনুস আলী, হাজী আব্দুল আউয়াল, ওহিদুজ্জামান লিটন, কুতুব উদ্দিন আইবেক, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. ফজলুল হক খান, মো. হাফিজুর রহমান. সাইদুল ইসলাম মানিক, মুক্তিযাদ্ধা আশরাফ আলী, সেলিম আল দ্বীন, এস এম রাজু আলীম ও আয়শা সিদ্দিকা বিনতী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।