সাজার পর বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা পর্বত সমান অন্য দিকে ভারতীয় একটি মহলে অপপ্রচার

মোবায়েদুর রহমান : সমাজের সর্ব শ্রেণীর মধ্যে একটি জেনারেল পারসেপশন ছিল এই যে, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে, বিশেষ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হলে, বাংলাদেশে ঘটবে ভয়াবহ গণবিস্ফোরণ। ঢাকার মানুষ গর্জন করে উঠবে, হুঙ্কার দেবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু বলতে গেলে তার কিছুই হলো না। গুলশানের ফিরোজা ভবন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর যখন বকশি বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তখন ছিল অতি সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু ২/১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরই বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল গাড়ি বহরের দুই পাশে, বিশেষ করে তার পতাকা শোভিত গাড়ির দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ঐ বহরের সাথেই এগুতে থাকে। আমি ৮ তারিখ সকাল ১০০০টা থেকেই টেলিভিশনের পর্দায় আঠার মতো লেগেছিলাম। রাত ১২০০টা পর্যন্ত টিভির সামনেই বিরতিহীনভাবে বসে ছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর সম্ভবত কাকরাইল মোড়ের দিকে আসার সময় হঠাৎ কোথা থেকে শত শত মানুষ গাড়ি বহরের পাশে এসে জমায়েত হয়। দেখতে দেখতে শত শত মানুষ হাজার হাজার মানুষে পরিণত হয়। কোথা থেকে কিভাবে শুরু হলো, সেটি বোঝা গেল না। কিন্তু দেখা গেলো, মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক পুলিশ মুহুর্মহু টিয়ার গ্যাস মারতে থাকে। অন্য দিকে বেগম জিয়ার মিছিল থেকেও পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ধোঁয়াশে ভাবটা কেটে গেলে দেখা যায় যে, আওয়ামী ঘরানার যুবক ছেলেপেলেরা লাঠি নিয়ে বিএনপি সমর্থকদের দাবড়াচ্ছে। পুলিশ বেশ কয়েকজন বিএনপি সমর্থককে কলার ধরে নিয়ে আসে এবং আওয়ামী ক্যাডাররা তাদের পেটায়। এটি একটি বিরল অভিজ্ঞতা। পুলিশ এবং আওয়ামী ক্যাডার এক সাথে মিলে বিএনপিকে ঠা-া করছে। কোনো কোনো পত্রিকায় লেখা হয়েছে যে ২/১ টি টিয়ার গ্যাসের গোলা নাকি বেগম জিয়ার গাড়িতেও হিট করেছে।
এই পরিস্থিতিতে পড়ে গাড়ির গতি মন্থর হয়ে যায়। পরিস্থিতি পুলিশের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে আবার গাড়ি বহর চলতে শুরু করে। যাই হোক, এভাবে মাইনর ইনসিডেন্টের মধ্যদিয়ে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে বেগম জিয়ার গাড়ি বহর বকশিবাজার আদালত চত্বরে আগমন করে। বকশিবাজার আদালত চত্বর থেকে চার ধারে যতখানি এলাকা পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছিল, সেই নিয়ন্ত্রণ রেখার বাইরে তখনও কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক জমায়েত ছিল। বেগম জিয়ার রায় ঘোষিত হলো। ৫ বছরের সশ্রম কারাদ ঘোষিত হলো। আশপাশে যারা তার সমর্থক এবং ভক্ত তারা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। খবর পাওয়া গেল, লক্ষ লক্ষ বাড়ি ঘরে যারা টেলিভিশনে এই ঘটনার বিবরণী দেখছিলেন তাদের অনেকেরই নয়ন কোণে বিন্দু বিন্দু অশ্র জল জমে ওঠে। আমি এবং আমার মতো অনেকেই ভাবছিলেন, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রেখার বাইরে অপেক্ষমাণ বিএনপির সমর্থকরা এই বুঝি প্রতিবাদে গর্জে উঠবে। ঘনিষ্ঠজনরা ফোন করে জানতে চাইলেন, মহানগরীর কোথাও কোনো স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে কি না। জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে কি না। কিন্তু কোথা থেকে এ ধরনের কোনো খবর পাওয়া গেল না এবং টেলিভিশনেও এই ধরণের কোনো খবর সম্প্রচারিত হলো না। বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশের পরিবেষ্টনে ধীরগতিতে বেগম জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের জেল খানায় নেওয়া হলো।
এবার দ্বিতীয় পর্বের প্রতীক্ষা। রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা ভাবলেন, তাহলে কি বিকেল বা সন্ধ্যায় বিএনপির বড় বড় নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন? আসলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো না। তার আগেই নেতারা বসলেন এবং কর্মসূচি দিলেন। কি কর্মসূচি? গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ। গত ৯ ও ১০ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই কেটে গেল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি নেতারা আবার তিন দিনের অর্থাৎ গত ১১, ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি দেন। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মানববন্ধন, অবস্থান এবং ঘেরাও। আমার এই লেখাটি প্রকাশিত হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। দেখা যাক, এর মধ্যে নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষিত হয় কি না। ঘোষিত হলে কি ধরনের কর্মসূচি? বিএনপি নেতাদের ভাষায় ‘নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক’, নাকি সরব কর্মসূচি? অধিকাংশ দৈনিক পত্রিকা বিএনপির এসব কর্মসূচিকে বলছেন ‘নরম কর্মসূচি’। তারা সম্ভবত ভেবেছিলেন, যেহেতু বেগম জিয়ার পাঁচ বছরের দ- হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই তাকে কারাগারে ঢোকানো হয়েছে তাই এখন গরম কর্মসূচি আসবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি আসেনি। কেন শুধু ‘নরম’ কর্মসূচিই আসছে, ‘গরম’ আসছে না? বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা করবো।
দুই. গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার কথা। বিএনপির আইনজীবীরা বলেছিলেন যে রায়ের সার্টিফায়েড কপি না পেলেও, নিদেন পক্ষে সত্যায়িত কপি তারা যদি ১১ ফেব্রুয়ারি বা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পান তাহলে ১২ বা ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তারা হাইকোর্টে আপিল করবেন। আপিল গৃহীত হলে (গৃহীত না হওয়ার কোনো কারণ নাই) তারা বেগম জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন করবেন। বিএনপির তরফ থেকে মির্জা ফখরুল, রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া রায় ঘোষণার পর জেলে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তেও সিনিয়র নেতাদের বলেছেন যে, আন্দোলন করতে গিয়ে তারা যেন শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করে। লা মেরিডিয়ানে নির্বাহী কমিটি এবং উপদেষ্টাদের যে সভা হয় সেখানেও তিনি একই কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ার করে দেন যে সরকার তাদের জন্য একের পর এক ফাঁদ পাতবে। তারা যেন সরকারের পাতা ফাঁদে পা না দেয়। তিনি বারবার ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার সাথে কারাগারের অভ্যন্তরে দেখা করেছেন তার আইনজীবী এবং আত্মীয়স্বজনরা। ঐসব সূত্রেও জানা গেছে, তাদের কাছেও বেগম জিয়া বলেছেন, কর্মীরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যান। তারা যেন কোনো অবস্থাতেই সরকারের ফাঁদে পা না দেয়।
কেন বেগম জিয়া আন্দোলন করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের বারবার সংযম রক্ষা করতে বলছেন? কেন সিনিয়র নেতারা তার নির্দেশ মোতাবেক নরম কর্মসূচি দিচ্ছেন? এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একথা ঠিক যে, এ সম্পর্কে একেবারে সঠিক খবর জানেন বেগম জিয়া এবং তার বিশ্বস্ত তিন-চারজন সিনিয়র নেতা। আমরা পত্রপত্রিকা পড়ে এবং রেডিও-টেলিভিশন শুনে কিছু ধারণা করি এবং সেই মোতাবেক বিশ্লেষণ করে সেটি আপনাদের সামনে হাজির করি। আমার ধারণা, মামলার চড়ান্ত রায় বা ফয়সলা নয়, এখন বিএনপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, বেগম জিয়ার বাইরে থাকা। অর্থাৎ কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা। যেহেতু তিনি দপ্রাপ্ত (সেই দ- যতই বিতর্কিত হোক না কেন) তাই তাকে সর্বাগ্রে জামিনে বেরিয়ে আসতে হবে। জামিন পেতে হলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে।তিনএই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আবেগ বা উত্তেজনা দিয়ে চললে হবে না। প্রশাসন এবং বিচার বিভাগ দলীয়করণের কবলে পড়েছে। সরকার বেগম জিয়াকে নির্বাচন থেকে আউট করার জন্য ব্যাস্ত। ছিদ্র খোঁজায় ব্যস্ত। এত কিছুর পরেও কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাই প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের সাথে বৈরী সম্পর্কে না যাওয়াই হবে এখন বুদ্ধিমানের কাজ। এখন সর্বাগ্রে দরকার জামিন। এ জন্য দরকার আপিলকে গ্রহণ করানো। আমি বলবো, ৩২ বছর রাজনীতি করে এবং আওয়ামী লীগের বিগত ৯ বছরের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ দেখে বেগম জিয়া আরো কৌশলী হয়েছেন। সেজন্যই তিনি সকলকে শান্ত থাকতে, ধৈর্য ধরতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অথচ অন্য দিকে দেখা যাচ্ছে যে, বেগম জিয়া তথা বিএনপিকে ফাঁদে ফেলার জন্য নিরন্তর চেষ্টা হচ্ছে। এই চেষ্টার একটি অংশ হলো, বিএনপি তথা বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং বেগম জিয়ার ইমেজ নষ্ট করা। এই অপচেষ্টায় গ্যাস দিচ্ছে একটি ভারতীয় মহল।
পশ্চিমবঙ্গের একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার নাম ‘যুগশঙ্খ’। এই পত্রিকাটি নিরপেক্ষতার ভান করে। মাঝে মধ্যে তারা এমন ভান করে যে, তারা বোঝাতে চায়, ভারত আওয়ামী লীগের পক্ষে নাই। সেটি করতে গিয়ে তারা বিএনপিকে প্রলোভন দেয়। গত ১১ ফেব্রয়ারি পত্রিকাটি ফলাও করে একটি খবর ছেপেছে। খবরটির শিরোনাম, ‘ভারতের প্রেসক্রিপশনে এগোচ্ছে বিএনপি’। খবরে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রেসক্রিপশনে চলছে বাংলাদেশের বিএনপি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটির পাঁচটি এডিশনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদ- হওয়ার পর তার দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি- বিএনপি এখন কৌশলী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। খালেদা জিয়ার রায় হওয়ার পর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল দেশটিতে বড় ধরনের হিংসা ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। এর কারণ কী? উত্তরে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার জবাব, জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া নেতাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন আন্দোলনের নামে যেন হিংসা না ছড়ানো হয়। তার নির্দেশ অনুযায়ী আন্দোলন ও কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি।
যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির এই নতুন কৌশলী কর্মসূচি দেয়ার পেছনে নাকি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলটির একটি শীর্ষ স্তরের পরামর্শ অনুয়াযী বিএনপি এমন শান্ত কর্মসূচি দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের বিজেপি ও বাংলাদেশের বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্তরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি প্রধানের সাজা হওয়ার পর জেলে যাওয়ায় বিজেপির শীর্ষস্তরের সঙ্গে যোগাযোগরত বিএনপির নেতাদের আন্দোলনের নামে হিংসা না ছড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়, সূত্রের বরাতে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষমতাসীন দলটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করছে বিএনপি। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিএনপি সম্পর্ক গড়ার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিএনপির তরফ থেকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে, ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যসহ সব বিষয়ে বড় ধরনের ছাড় দেবে তারা। পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার ও তাদের নিরাপত্তায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। এ কারণে সম্প্রতি বিএনপির প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে বিজেপি। যার ফলে বিএনপিকে নানা পরামর্শ দিচ্ছে বলে ওই সূত্রের খবর।
সবশেষে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত দুই দিনের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে বা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়ায়নি বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর কারণ কী তাহলে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি না অন্য কিছু?
চার. বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়ার ফলে লাভবান হলো কে? আওয়ামী লীগ? নাকি বিএনপি? এই প্রশ্ন আজ শুধু দেশে নয়, বিদেশিদের মাঝেও প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছে। এটি ঠিক যে, এই প্রশ্নের জবাব দেবে সময়। কিন্তু এই মুহূর্তেই সারা দেশে বেগম জিয়ার পক্ষে সহানুভতির যে ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে সেটিকে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে ঝুসঢ়ধঃযু ধিাব বা সহানুভতির ঢেউ। যেসব বুদ্ধিজীবী কোনো দিন বিএনপির পক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি তারাও আজ বলছেন, ৮ ফেব্রয়ারির আগের খালেদা জিয়ার চেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারির পরের খালেদা জিয়া অনেক শক্তিশালী। আওয়ামী লীগ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। তাদের অবিসংবাদিত নেতাও জেল-জুলুমের মাধ্যমেই বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে উত্থিত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকেও এই সরকার সেই একই পথেই ইতোমধ্যেই ঠেলে দিয়েছে।
বেগম জিয়ার এই বিপুল উত্থান ঠেকানোর জন্য তাকে প্রো-ইন্ডিয়ান বলে চিত্রিত করার যতই অপচেষ্টা করা হোক না কেন, সেটি হালে পানি পাবে না।