সবার কপালে ভাঁজ ফেলছেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টন

ঠিকানা ডেস্ক : কূটনীতির পরিবর্তে সামরিক অভিযানের দিকেই যাঁর আগ্রহ বরাবর বেশি, সেই ব্যক্তি জন বোল্টন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে আবার জায়গা করে নেওয়ায় জাতিসংঘ কূটনীতিক আর বিশেষজ্ঞরা ভয় পাচ্ছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্র বোধ হয় জোট ভেঙে তছনছ করবে।

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টারের স্থলাভিষিক্ত বোল্টন আগামী ৯ এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নিচ্ছেন; কিন্তু তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগেই উদারপন্থী মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্সি গ্রহণের পর প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, সরে গেছেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো থেকেও, ছেঁটে ফেলেছেন জাতিসংঘে অর্থায়নের পরিমাণ। সেই প্রশাসনে এবার যোগ দিচ্ছেন বোল্টন, যিনি কূটনৈতিক উপায়ে শান্তি স্থাপনের পরিবর্তে সশস্ত্র অভিযানের ব্যাপারেই বেশি মনোযোগী।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে বোল্টন জাতিসংঘে দূত হিসেবে কাজ করেছেন। তখন উত্তর কোরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে তিনি সামরিক অভিযানের পক্ষে ওকালতি করেন। এ ছাড়া ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার ধোয়া তুলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার পেছনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘে মার্কিন দূত হিসেবে আছেন নিকি হ্যালি, এবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পাচ্ছেন বোল্টন, এরপর কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের বাধা পেরিয়ে মাইক পম্পেও যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রিত্ব পান, তবে ট্রাম্প প্রশাসনে কট্টরপন্থীরা প্রচ- শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষক সংস্থা ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশনসের জাতিসংঘ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচার্ড গোওয়ানের ধারণা, বোল্টন দায়িত্ব নেওয়ার পর হ্যালির মাধ্যমে জাতিসংঘে ব্যাপক রদবদল ঘটানোর চেষ্টা করবেন। জাতিসংঘে আগে কাজ করার সুবাদে এ সংস্থা সম্পর্কে বোল্টনের স্পষ্ট ধারণা থাকায় কাজটা করা তাঁর জন্য সহজ হবে বলে গোওয়ানের অভিমত।

নিরাপত্তা পরিষদের এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রশাসনের মধ্যে সবচেয়ে মৌলবাদীদের একজন হলেন বোল্টন। তাঁর একদম ভেতরটা পর্যন্ত জাতিসংঘবিরোধী।’ ট্রাম্প প্রশাসনে বোল্টনের জায়গা পাওয়ার ঘটনায় ইউরোপীয়দের নড়েচড়ে বসা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের এ কূটনীতিক।

বোল্টন-পম্পেও-হ্যালির জোট ইরানের পরমাণু চুক্তি ভেঙে ফেলবে, এমন আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। কেননা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এ চুক্তি চান না। তার ওপর তিনি যেসব কট্টরপন্থী লোকজনকে প্রশাসনে ঢোকাচ্ছেন, তাতে তাদের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আরো তীব্র হচ্ছে। ইরান ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য এবং জার্মানির সঙ্গে ওই চুক্তি করে।

বোল্টনের কারণে খোদ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কপালে ভাঁজ পড়েছে। সংস্থার মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক জানান, সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে গুতেরেস গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং বোল্টনের সঙ্গেও তেমন সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করবেন জাতিসংঘ প্রধান। সূত্র : এএফপি।