সমাজের উন্মাদ শ্রেণির আতেল ও হলুদ সাংবাদিকদের সম্পর্কে আবীর আলমগীরের স্ট্যাটাস

ঠিকানা অনলাইন : সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী ফোবানার ৩৩তম সম্মেলন শেষ হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবারের সম্মেলনে চরম অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা বর্ণনা করে প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে ফোবানার ৩৩তম সম্মেলনকে দারুণ টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সব বাঁধা পেরিয়ে, সমস্ত প্রস্তুতির সফল সম্মেলন শেষ করার পরও সমাজের কিছু কিছু উন্মাদ শ্রেণির আতেল ও কিছু হলুদ সাংবাদিক এমন সাফল্যে তারা এতটাই শকট হলেন যে, কত কিছুই লিখতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমন মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ‘ফোবানা কথন- ১’ নামে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নিউ ইর্য়ক ড্রামা সার্কেলের প্রেসিডেন্ট এবং ৩৩তম ফোবানার আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল বিশিষ্ট সাংবাদিক আবীর আলমগীর।

ঠিকানার পাঠকদের উদ্দেশে প্রকাশিত সেই স্ট্যাটাস-
নাসাউ কলিসিয়ামে ৩১ আগষ্ট, শনিবার মানুষ ঢুকেছে ৩ হাজার ৬ শত ৩৩জন, ১ সেপ্টেম্বর রবিবার মানুষ ঢুকেছে ৪ হাজার ৩শত ২৬ জন। দুই দিনে সর্বমোট ৭ হাজার ৯শত ৫৯ জন। যা ফোবানার ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যা। এটা আমার কথা না, ইলেকট্রনিক পরিসংখ্যান।

আমরা বার বার বলেছি আমরা ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাই, যা আমরা পেরেছি। বিরাট এ্যরিনায় আরও উপস্থিতি হলে আমরা খুশী হতাম বৈকি, কিন্তু নিউইয়র্ক এর পাবলিকরা ফ্রি অনুষ্ঠান দেখে এতটাই অভ্যস্ত যে ৩০ ডলার খরচ করে অনুষ্ঠান দেখতে আসার রুচিটাও যে তাদের লোপ পেয়েছে তা বোধ করি আপনারা সবাই জানেন।

আমাদের অফিসিয়াল হোটেলে ফেইক বুকিং দিয়ে আমাদের বিড়ম্বনায় ফেলাসহ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়েও অনেক প্রতিকুল অবস্থায় ফেলেছিলেন সমাজের কিছু দুষ্ট চক্রের মানুষ। অন্যপক্ষ কিংবা কে বা কারা এক্সপো সেন্টারের ভেন্ডরদের অযথা ক্ষেপিয়ে তুলে অনুষ্ঠান পন্ড করার পরিকল্পনাও করেছিলেন, যা আমাদের সামাল দিতে হয়েছে সিকিউরিটির সহযোগিতা নিয়ে।

দারুন টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সব বাঁধা পেরিয়ে, সমস্ত প্রস্তুতির সফল সম্মেলন শেষ করার পর সমাজের কিছু কিছু উন্মাদ শ্রেনীর আতেল আমাদের সাফল্যে তারা এতটাই শকট হলেন যে, কত কিছুই লিখতে শুরু করলেন সোশাল মিডিয়ায়।

এধরনের সাফল্যে আপনাদের এত ভয় কেনো বুঝলাম না। আপনারা ছোট্ট পরিসরে ছোট মানসিকতা নিয়েই থাকুন না, সবার পেটে কি আর ভাল রান্না সয়,আপনারা বদ হজমের দলে,ওখানেই থাকুন না,আমাদের নিয়ে এত মাথা ব্যথা কেনো ?

কিছু শিল্পী লিখেছেন যারা পারফর্ম করতে পারেননি বলে, কিছু হলুদ সাংবাদিক লিখেছেন তারা ফ্রি টিকেট পাননি বলে, কেউ লিখছেন অ্যাওয়ার্ড চেয়ে পাননি বলে, কিছু আতেল শ্রেনী লিখেছেন তাদের নাকি পাত্তা দেয়া হয়নি বলে।
আপনাদের উপর রাগ না, আপনাদের জেলাস হওয়া দেখে আপনাদের জন্য করুনাই হচ্ছে এখন। আর নিউইয়র্ক এর সাংবাদিক কূল যখন নিজেরাই ডজন ভাগে বিভক্ত, তখন তাদের মূখে ফোবানার বিভক্তি নিয়ে বুলি ফোটানো হাস্যকরই লাগে বৈকি।

এবারের কনভেনশনে সংগঠনের সংখ্যা বেশী হওয়ায় তারকা শিল্পীদের পারফর্মেন্স এর সময়টা সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছিলাম আমরা। সময় টা সংকুচিত করতে হতো না, যদি না সংগঠন গুলো তাদের নির্ধারিত ১০ মিনিটের মধ্যেই তাদের অনুষ্ঠান শেষ করার নিয়মের মধ্যে থাকতো।

এধরনের ভেন্যুতে প্রোডাকশন ক্রুরা প্রতিটি মিনিট সেকেন্ড কাউন্ট করে চলে, কিন্তু সংগঠন গুলো তাদের এ্যামেচার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি বলেই আমরা দুই দিনই সময় সংকটে পড়েছিলাম।এক পর্য্যায়ে বাধ্যও হয়েছিলাম প্রিয় কিছু সংগঠন কে মন্চ থেকে অনিচ্ছা সত্বেও নামিয়ে দিতে।

বাংলাদেশের শিল্পীরা বেশী সময় পারফর্ম করতে পারেনি এটা কোন কনভেনশনের সাফল্যের কিংবা ব্যর্থতার মাপকাঠি নয়।ফোবানা সম্মেলন কোনো কনসার্ট আয়োজনের নাম নয়, ফোবানার সাংগঠনিক সম্মেলনই হলো এর মুল উদ্দেশ্য। যেখানে সাংগঠনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি তারকা শিল্পীদের পরিবেশনাও যুক্ত থাকে।

আমরা বিপুল পরিমান তরুন প্রজন্মকে আমাদের স্রোতে যুক্ত করতে পেরেছি, Youth Conference এর দিকে চোখ দিন, CUNY এবং SUNY র ২২টি কলেজের বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহন করেছে এখানে।তরুন ফুয়াদ এর পারফর্মেন্স এর সময় হাজার খানেক তরুন প্রজন্ম কিভাবে এনজয় করেছে সেদিকে তাকান।প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জন এদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতির উপস্থাপনে নিজেকে উজার করে দিয়েছে, নিজেদের বিপুল উৎসাহে সম্পৃক্ত করেছে, সেদিকে নজর দিন।

বেশ কিছু প্রজেক্ট সাফল্যের সাথে করেছি যা ৩২ বছরের ফোবানার ইতিহাসে হয়নি, সেদিকে তাকান।
কাব্য জলসা, কবি সমাবেশ, ১৯ টি বিষয় ভিত্তিক সেমিনার, Women Empowerment বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনা, বুয়েট রিইউনিয়ন, ইউনিভার্সিটি এলামনাই রিইউনিয়ন, সকল ধর্মের লোকদের অংশগ্রহনে ইন্টারফেইথ সেশন, মুক্তিযাদ্ধা সমাবেশ, মিস ফোবানা, ফোবানা মিউজিক আইডল, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট সহ সব গুলো ইভেন্ট যে কি সার্থক ভাবে সম্পন্ন হয়েছে তা জানতে চোখ রাখুন সোশাল মিডিয়ায় সবার পোস্ট গুলোতে।

আপনাদের চোখতো শুধু মূল মঞ্চের দিকে, কে গান করতে পারলো আর কে গান করতে পারলো না, কিংবা আপনাদের বিনোদন হলো কিনা, সেই হিসেবেই ব্যস্ত আপনারা।মুল মন্চ ছাড়াও যে আরও অনেক বিষয় কনভেনশনের সাথে যুক্ত ছিলো, তা কি জানেন ? অবশ্য জানবেন কিভাবে, যারা আতলামি করে লিখছেন, তারাতো নাসাউ কলিসিয়াম এর ধারে কাছেও আসেননি।ড্রইংরুমে বসে মনের ক্ষেদ মেটাতে অন্ধকারেই ঢিল ছুড়ছেন।
যারা অযথা লিখছেন তাদের কাউকেই তো কখনই কোন কিছুই করতে দেখিনি, ক্লাব ঘর কিংবা স্কুল ঘরের ছোট্ট কুঠুরিতেও পাত্তা পেতে দেখিনি, তবে কোন যোগ্যতায় এত আতলামী।

আমরা স্বপ্ন দেখাটা একটা যায়গা থেকে শুরু করেছি আমাদের সাহস হয়ে না থাকতে পারেন, ফাইন।অযথা কেন বিরক্ত করছেন।

যাদের সম্মিলিত সহযোগিতা অংশগ্রহনে সার্থক ভাবে শেষ করতে পেরেছি আমাদের বিশাল এই সাপ্নিক সম্মেলন, তাদের সকলের কথা এবং ধারাবাহিক ভাবে সাফল্যে ব্যর্থতার সব খতিয়ান উপস্থাপন করবো শীঘ্রই, অপেক্ষায় থাকুন।