সেনা মোতায়েনের ঘোষণা বোলসোনেরোর

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : অ্যামাজনের ভয়াবহ অগ্নিকা- মোকাবেলায় সেখানে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো। গত ২৩ আগস্ট তিনি আদিবাসীদের ভূমি, সীমান্ত এলাকা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগারগুলোর সুরক্ষায় চিরহরিৎ বনটিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর দেওয়া তীব্র চাপের মুখে অনেকটা বাধ্য হয়েই বোলসোনেরো এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

টানা কয়েকদিনের অগ্নিকা-ের পরও ব্রাজিলের দিক থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে না পেয়ে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন না করার হুমকি দেয়। ব্রাজিল ছাড়াও ওই চুক্তিতে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আছে। অ্যামাজনে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ব্রাজিলের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ফিনল্যান্ড দেশটি থেকে গো-মাংস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করতেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুরোধ করে। ইউরোপের নেতাদের এমন অবস্থানের পর সুর নরম করে বোলসোনেরো বলেন, দাবানল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অজুহাত হতে পারে না। কট্টর ডানপন্থী এ প্রেসিডেন্টের অ্যামাজন নীতির কারণেই এবারের এ ভয়াবহ অগ্নিকা- বলে অভিযোগ পরিবেশবাদীদের। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই অ্যামাজন বনাঞ্চলে রেকর্ডসংখ্যক অগ্নিকারে ঘটনা ঘটার কথা জানিয়েছে। দেশটির দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) জানিয়েছে, উপগ্রহের তথ্যে গত বছর একই সময়ের তুলনায় এ বছর ৮৫ শতাংশ বেশি আগুন লাগার চিত্র দেখা গেছে। শুষ্ক মৌসুমে অ্যামাজনে এমনিতেও দাবানল দেখা যায়। যদিও এবারের এ ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পেছনে মানুষের হাত আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বোলসোনেরোর নীতিই কাঠুরে ও চোরাকারবারিদের বন উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে সরকারের অ্যামাজন নীতি ও আগুন নেভাতে অনাগ্রহের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ব্রাজিল দূতাবাসগুলোর বাইরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেছে।