সৌদিতে নারীকর্মীরা ভালো আছেন : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারীকর্মীরা বর্তমানে ভালো আছেন বলে দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম।
সোমবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে আনা নোটিশের জবাবে তিনি একথা জানান।
সৌদি আরবে গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন কমেছে। নারীকর্মীরা অনেক ভালো আছেন। যারা ফেরত এসেছেন তারা আবারও যেতে চান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাহজাবীন মোরশেদ সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের বিষয়ে ৭১ বিধির এই নোটিশ আনেন।
মাহজাবীন মোরশেদ অসহায় দরিদ্র নারীদের দালালদের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ নারী কর্মী অবস্থান করছেন। এরমধ্যে সৌদি আরবে নারী কর্মীর সংখ্যা আড়াই লাখের বেশি এবং নির্যাতিত হচ্ছেন সৌদি আরবে বেশি। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দালালদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দালালরা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হচ্ছে।’
মাহজাবীন তার নোটিশে টাকার অভাবে যারা বিদেশ যেতে পারেন না তাদের জন্য ভিসার ওপর ঋণ দিয়ে সহায়তা করার দাবি তোলেন।
নোটিশের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। সৌদি আরবে নিগৃহীত নারীকর্মীদের মূল সমস্যা আরবি ভাষা না বোঝা ও বলার সক্ষমতা। নারীকর্মীদের কেউ কেউ সৌদি আরবের পরিবেশ, খাদ্যাভাস, ভাষা ইত্যাদি বিষয়ে খাপ খাওয়াতে না পেরে বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে সেফ হোমে আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এছাড়া রমজান মাসে অত্যাধিক চাপে পালিয়ে আসেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সৌদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
প্রতারিত হয়ে বিদেশে গিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনে শিকার বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধে জনসচেতনতামূলক নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে বুকলেট, লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদি বিতরণ, টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনসহ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।’
সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীকর্মীদের গৃহকর্মী পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বয়স ৩৫-৩৮ বছর নির্ধারণ, কর্মপক্ষে তৃতীয় শ্রেণি পাস, গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়ার আগে সে দেশের ভাষা-কৃষ্টিসহ গৃহকর্মের বিষয়ে প্রশিক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও সমাধানে সেল গঠন করা হয়েছে। প্রবাসবান্ধব কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কোনো নারী কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, ‘বিদেশ থেকে যারা ফিরে আসেন, কী কারণে আসেন এবং তারা কোথায় নির্যাতিত হয়েছেন তার খবরাখবর আমরা রাখছি। যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারলেও আমাদের মিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করি। দরকার দলে সে দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়।’