সার্টিফিকেটধারীরা ছাড়া কেউ সেবা দিতে পারবেন না

সিডিপ্যাপের আওতায় হোম কেয়ার এজেন্সির আয় কমছে

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী: সিডিপ্যাপের আওতায় হোম কেয়ার এজেন্সিগুলো আগের মতো আয় করতে পারবে না। নতুন নিয়েমে তাদের আয় কমছে। ফলে তারা সিডিপ্যাপ প্রোগ্রামের পরিবর্তে পিসিএ প্রোগ্রামের আওতায় কাজ করতে চাইছে। এতে সার্টিফিকেটধারীরা ছাড়া কেউ বয়স্ক ও অক্ষম ব্যক্তিদের সেবা দিতে পারবেন না। সিডিপ্যাপের আওতায় যারা সুবিধা দিচ্ছেন ও পাচ্ছেন তাদের জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলো বর্তমানে নিয়ম চালু হয়েছে একজন বয়স্ক ব্যক্তি তার পরিবারের সক্ষম যে কোন ব্যক্তিকে তার সেবার জন্য নিয়োজিত করতে পারেন। এই জন্য সিডিপ্যাপের আওতায় তারা ঘন্টা হিসাবে পারিশ্রমিক পান। সেই হিসাবে হোম কেয়ার এজেন্সিগুলোও এক একজন পেসেন্টের জন্য ঘন্টা প্রতি অনারিয়াম পেয়ে থাকে। এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেবাদানকারীরা ঘন্টা হিসাবে অর্থ পেলেও এজেন্সীগুলো ঘন্টা হিসাবে পাবে না। তারা অর্থ পাবে প্রতি মাস হিসাবে। একজন পেসেন্টের জন্য তারা নূন্যতম ৬৪ ডলার করে মাসে পাবে। আর এতে করে তাদের আয় কমে যাবে। সেই সঙ্গে এখন ঘন্টা হিসাবে এক একজন মানুষের জন্য যে সেবা দেওয়া হচ্ছে সেটা থাকবে না। যদিও বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জনগোষ্ঠী সিডিপ্যাপের আওতায় সেবা নিচ্ছেন। আর এই সেবা দিতে গিয়ে কার জন্য কত ঘন্টা সেবা দেওয়া হচ্ছে কে দিচ্ছে এতে করে প্রতি সপ্তাহে হিসাব রাখার জন্য একদিকে যেমন অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হচ্ছে অন্যদিকে এই সব হিসাব রাখাও সমস্যা। ফলে এই প্রক্রিয়াটি ইজি করার জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেবা গ্রহণকারীদেরকে কে কত ঘন্টা কত সপ্তাহে দিচ্ছেন এই হিসাব থাকলেও একটি এজেন্সি কত ঘন্টা সেবা দিচ্ছেন সেই হিসাব থাকবে না। আর এই হিসাব না থাকার কারণে এখন একেকজন সেবা প্রদানকারীর ব্যক্তির এজেন্সি যেমন ঘন্টায় অর্থ পাচ্ছেন সেটাও পাবেন না। আগামীতে এটা হিসাব হবে মাস অনুযায়ী। এক মাসের সেবা দেওয়া জন্য সেবা প্রদানকারীর এজেন্সিকে অর্থ প্রদান করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা কেউ কেউ মনে করছেন নতুন নিয়ম চালু করার ফলে এজেন্সীকে ঘন্টা প্রতি অনারিয়াম না দেওয়ার কারণে সেবা প্রদানকারীদেরও আয় কমে আসবে। এখন যে পরিমাণ ঘন্টা সেবা গ্রহীতারা নিচ্ছেন তাদের ঘন্টাও কিছুটা কমতে পারে। কারণ ওই সেবাটি সংকুচিত হয়ে আসছে। মূলত এই খাতে বাজেট কমানোর কথা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এর আগেও এই খাতে বাজেট কমানোর বিষয়ে একাধিকবার নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কথা হয়েছে। তখন তারা নীতি নির্ধারকদের বলেছেন, যাতে এই খাতে বাজেট কমানো না হয়।
অফিস অব হেলথ ইন্সুরেন্স প্রোগ্রামস ডিভিশন অব লংটার্ম কেয়ারের ম্যানেজ কেয়ার পলিসি ঘোষণা করে ১ জুলাই। তা করার পর হোম কেয়ার এজেন্সিগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বড় এজেন্সিগুলো সেবাপ্রদানের জন্য যে পরিমাণ খরচ ওই খরচের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। ফলে বিকল্প বের করতে হবে। এই ব্যাপারে ট্রু কেয়ারের মাকসুদুল চৌধুরী বলেন, নতুন নিয়ম ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। সেটা কার্যকর হলে আমাদের মতো বড় এজেন্সিগুলো এই প্রোগ্রাম ধারাবাহিকভাবে করতে পারবে না। তখন আমরা হয়তো এই প্রোগ্রামটি স্থগিত করে রাখবো। ফলে আমরা সিডিপ্যাপ থেকে প্রাইভেট কেয়ার এ্যাসিস্টেন্ট-পিসিএ প্রোগ্রামের আওতায় সেবা দেব। সেটা হলো এই প্রোগ্রামের সেবা নিতে হলে সেবাপ্রদানকারী সকলকেই এইচএইচএ সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই জন্য যারা ইংরেজী পারেন তাদের দুই সপ্তাহ থিউরী আর এক সপ্তাহ প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করতে হবে। এরপর পরীক্ষা দিয়ে পাস করে সার্টিফিকেট নিতে হবে। যারা সার্টিফিকেট নিতে পারবেন কেবল তারাই বয়স্ক ও অক্ষম ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত হবেন। ইতোমধ্যে ট্রু কেয়ার তিনটি স্কুলের সঙ্গে গত মাস থেকে এইচএইচএ এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। একটি ব্যাচ শুরু হচ্ছে ১২ আগস্ট আর ২০ আগস্ট। দুটি ব্যাজ ফুল। এই কোর্সের জন্য কোন ফি দিতে হবে না। যারা ইংরেজী পারেন না তাদের জন্য প্রথমে দুই সপ্তাহের একটি ইএসএল কোর্স করানো হবে। তারপর তারা এইচএইচএ কোর্স করবেন। ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভিস হওয়ার কারণে অনেককেই আগামী মাসের আগে আর কোন প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করা যাবে না। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই প্রোগ্রাম আর কাজ না করলে সিডিপাপের প্রোগ্রামে যারা কাজ করছেন তারা কাজ করতে পারবেন না। আমরা এখন চেষ্টা করবো আমাদের সিডিপ্যাপের সমস্ত সেবাগ্রহীতাদের পিসিএ প্রোগ্রামের আওতায় ট্রান্সফার করতে। হেলথ বিভাগ পিসিএকে সম্প্রসারিত করতে চাইছে। সিডিপ্যাপের আওতায় কিছু সমস্যা রয়েছে। বেশ কয়েকটি ফ্রডের অভিযোগও পেয়েছে। এছাড়াও নানা অনিয়মও হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে। এই কারণে আস্তে অস্তে সবাইকে পিসিএ এর অধিনে আনতে চাইছে। সেটা করতে পারলে তাদের সুবিধা হবে ও বাজেটও কমবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে আমাদেরকে এমনটাই জানানো হয়েছে। সেই হিসাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি ও কাজ করছি।
এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সিডিপ্যাপে ঘন্টা অনুযায়ী এখন পেমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে এজেন্সির ও সেবা প্রদারকারী ব্যক্তির জন্য। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এজেন্সীর আয় অনেক কমে যাবে। ফলে এই সেবা দেওয়ার জন্য এজেন্সিগুলো অফিস মেইনটেনইন করা, স্টাফ খরচসহ বিভিন্ন খরচের জন্য যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা উঠানো সম্ভব হবে না। সেটা না হলে এজেন্সিগুলো সিডিপ্যাপের আওতায় রোগীর জন্য সেবা প্রদানকারীর ব্যবস্থা করবে না। তখন অন্য প্রোগ্রামকে বেশি করে প্রচার করবে। সেটা হলো এইচএইচএ ও সিএনএ নামে প্রোগ্রাম রয়েছে। ওই প্রোগ্রামের আওতায় কোন অদক্ষ কিংবা সেবা প্রদানকারীর প্রশিক্ষণ নেই তারা কাউকে সেবা দিতে পারবেন না। কেবল যাদের সার্টিফিকেট রয়েছে সেই সার্টিফিকেটধারীরা সেবা দিবেন। আর যারা এখন সেবা দিচ্ছেন তারা যদি ওই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন ও সার্টিফিকেট পান তাহলেই তারা সেবা দিতে পারবেন। এই জন্য এক একজনকে একমাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য সময় লাগবে একমাস। আর অর্থ ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ ডলার। তখন তারাই কেবল সেবা দিতে পারবেন।
এই ব্যাপারে ইমিগ্রান্ট এল্ডার হোম কেয়ার এলএলসি এর চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ বলেন, রাজধানীতে নতুন নিয়ম ঘোষণা করার পর এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে সেভ দ্য সিডিপ্যাপ এর তরফ থেকে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পর এখনও কোর্টের আদেশ তারা পাননি। কোর্টের আদেশের পর তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নাম্বার অব ডাইরেক্ট কেয়ার আওয়ার্স অথরাইজ পার মানথ পার কাস্টমার ৭০০ ঘন্টার বেশি, কিংবা ৪৮০-৬৯৯ ঘন্টা কেউ মাসে সেবা পেয়ে থাকলে এই জন্য এজেন্সি পাবে ৫২২ ডলার। ৩২০-৪৭৯ ঘন্টা, ২৪০-৩১৯, ৬০-২৩৯ ঘন্টা পর্যন্ত সেবা দেন সেই জন্য এজেন্সি পাবে প্রতি পেসেন্টের জন্য ১৬৪ ডলার, ৮০-১৫৯ ঘন্টা কিংবা ১-৭৯ ঘন্টা পর্যন্ত সেবা দেন তাহলে প্রতি রোগীর জন্য পাবেন ৬৪ ডলার।
গিয়াস আহমেদ বলেন, নতুন নিয়মে যত ঘন্টার কথা বলা হয়েছে সর্বোচ্চ ঘন্টা ওইভাবে রোগীরা পান বলে আমার জানা নেই। তবে বেশিরভাগই এখন পাচ্ছেন মাসে ৮০-১৫৯ ঘন্টার সেবা। সেই হিসাবে আমরা এজেন্সিরা এখন রোগীর জন্য যে পরিমাণ অর্থ পাচ্ছি, সেটা পাবো না। কেবল মিলবে ৬৪ ডলার। এক’শ জন রোগীসেবা দেওয়ার জন্য ৬৪০ ডলার। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, কেউ যদি সপ্তাহে ৩০ ঘন্টা সেবা পান, তার জন্য মাসে হয়তো পাওয়া যাবে ৬৪ ডলার।
বর্তমানে প্রায় ৫’শ হোম কেয়ার এজেন্সি আছে বলে জানান তিনি। বলেন, বেশিরভাগই জুইশদের মালিকানায়। বাঙ্গালীরাও আছে। দুই বছর আগে হোমকেয়ারের লাইন্সেন্স প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নতুন করে কোন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। এই কারণে কেউ কেউ বিভিন্ন এজেন্সির এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন। আর কেউ কেউ অন্য এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। মূলত পরিবারের বয়স্ক লোকদের সেবা দেওয়ার জন্য ও সুরক্ষার জন্য এবং তার ঘরের মানুষেরাই যাতে সেবা দিতে পারে, রোগী তার সেবাদানকারী পছন্দ করতে পারেন সেই জন্য সিডিপ্যাপ প্রোগ্রামটি চালু হয়। তিনি বলেন, আমরাও সিডিপ্যাপের পরিবর্তে পিসিএ প্রোগ্রামের অধিনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।
নতুন নিয়মের ব্যাপারে জানা গেছে, নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীতে ডাইরেক্টেড সহায়তা প্রোগ্রামে কিছু আনার জন্য পরিকল্পিত পরির্তন উপস্থাপন করা হয়। আর এর প্রেক্ষিতে নতুন নিয়ম ১ সেপ্টম্বর হতে যাচ্ছে।
যতটুকু জানা গেছে, সিডিপ্যাপের এর অওতায় ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা সুবিধা পাচ্ছেন। এতে করে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। এই প্রোগ্রামের আওতায় পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিকে সেবা দিতে কোন সার্টিফিকেট লাগে না। তার ছেলে কিংবা মেয়ে, ছেলের স্ত্রী কিংবা মেয়ের জামাতা অথবা নাতী নাতনীদের কেউ অথবা পরিবারের সক্ষম যে কোন ব্যক্তি অথবা পরিবারে কেউ তেমন না থাকলে নিকট ঘনিষ্ঠ যে কাউকে একজন বয়স্ক ব্যক্তি তার সহায়তার জন্য নিয়োগ করতে পারেন। তারা তার খাওয়া দাওয়া, ওষুধ খাওয়ানো, গোসল করানো, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য সহায়তা করে থাকেন। এই কাজের জন্য যে ঘন্টা তারা ব্যয় করেন সেই হিসাবে তাদেরকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। তবে এক একজনের জন্য কত ঘন্টা এই সুবিধা দেওয়া হবে সেটা নির্ভর করে নার্সের উপর। হেলথ ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। একজন বয়স্কা কিংবা অক্ষম ব্যক্তির জন্য এই ধরনের সহায়তা নিতে চাইলে যদি তাদের মেডিকেইড থাকে তাহলে স্থানীয় যে কোন হোমকেয়ারের মাধ্যমে তার জন্য সহায়তা চাওয়ার আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সামগ্রিক সব কিছু বিবেচনা করে তাকে দেখতে ও তার সক্ষমতা ও অক্ষমতা যেটি তিনি উল্লেখ করেছেন ও আবেদন তথ্য দিয়েছেন তা যাচাই বাছাই এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য একজন নার্স বাসায় আসবেন। তিনি কিছু প্রশ্ন করবেন সেই সব প্রশ্নের উত্তর প্রদান ও শরীরের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করার পর ওই নার্স সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। সেই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেবা নিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে কত ঘন্টা সেবা দেওয়া যেতে পারে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এবং তার মনোনীত ব্যক্তিকে সেবা প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়। সেই হিসাবে সেবা দিয়ে থাকেন। কত ঘন্টা তিনি সেবা দিচ্ছেন তা সংরক্ষিত হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগে সেখান থেকে তার পারিশ্রমিক আসে। কিন্তু এখন এই সব বিষয় নতুন নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন হবে। হোম কেয়ার এজেন্সিগুলো আয় কমে যাওয়ার অবস্থাটি বিবেচনা করেই পিসিএ প্রোগ্রামে তাদেরকে ট্রান্সফার করতে চাইছে। এতে করে যাদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট নেই সেবা দেওয়ার, তারা সবাই খন্ডকালীন সময়ের জন্য কিংবা সার্টিফিকেট না পাওয়া পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন না। রোগীকে তার পরিবারের সদস্য যিনি সেবা দিচ্ছেন তিনি সার্টিফিকেট নিতে না পারা পর্যন্ত অন্য একজন সাটির্ফিকিটধারী কে নিয়োগ করতে হবে।
গিয়াস আহমেদ বলেন, যদিও কেউ কেউ মনে করছেন এখনও ঘন্টা প্রতি সেবার পদ্ধতি চালু থাকার কারণে এক একজন সপ্তাহের জন্য কত ক্ষণ সেবা পাবেন সেটা উল্লেখ করে দেওয়া হতো। এখন মাসিক হওয়ার কারণে আগের হিসাব সপ্তাহের ঘন্টা ঠিক রেখে ওই সব ঘন্টা মিলিয়ে মাসিক হিসাব করা হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ থেকে যে নিয়ম করা হচ্ছে সেখানে কাজের বিষয়টি এমনভাবে গণনা করা হতে পারে তাহলো প্রতিঘন্টার ভিত্তিতে যে প্রতি সদস্য রয়েছে সেটা হতে পারে প্রতিমাসের ভিত্তিতে প্রতি সদস্য এমনটাই। ফলে একজন সদস্যর জন্য মাসিক হিসাবে একজন কাজ করবেন সেই হিসাবে তার জন্য বেতন প্রদান করা হবে। আসলে এটা ঠিক না। কারণ সেবাদানকারীর পেমেন্ট ঘন্টা হিসাবে হবে। হোম কেয়ারের পেমেন্ট হবে মাসিক হিসাবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাবা মাকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু বাসা ভাড়ার খরচ, সাবওয়ের খরচ মেটানোর পর তাদের আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। যে সব পরিবারে ছোট বাচ্চা রয়েছে তাদের অনেকেই ন্যানী রেখে কাজ করতেন কিন্তু বেশিরভাগেরই ন্যানী রেখে কাজ করার সক্ষমতা ছিল না। ফলে বেশিরভাগ পরিবারের স্বামীই চাকরি করতেন। স্ত্রী ঘরে বাচ্চাদের দেখাশোনা ও তাদের যত্ন করতেন। এতে করে একজনের আয়ে সংসার চালাতে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। ফলে ওই সব সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। প্রায়শ: আর্থিক অভাব অনটনের কারণে সংসারে খুনসুঁটিও লেগে থাকতো। এর উপর যে সব সংসারে বয়স্ক বাবা মা ছিলেন কিংবা শশ্বর শাাশুড়ি থাকতেন তাদের মধ্যেও তাদেরকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হতো। তাদের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ না থাকার কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরা ওই পরিবারের বোঝা হয়ে উঠতেন। আর তারা না পারতেন কষ্ট ও নিগ্রহ সহ্য করতে, না পারতেন ওই পরিবারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে। এতে করে দেখা যেত অনেক বয়স্ক ব্যক্তি এই অবস্থা থেকে স্বেচ্ছায় আবার দেশে ফেরত যেতেন। কেউ কেউ আলাদা বাসা নিয়ে চলে যেতেন। যাদের এই দুটির কোন বিকল্প ছিল না তারা ওই পরিবারেই রয়ে যেতেন অবহেলা-অবজ্ঞা সয়ে যেতেন।
কিন্তু সিডিপ্যাপের আওতায় যখন থেকে বয়স্ক ও অক্ষম ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা সেবার সুযোগ পেলেন ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সেবা করে ঘন্টা প্রতি ১৭-১৯ ডলার কোন কোন ক্ষেত্রে এরও বেশি অর্থ আয় করার সুযোগ পেলেন এতে করে সপ্তাহ শেষে তারা ভাল একটি অ্যামাউন্ট পেতে থাকেন। এতে করে দুটি সুবিধা হলো, প্রথমত ওই বয়স্ক ব্যক্তির পেছনে তাদেরকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না। অন্যদিকে যেসব নারীরা ঘর বসে থাকতেন তারাও বয়স্ক ও অক্ষম ব্যক্তির সেবা করে মাসে ১৫০০- ২০০০ পর্যন্ত আয় করছেন। এতে করে বয়স্ক ব্যক্তির পেছনে পুরো অর্থ খরচ হচ্ছে না। বরং কিছু অর্থ সেভ হচ্ছে। এই অবস্থায় যেসব পরিবারে বয়স্ক ও অক্ষম ব্যক্তিরা রয়েছেন তাদের কদর বেড়ে গেল। তারাও সংসারের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য হয়ে উঠলেন। যদিও মাঝে মাঝেই বিভিন্ন দিক থেকে খবর আসে এখনও কিছু কিছু পরিবারে বয়স্ক ব্যক্তিরা অবেহেলিত। তাদের জন্য যে পরিমাণ এক একটি পরিবারের সদস্য আয় করেন এর পুরোটাই তার পেছেনে ব্যয় হয় না। কিংবা তাকে খরচ করার জন্য মাসে মাসে কিছু অর্থ হাতে দেওয়া হয় না। যদিও বয়স্ক বক্তিরা এখন আর হীনমন্যতায় ভোগেন না। কারণ তার জন্য সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে। তাকে তার পরিবারের একজন সদস্য যত্ন করার জন্য অর্থ পাচ্ছেন, এতে তারাও সন্তুষ্ট। কিন্তু এখন যেটা সপ্তাহ হিসাবে আয় হয় সেবাপ্রদানকারীরা ঘন্টায় অর্থ পেলেও এজেন্সী তা না পাওয়ার কারণে এই প্রোগ্রাম থেকে পিসিএ প্রোগ্রামে যাওয়ার কারণে সেটা মাস হিসাবে রাখলে তাদের আয় কিছুটা কমে যেতে পারে। আয় কমে গেলে ওইসব বয়স্ক ব্যক্তির আবারও কষ্টে পড়তে হয় কিনা সেটাও দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
কেউ কেউ বলেছেন, তারা অর্থের জন্য তার পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তির সেবা করেন তা নয়, সেবা করে থাকেন দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে। সুতারাং প্রতি সপ্তাহের জায়গা প্রতি মাস করা হলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না। সেটা তারা মানিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হোম কেয়ার এজেন্সীগুলো সিডিপ্যাপের প্রোগ্রাম চালু না রেখে পিসিএ প্রোগ্রাম চালু করে তাহলে অনেকেই চাকরি হারাবে। কারণ সার্টিফিকটেধারীরা ছাড়া কেউ চাকরি করতে পারবেন না।