সিঁদুর খেলা ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

ঠিকানা রিপোর্ট : মহা ধুমধাম এবং যথাযথ ধর্মীয় পরিবেশে একদিকে পূজা অর্চনা মন্ত্রপাঠ, ধূপধূনোর আরতি দান এবং শেষদিনে সিঁদুর খেলা ও বিজয়ী দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। ১৪ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সবাই এই উৎসবে মেতে ছিল। এবার নিউ ইয়র্ক সহ উত্তর আমেরিকার অনেক শহরেই বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার দুর্গাপূজা উদযাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মণ্ডপে ছিল পুন্যার্থীদের বিপুল সমাবেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনায় অন্য ধর্মের উদার ও প্রগতিশীল মানুষও প্রচুর সংখ্যায় যোগ দেন। এসব ম-পে একদিকে যেমন পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তেমনি আরেকদিকে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নিউ ইয়র্কে পূজাম-পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ হিন্দু মন্দিরের শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে অন্যান্য বারের মতো এবারো প্রাচী নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়।

উডসাইডের দিব্যধাম পূজাম-পে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করে সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ ইউএসএ, ইনক। ‘জ্ঞান’ নামের একটি ম্যাগাজিনও প্রকাশ করে। সভাপতি প্রবীর কুমার রায় এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষ চন্দ্র ম-ল সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ব্যস্ত থাকেন। এখনকার প্রসাদ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল প্রসংশনীয়।
সারদীয় দুর্গোৎসবের বর্র্ণাঢ্য আয়োজন ছিল কুইন্স প্যালেসে বাংলাদেশ পূজা সমিতির। আগমনী সুভ্যেনির প্রকাশনী, পূজা আচার, প্রসাদ আর নাচ গানে অত্যন্ত জমজমাটভাবে ষষ্ঠি থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত মানুষ আনন্দ উপভোগ করে। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ভিড় দেখা গেছে এই মণ্ডপে।

বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটি দুদিনব্যাপী সারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর জ্যামাইকার হিল সাইডে তাজমহল পার্টি হলে। আয়োজন ছিল অত্যন্ত বর্র্ণাঢ্য। পূজা অর্চনার পাশাপাশি ছিল দেশ-প্রবাসের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনা বিচিত্রানুষ্ঠান। বেদান্ত নামের ম্যাগাজিন ছিল আকর্ষণীয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সভাপতি আশীষ রায়, সাধারণ সম্পাদক রীনা সাহা, অসীম সাহা প্রমুখ। শিল্পীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বাংলাদেশের বাদশা বুলবুল, রোকসানা মীর্জা এবং ভারতের ‘গায়ত্রী’। বেদান্ত নামে তারা একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে।

দুর্গাপূজার এবার অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন ছিল জ্যাকসন হাইটস পূজা ফাউন্ডেশনের। ১৫ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নবমী থেকে বিসর্জন সব দিনেই পুণ্যার্থীরা ভিড় জমায় এই অস্থায়ী পূজাম-পে। গুলশান টেরেসে দুর্গাপূজার আয়োজন করে। ‘অঞ্জলি’ ছিল তাদের ম্যাগাজিন।
এবারের দুর্গাপূজার হিন্দু ধর্মবিশ্বাসী সকলের প্রার্থনা ছিল মা দুর্গার কাছে আর একটি বছর যেন সকলের ভালোভাবে অতিবাহিত হয়। এক বছর পর মঙ্গল মায়ের কৃপায় নিয়ে সবাই আবার মায়ের আগমনে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠতে পারে।