সন্তান নির্যাতনের দায়ে পিতা-মাতার ৯৪ বছর করে কারাদন্ডের আশঙ্কা

উদ্ধারকৃত ১৩ ছেলে-মেয়ের সাথে অভিযুক্ত পিতা-মাতা।

ঠিকানা ডেস্ক: ২ থেকে ২৯ বছর বয়সী ১৩ সন্তান-সন্ততিকে শিকলে আটকে রেখে অভুক্ত ও অর্ধভুক্ত রাখার এবং নির্যাতনের দায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ড্যাভিড ট্রারপিন এবং লুইস টারপিনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সমর্পণ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বিভারসাইড কাউন্টি সুপেরিয়র কোর্টে ৫৭ বছর বয়স্ক ড্যাভিড এবং ৪৯ বছর বয়স্ক লুইসের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ১২ কাউন্ট, নির্ভরশীল অ্যাডাল্টদের অ্যাবিউজের ৭ কাউন্ট, চাইল্ড অ্যাবিউজের ৬ কাউন্ট এবং মিথ্যা আটকের ১২ কাউন্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে । ড্যাভিডের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সীকে প্রলুব্ধ করার অতিরিক্ত ১ কাউন্ট অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে ড্যাভিড এবং লুইসের ৯৪ বছর করে কারাদন্ডের আশঙ্কা রয়েছে বলে ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী মাইকেল হেস্ট্রিন ২১ জানুয়ারি জানিয়েছেন।
হেস্ট্রিন আরও জানান যে দীর্ঘকাল অপুষ্টিতে ভোগা অস্থিচর্মসার ১৩ শিশুকে লসএঞ্জেলেসের ৬০ মাইল দক্ষিণপূবর্বের পেরিসস্থ একটি গৃহ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেস্ট্রিন আরও জানান যে ড্যাভিড ও লুইসের ১৭ বছর বয়স্কা কন্যা পিতা-মাতার নিষ্ঠুর ও পাশবিক আচরণের হাত থেকে নিষ্কৃতির জন্য প্রায় ২ বছর ধরে পলায়নে পথ খুঁজছিল। অবশেষে সে জীবন ঝুঁকি নিয়ে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে এবং ৯১১ নম্বরে কল করে। তার অপর এক সহোদর ভ্রাতাও বালিকাটির সাথে পলায়নের চেষ্টা করেছিল। তবে দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ার সাহস সঞ্চয় করতে পারেনি।
পুলিশ গৃহের দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শোনামাত্রই ভয়ার্ত টারপিনস দৌড়ে গিয়ে ১১ ও ১৪ বছর বয়সের ২ জনের শৃঙ্খল খুলে দেয়। তখনও ২২ বছর বয়স্ক একজন বিছানার সাথে শিকল দ্বারা আটকা ছিল। হেস্ট্রিন জানান, শিশুদের শাস্তি দেয়ার জন্য প্রথমে বাধা হত এবং বেদম প্রহারের পর তাদের শিকল পরিয়ে আটকিয়ে রাখা হত। তিনি আরও জানান, শিশু-কিশোরদের মারধর ও শৃঙ্খলিত রাখার অসংখ্য নমুনা গৃহ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। হেস্ট্রিন জানান, শিশু কিশোররা ইহজন্মে সুস্বাদু ও পুষ্টিদায়ক কোন খাবার ভক্ষণের সুযোগ পায়নি। সামান্য আপেল পাই, পাম্পকিন পাই খেয়েই তাদের জীবন নির্বাহ করতে হত। অধিকাংশ সময় তারা পেটপুরে খেত পেতনা। প্রায়শ অর্ধভুক্ত থাকত। হেস্ট্রিনের মতে শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। সম্ভবত তাদেরকে ঘরে কিছুটা শিক্ষা-দীক্ষা দেয়া হয়েছিল। ঘরের অভ্যন্তরে শত শত জার্নাল পাওয়া গেছে।
হেস্ট্রিনের বর্ণনানুযায়ী, ড্যাভিড ও লুইসসহ তাদের ১৩ ছেলে-মেয়ে সকাল ৪টা ৫টার দিকে ঘুমাত এবং সারাদিন ও রাতের অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটাত। হেস্ট্রিন আরও জানান, প্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের ১জনকে বাড়ির বাইরের ক্লাশে হাজির হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে ক্লাশ শেষ হওয়া পর্যন্ত লুইস তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করত এবং তাকে সরাসরি বাড়ি নিয়ে আসত। তাই শিশু-কিশোররা বাইরের বাচ্চা-কাচ্চাদের সাথে যোগাযোগ বা খেলাধুলার কথা কল্পনাও করতে পারেনি। পুলিশ জানায়, ৭জন ছেলে-মেয়ের মত ১৮ থেকে ২৯ বছর হলেও দৈহিক আকার-আয়তন ও হাড্ডিসার দেহধারী সকলকে কম বয়সী প্রতীয়মান হয়েছিল। হেস্ট্রিন জানান, ১২ বছর বয়সীদের ওজন ছিল ৭ বছর বয়সী স্বাভাবিক শিশু-কিশোরের ওজদের সমান এবং ২৯ বছর বয়স্কা এক মহিলার ওজন ছিল মাত্র ৮২ পাউন্ড। তিনি জানান, অনেক শিশুরই মানসিক ও আবেগিক সমস্যা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিগত ৪ বছরের মধ্যে শিশু-কিশোররা কোন ডাক্তার দেখেনি এবং সারা জীবনে কোন ডেনিস্ট দেখিনি। ১৭ বছর বয়স্ক একজনকে মেডিকেশন ও পিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে সে জানায়: মেডিকেশন বা পিল কি জিনিস তা জীবনে কখনো শোনেনি ও দেখেনি।
বিভারসাইড কাউন্টি সুপেরিয়র কোর্টে বিজ্ঞ বিচারক মাইকেল ডনার আটক ড্যাভিড এবং লুইস প্রত্যেকের জামিনের শর্ত হিসেবে ১২ মিলিয়ন ডলার ধার্ষ করেছেন। অবশ্য আদালতে অভিযুক্ত ড্যাভিড টারপিন ও লুইস টারপিন উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে ৩৭ কাউন্ট হারে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের বিচারের পুনঃ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছে।