সেকালের ভালোবাসা

মোরশেদ খন্দকার :

বাতাসের মায়াবী হৃদয়ে দোল খায় প্রাচীন মানবী
ইথারে কান পেতে অপেক্ষায় থাকে সুখময়
হয়তো জুতসই কিছু শব্দ, পঙ্্ক্তিমালা, কবিতা
কিংবা পুরোনো কোনো গুদামজাত ভালোবাসা
জোনাকির ডানা ভর করে বসবে পাশে তার
বাড়িয়ে ধরবে রক্তগোলাপ, চুপিসারে।
বলবে, ‘এই নাও, সেকালের ভালোবাসা।’
ইথারে হাসাহাসি। কারা যেন খুব হাসে, কথা বলে
ফিসফাস। প্রাচীন প্রেম পথ হারায় বারবার।
কবিতা, পঙ্্ক্তিমালা, ডালপালাহীন প্রেম কার ভয়ে নতজানু? যেন সবাই চলে গ্যাছে
সুদূর নির্বাসনে!
নিজ বাসভূম, চায়ের আড্ডা, হেমন্তের মনোরম বিকেল
ভুলে গ্যাছে সব! বাতাসের হৃদয় ভুলে যায় পূর্বকালের
চটুল ইশারা, কথার মারপ্যাঁচ, ভুবনমোহিনী হাসি।
ইথারে এখন বারুদের ঝাঁজ ভালোবাসার গন্ধ নেই।
কে যেন বাতাসে ছড়ায় আধুনিক ভিমরুল, এক ঝাঁক।
ক্ষত-বিক্ষত সুখময়। একবিন্দু ভালোবাসার খোঁজে
তবু সে পাড়ি দেয় পাহাড়, ফেনায়িত জলরাশি, সাত সমুদ্র।
ইথারে কান পেতে অপেক্ষায় থাকে সে। নিচু স্বরে কেউ তাকে বলবে, স্ট্র্যাপঅলা
জামা পরো না তুমি বহুদিন।
কেউ কেউ নিখুঁতভাবে ভুলে যায় পুরোনো বিকেল, প্রাচীন প্রাসাদ, ঝোড়ো
বাতাসের দিন, জীবনের পঙ্্ক্তিমালা।