সিনিয়র আমেরিকানরা যৌন বাতিকগ্রস্ত

ঠিকানা রিপোর্ট : কথায় বলে, বানর বুড়ো হলেও গাছে চড়া ভুলে না। তদ্রূপ শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য ও যৌন উদ্দীপনায় ভাটা পড়লেও যৌন বাতিকগ্রস্ত সিনিয়র আমেরিকানদের যৌনলিপ্সার নিবৃত্তি হয় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী আমেরিকানদের শরীরে নানা ধরনের রোগব্যাধি বাসা বাঁধলেও যৌন সম্ভোগের ক্ষেত্রে বর্ষীয়ানদের উল্লেখযোগ্য অংশ সক্রিয় বলে নিউ ইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের ৮ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যৌন সম্ভোগের পুরোপুরি স্বাদ গ্রহণে মাতোয়ারা ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী আমেরিকানরা যৌন মিলনের সময় কনডমও ব্যবহার করেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিজীবের সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে পরিগণিত। মানুষের ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীরা বয়ঃসন্ধিক্ষণে পদার্পণের সাথে সাথে তাদের দেহগত এবং মনোজগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়। এ সময় বালক-বালিকারা রাতারাতি দৈহিকভাবে বড়সড় হয়ে ওঠে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বালকদের কণ্ঠস্বর খানিকটা কর্কশ এবং বালিকাদের কণ্ঠস্বর মিহি ও মোলায়েম হয়ে ওঠে। তাছাড়া বিপরীত লিঙ্গের প্রতি রাতারাতি দুর্বার আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়ায় তারা দৈহিক মিলনের বিশেষ তাড়না বোধ করে। এ সময় বাবা-মা বা শিক্ষকদের আদেশ-নিষেধ তাদের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। সময় সময় তারা সবকিছুতে প্রতিবাদের ভাষার মাধ্যমে আত্মজাহিরের তাড়নাও বোধ করে। তাছাড়া আগের নিয়মিত খাবার তাদের দৈহিক চাহিদা পূরণে সক্ষম না হওয়ায় তারা লুকিয়ে কোনো কিছু খেয়ে ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করে।
অরণ্যচারী এবং গুহাবাসী মানুষ আদিম জীবনের যাবতীয় অভিশাপ ঝেড়ে ফেলে বর্তমানে সভ্যতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করেছে। কিন্তু জৈবিক চাহিদা বা যৌন আকাক্সক্ষা মানুষের জীবন থেকে কোনো দিনও নির্বাসনে যায়নি। তাই ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী আমেরিকানদের শরীরে নানা ধরনের ভয়ানক রোগব্যাধি বাসা বাঁধলেও যৌন তাড়না তাদের প্রায়ই তাড়া করে বেড়ায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিনিয়র আমেরিকানরা শারীরিক সক্ষমতা অনেকাংশে হারিয়ে ফেললেও যৌন মিলনে আগ্রহ হারান না এবং যৌন সম্ভোগের পরিপূর্ণ পরিতৃপ্তির আশায় তারা কনডমও ব্যবহার করেন না।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী আমেরিকানদের ৩৭% জানান, আগের বছর তারা অরাল (মৌখিক), এনাল (পায়ুপথ) কিংবা স্বাভাবিকভাবে যৌন সম্ভোগ উপভোগ করেছেন। তবে যৌন মিলনে অংশগ্রহণকারী ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী আমেরিকান পুরুষের সংখ্যা একই বয়সী নারীদের দ্বিগুণ বলে প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আবার যৌন মিলনে অংশগ্রহণকারী মাত্র ১০% সিনিয়র আমেরিকান জানান, রতিক্রিয়া বিনিময়কালে তারা কনডম ব্যবহার করেছিলেন। আবার ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী কৃষ্ণকায় ও ল্যাটিনো পুরুষদের তুলনায় শ্বেতাঙ্গ পুরুষরা যৌন মিলনকালে কনডম কম ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ম্যানহাটনের ৭৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সমাজকর্মী লিন্ডা মার্কস বলেন, যৌন মিলনকালে পুরুষদের কনডম ব্যবহার না করার প্রবণতা আমাদের পীড়া দেয়। মার্কস বলেন, বয়স যা-ই হোক না কেন যৌন মিলনকালে প্রত্যেকেরই কনডম ব্যবহার করা উচিত। তিনি বলেন, মহিলাদের তো কনডম ব্যবহার না করার প্রশ্নই ওঠে না। মার্কস বলেন, আমরা প্রত্যেকেই জানি যে এইডস এবং এইচআইভি ভাইরাস মূলত যৌন মিলনের মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়ে থাকে। তবে ব্রুকলিনের ৭১ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষিকা শ্যারন লুকাস বলেন, বুড়ো পুরুষদের কনডম ব্যবহার ছাড়া যৌন মিলনে তেমন ঝুঁকি থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, বুড়ো পুরুষদের উত্তেজনা ক্ষমতা ও দৈহিক সামর্থ্য উঠতি বয়সীদের মতো থাকে না। নির্দিষ্ট বয়সসীমা অতিক্রমের পর পুরুষরা স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই বুড়োরা আর উঠতি বয়সী যুবকদের মতো উদ্দীপনা ক্ষমতা রাখেন না। তাই ৭১ বছর বয়সী লুকাসও সর্বশেষ যৌন মিলনকালে কনডম ব্যবহার করেননি বলে জানিয়েছেন। লুকাস বলেন, যৌন অংশীদারের সাথে আমার পরিচয় দীর্ঘকালের। তার কাছ থেকে আমার কোনো ধরনের রোগব্যাধি সংক্রমণের আশঙ্কা নেই বিধায় পরিপূর্ণ যৌন পরিতৃপ্তি লাভের আশায় আমরা কনডম ছাড়া যৌন সঙ্গমে মিলিত হই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিগত ১২ মাসে যেসব সিনিয়র আমেরিকান এনাল বা পায়ুপথে যৌন সম্ভোগে মিলিত হয়েছিলেন, তাদের ২৯% কনডম ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবেশিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শুধু বর্ষীয়ান আমেরিকানরা নয়, বরং সকল বয়সী আমেরিকানরা যৌন মিলনকালে কনডমের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের যৌন উন্মাদনা তুঙ্গে। অথচ ওই বয়সীদের ৫৭%ই যৌন মিলনকালে কনডম ব্যবহার করেন। ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকানরাও পুরোদমে যৌন মিলনে সক্রিয়। তাদের ৩৩% যৌন সম্ভোগের সময় কনডম ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের ১৯% যৌন মিলনকালে কনডম ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭২% জানিয়েছেন, সর্বশেষ যৌন মিলনকালে তারা কনডম ব্যবহার করেননি।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, সম্প্রতি তুলনামূলকভাবে অধিকতর অ্যাডাল্ট বা প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে যৌন মিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগব্যাধি সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের বর্ণনা অনুসারে, ২০১৭ সালের প্রথম ৬ মাসে ৫০ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী ৩৬৩ জন সিটিবাসীর নতুন করে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ ৫০ বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রায় অর্ধেক সংখ্যক সিটিবাসীর এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে।
এমনতর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যৌন মিলনে সক্রিয় সর্ববয়সী সিটিবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছিল যৌন মিলনকালে কনডম ব্যবহার করার জন্য। সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র মাইকেল লাঞ্জা বলেন, এইচআইভি এবং যৌন মিলনের মাধ্যমে সংক্রমণকারী রোগব্যাধির ক্ষেত্রে বয়স কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে সংস্থার পক্ষ থেকে যৌন মিলনে অত্যুৎসাহী সিনিয়র আমেরিকানদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যপ্রদ যৌন মিলনের তথ্য ও উপকরণাদির ব্যাপারে খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যৌন মিলনের মাধ্যমে ভয়ানক ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি অর্গানাইজেশন, বারবার শপ, নেইল সেলুন, বার, ক্লাব, রেস্টুরেন্ট এবং সিনিয়র সেন্টারগুলোতে ২ কোটি ৫০ লাখ কনডম এবং অন্যান্য যৌন নিরাপদ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সিটির পক্ষ থেকে কীভাবে কনডম-জাতীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়, সে ব্যাপারে সিনিয়র সেন্টারগুলোতে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। অধিকতর বেশি বয়সী রোগীরা যে যৌনকর্মে সক্রিয়, সে ব্যাপারে চিকিৎসক এবং অন্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও সংস্থাটি দাবি করেছে।