সেপ্টেম্বর থেকে বিএনপির চূড়ান্ত আন্দোলন

রাজনৈতিক ডেস্ক : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলেও আপাতত কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে শক্তি ক্ষয় করতে চায় না বিএনপি। দলটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ। দাবি আদায়ে বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে দলটি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে তারা। দলের কারারুদ্ধ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে এ কৌশল গ্রহণ করেছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। এ দিকে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে দলে ভাঙনের আশঙ্কায় কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করছে বিএনপি। খবর দলীয় সূত্রের।এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা কোনো সহিংস কর্মসূচিতে বিশ্বাস করেন না। দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশেই নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সময়মতো দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই কঠোর আন্দোলনে যাবে দলটি। মির্জা ফখরুল আশা করেন, সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারামুক্তির মাধ্যমে অবিলম্বে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি ঐক্যবদ্ধ। সরকারের কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।
সূত্র জানায়, এখন থেকে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগ পর্যন্ত ছোটখাটো কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় বিএনপি। এসব কর্মসূচি জোটগতভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গত ১১ ফেব্রুয়ারি জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারির অবস্থান এবং পরশু গত ১৪ ফেব্রুয়ারির অনশন কর্মসূচিও জোটবদ্ধভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন সামনে রেখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরের দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।
বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, এখন হার্ডলাইনে গিয়ে দীর্ঘ এক বছর সময় আন্দোলনের কর্মসূচি টেনে নেওয়া কঠিন। এতে দলের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে পড়বেন। তাদের বিশ্বাস, খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। জামিন না পেলেও আপাতত কঠোর কর্মসূচি দেবেন না। খালেদা জিয়া নিজেই সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার আগে এ পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, তার জন্য দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা জেল-জুলুমের শিকার হোক- তা তিনি চান না। এ পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অনশন, জনসভার মতো সাধারণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন তারা। বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত আন্দোলনে গিয়ে দাবি আদায় করার চেষ্টা করা হবে।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিন দিনের কর্মসূচির পর আবার নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলায় সাজা দেওয়ার ব্যাপারে তার বক্তব্য সংবলিত একটি লিফলেট প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পোস্টার প্রকাশ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শিগগির ঢাকায় ২০ দলের ব্যান্যারে একটি বিশাল জনসভা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি নেতারা। জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, আইনজীবী, চিকিৎসক-প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতাদের টিম জেলা সফর করে মাঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দেবে।
যোগাযোগ করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি কোনো হঠকারী কর্মসূচি দেবে না। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করবে। কারারুদ্ধ চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়া কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাজার আগেই তিনি সব পরামর্শ দিয়ে গেছেন।
ভাঙন রোধে সতর্কতা : নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছেন দলের নেতারা। এ পরিস্থিতিতে দলের প্রতিটি বৈঠকে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার আগেও খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকেও সরকারের পাতা কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার বিএনপি নেতাদের নানা ভয়ভীতি ও লোভ-লালসা দেখিয়ে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করতে পারে। সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানও দলের সিনিয়র নেতাদের প্রায় প্রত্যেককে টেলিফোন করে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করছেন।
বিএনপির সহসভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিএনপিকে ভাঙা সহজ নয়। বিএনপির একটি সাধারণ কর্মীকেও দল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কেউ পারবে বলেও তারা বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।