সবার সঙ্গে দেখা হলে আরও ভালো লাগত

ঠিকানাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন -ফাইল ছবি

ঠিকানা রিপোর্ট : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। কিন্তু তার একসময়ের প্রিয় বাসভূমি ও কর্মস্থল নিউইয়র্কে আসতে না পারায় মন খারাপ করেছেন। বিশেষ করে, এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের তিনি ভীষণ মিস করেছেন। সবার সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগত বলে জানিয়েছেন। সফর শেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে দেশে ফেরার প্রাক্কালে ঠিকানার সঙ্গে আলাপকালে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করলেও নিজেকে প্রবাসীদের একজন প্রতিনিধি মনে করেন ড. মোমেন। দেশের সঙ্গে প্রবাসের সেতুবন্ধ সুদৃঢ় রাখতে সব সময় কাজ করে চলেছেন তিনি। ড. মোমেন বলেন, ‘প্রবাসীদের সঙ্গে আমার একপ্রকার নাড়ির টান খুঁজে পাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় সারা বিশ্বের প্রবাসীদের খোঁজখবর রাখতে পারছি। বিদেশের সকল দূতাবাস, মিশন ও কনস্যুলেটে প্রবাসীরা যাতে নির্বিঘ্নে সেবা পেতে পারেন, সে জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাচ্ছেন বলেও জানান ড. মোমেন। তিনি বলেন, ‘এবারের সফরে নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল। প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে নিউইয়র্কে কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক থাকায় এবার যাওয়া হলো না।’ তিনি বলেন, সবার সঙ্গে দেখা হলো না। দেখা হলে ভালো লাগত।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রবাসীরা সেবার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না-এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঢাকায় ফিরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, এবারের সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও খুবই ফলপ্রসূ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি থেকে ভিন্ন মনোভাব পোষণ করে বাইডেন প্রশাসন। ফলে বাংলাদেশের কাছে নতুন প্রশাসন কী আশা করে, সেটি জানার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের কী চাওয়া, সেটাও তুলে ধরেছি। করোনাভাইরাসের কারণে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ হয়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার একটা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা, বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবাসন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান চেয়েছি। বিশেষ করে, বাইডেন প্রশাসনকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাঁচ দিনের সফরে কী অর্জন সঙ্গে নিয়ে গেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্ভাবনার বীজ রোপণ করে গেলাম। ফল নিশ্চয় পাওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সময় সুসম্পর্ক রয়েছে। নতুন প্রশাসনের মনোভাব জানা দরকার ছিল। বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে ফোনালাপে সেই ধারণারই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, সিলেটের কৃতীসন্তান ড. এ কে আব্দুল মোমেন দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার তাকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। পাশাপাশি ২০১০ সালে ড. মোমেন ইউনিসেফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশে নিয়ে যান এবং সিলেট-১ (সদর) আসনে মনোনয়ন দেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর ড. মোমেনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।