সাংবাদিক সৈয়দ জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মদিন

ঠিকানা রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মদিন ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর। ওয়াশিংটনের উপকন্ঠে মেরিল্যান্ড রাজ্যের নর্থ পটোম্যাক-এ পরিবার- পরিজন তাঁর সাতাশিতম জন্মদিন পালন করেছেন।

সাংবাদিক সৈয়দ জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার অদূরে ঘাটুরি কাজী বাড়িতে। তাঁর বাবা সৈয়দ আতিকুর রহমান ছিলেন এলাকার সম্ভ্রান্ত প্রভাবশালী নেতা। মা সৈয়দা নূরুন নাহার রহমান।

সৈয়দ জিয়াউর রহমানের সাংবাদিকতা শুরু ১৯৫০ এর দশকে কলেজে অধ্যয়নকালে। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকায় বিরোধী দলের একমাত্র সংবাদপত্র দৈনিক মিল্লাতের সহকারি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকায় বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্র- পত্রিকায় নানা দায়িত্বে নিয়োজিত হন। তিনি সাহিত্য পত্রিকা মাসিক ‘সওগাত’ ও মহিলা সাপ্তাহিক ‘বেগম’র সম্পাদনা করেন দীর্ঘ একুশ বছর। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের মুখপত্র সাপ্তাহিক সংগ্রাম’ এবং ষাটের দশকের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘নোতুন খবর’ এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন বেশ কিছুকাল।

সৈয়দ জিয়াউর রহমান তাঁর ষাট বছরের সাংবাদিকতার জীবনে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনে ভয়েস অব আমেরিকায় যোগ দেন ১৯৭৬ সালে এবং দীর্ঘ ৩৫ বছর এই সংস্থার সিনিয়র এডিটরের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি সাক্ষাতকার নেন কবি সুফিয়া কামাল, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য শ্রীমতি আশালতা সেন, শিল্পপতি সদরী ইস্পাহানি, কবি শামসুর রহমান, কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমদ, ঢাকার ইতিহাস গ্রন্থের লেখক সৈয়দ মোহাম্মদ তৈতুর, ঢাকা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি. এম সিদ্দিকী, বাংলাদেশের চার জন রাষ্ট্রপতি, তিন জন প্রধানমন্ত্রী, দু’জন সংসদ- স্পীকার, রাজনীতিক, সমাজসেবী, বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক প্রমুখ।
তাঁর নেয়া নোবেল জয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুস ও ড. অমর্ত্য সেনের সাক্ষাতকার ভিওএ’র বাংলা অনুষ্ঠানে প্রথম।

ওয়াশিংটনে সৈয়দ জিয়াউর রহমান সাক্ষাতকার নেন হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াকার বুশের। তার আগে তিনি সাক্ষাতকার নেন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের। এ ছাড়া তিনি সিনেটর কংগ্রেসম্যান ও অন্যান্য গণ্যমান্য বক্তিবর্গ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান প্রমুখের সাক্ষাতকার নেন।

সৈয়দ জিয়াউর রহমান প্রায় প্রতি বছর নিউইয়র্কে যান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের খবরা খবর পরিবেশনের জন্য। এ ছাড়া তিনি শিকাগো, হিউস্টন, লসএ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, বস্টন এবং আমেরিকার অন্যান্য বড় বড় শহরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের খবরা- খবর সংগ্রহের জন্য যোগ দেন। তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব বুত্রোস বুত্রোস ঘালির সাক্ষাতকার নেন।
সৈয়দ জিয়াউর রহমান তাঁর সাংবাদিকতার কৃতিত্বের জন্য ‘সুপিরিয়ার অনার এওয়ার্ড’, ’ক্যারিয়ার এচিভম্যান্ট এওয়ার্ড’ ও ভিওএ’র অন্যান্য অনারারী পুরস্কারে সম্মানিত হন।