সাহেদ-সাবরিনা, পাপুল-পাপিয়ায় কেন এত মধু?

মোস্তফা কামাল: টিস্যুর মতো উড়ে আসা ইস্যুতে এখন সাহেদ-সাবরিনা। পাপলু-পাপিয়া, শামীম-সম্রাট-খালেদরা আড়াল হয়ে গেছে। করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি করার কারণেই সাহেদ, পাপিয়া, আরিফ আর মানবপাচার করার কারণেই পাপুলরা ফেঁসে গেছেন এমনটি বিশ্বাস করতেই হবে? গোলমাল বা ভেজালটা আসলে কোন জায়গায়? মাঝেমধ্যে কেন এদের আছাড় দেয়া হয়? আদর, কদর, সমাদর কি কমে?
ইয়াবাসহ মাদকের বাদশা বদিকে এক ঝলক সাইজ করে তার বউকে এমপি করা হয়েছে। পাপিয়া যায় সাবরিনা আসে। শামীম যায়, সাহেদ আসে। আরিফ আসে। আসতেই থাকে। তাদের ফ্যাক্টরি বা উৎপাদনস্থল কোথায়? কে, কারা তাদের জন্মদাতা? তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো তাগিদ কি আছে? তাদের যারা সাহেদ, শামীম, সম্রাট, সাবরিনা, পাপুল, পাপিয়া করে গড়ে তোলে তারা কি অচেনা?
ইস্যুর গরমে মনে করা হয় সাহেদ একজনই। সাবরিনাও তাই। আর কোনো সম্রাট-শামীমও নেই। আসলে কি তাই? ঘটনাচক্রে আজকের এই সাহেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ এর অতিরিক্ত সচিব নায়েব আলী প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপিকে। ওই চিঠিতে মোহাম্মদ সাহেদকে পেশাদার টাউট ও প্রতারক আখ্যায়িত করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, এই প্রতারক বিভিন্ন সময়ে নিজেকে কখনো মেজর, কখনো লে. কর্নেল আবার কখনো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের সাবেক ছাত্র এবং ১৪ তম বিএমএ লং কোর্সের ছাত্র পরিচয় দিয়ে নানা জনের সাথে প্রতারণা করে আসছে। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন নেয়া হয়নি?
ঘটনাচক্রে অপরাধ ধরা পড়ার পর কেউ আর তাদের দায়ও নিতে চায় না। এমন কি বিত্ত-বৈভব, উপঢৌকন দেয়া স্ত্রীও গুণধর স্বামীর গোষ্ঠি উদ্ধার করেন। বিচারও চান। আশ্রয়দাতা ক্ষমতাসীনরা, সেল্ফি তোলা নেতারা সাইড কাটেন। ভাইরাসটাকে আর কেউ চিনতেই চান না। চিনে না তার দলও। চিনলেও বলে দেন, এটা বিএনপির প্রোডাক্ট। সে আগে বিএনপি করতো। এক সময়ের যে মিসকিন-খয়রাতিরা গত বছর কয়েকে নামকরা জালিয়াত, টেন্ডারবাজ, মাদক সম্রাট, মক্ষিরানী হয়েছে এদের বেশির ভাগকেই এক সময়ের বিএনপি নামে চেনানোর চেষ্টা চলে আসছে। এ বিষয়ক স্ক্রিপ্ট প্রায় একই। বিএনপি হওয়ার পরও এগুলোকে লালন করেন কেন?
শেয়ারবাজার, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, ধর্ষণ, ক্যাসিনোর সঙ্গে মহামারিবাণিজ্য বাংলাদেশকে কলঙ্কতিলক এঁটে দিল। পাপের কলস পূর্ণ করে এরা ধরা পড়লেই বা কী? এর আগে শামীম, পাপিয়া, সম্রাট, খালেদসহ কতোজনই তো ধরা পড়েছে। কী হয়েছে তাতে? এই পালের তো হাত মেলে, সেল্ফি ওঠে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাহিনী প্রধানের সঙ্গেও। সম্পর্ক মধুর না হলে এতো মিষ্টি হাসি বের হয়?
রিজেন্টের সাহেদ, জেকেজির সাবরিনা, টেন্ডার বাদশা জিকে শামীম, সম্রাট বা পাপিয়াদের সাথে টুথপেস্ট হাসিতে ছবি তুলতে এতো উতলা কেন? কী দুধ-মধু, ঘি-মাখন সেখানে? এদের কে আবার ধরাই বা হয় কেন? যারা গড়েন তারাই ধরেন। চমৎকার সার্কাস। যতো আকাম, পাপ করার পরও না ধরার মাধ্যমে কি কিছু বার্তা মেলে না? আরো কিছু কাজ বাকি ছিল? আরো কিছু সময় চোখ বুজে থাকার ইচ্ছে ছিল? এসব করতে শরম লাগে না একটুও?
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন, ঢাকা।