সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র, বেশি কিনছে সৌদি

ঠিকানা অনলাইন : ২০০১ থেকে ২০১৫ সালের তুলনায় এখন ১৫ শতাংশ বেশি অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সৌদি আরবের কেনার পরিমাণ ৬১ শতাংশ বেড়েছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বে যত অস্ত্র বিক্রি হয়, তার এক-তৃতীয়াংশ হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অর্ধেক কেনে মধ্যপ্রাচ্য। খবর ডয়চে ভেলের।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে সৌদি আরব। তারাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের ক্রেতা।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যা অস্ত্র বিক্রি করত, এখন তার তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি করে। সর্বশেষ পাঁচ বছর বিশ্বে মোট যত অস্ত্র বিক্রি হয়েছে, তার ৩৭ শতাংশ করেছে দেশটি। মোট ৯৬টি দেশকে অস্ত্র বিক্রি করেছে তারা। আর তাদের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো মধ্যপ্রাচ্য, যা প্রায় অর্ধেক।

২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়েনি। তার আগের এক দশক ধরে অস্ত্র বিক্রি সমানে বেড়েছে। এর মূল কারণ চীন ও রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনা কমেছে। রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ কম হওয়ার কারণ, ভারত সে দেশ থেকে অনেক কম অস্ত্র কিনছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি থেকে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়েনি।

বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ১ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আছে রাশিয়া ও ফ্রান্স।

২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র কেনার পরিমাণ তার আগের ১০ বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আর সৌদি আরবের অস্ত্র কেনার পরিমাণ ৬১ শতাংশ বেড়েছে। কাতারের অস্ত্র কেনার পরিমাণও বহুগুণ বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৫০টি এফ ৩৫ জেট কেনার জন্য চুক্তি করেছে। তারা ১৮টি সশস্ত্র ড্রোনও কিনছে। ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার দিয়ে এই অস্ত্র কিনছে আমিরাত।

এশিয়া ও ওশেনিয়ার দেশগুলো বেশি অস্ত্র কেনে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে অস্ত্রের ৪২ শতাংশ কেনা হয়েছে এখান থেকে। কিনেছে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তান।

সিপরির এক সিনিয়র গবেষক বলেছেন, এশিয়া, ওশেনিয়ার অনেক দেশই চীনকে বিপদের কারণ বলে মনে করে। তাই তারা অস্ত্র কিনছে।

ঠিকানা/এনআই