সৌদি আরবের বন্দিশিবিরে অনশনে রোহিঙ্গারা

জোরপূর্বক বাংলাদেশে না পাঠানোর দাবি

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক না পাঠানোর দাবিতে অনশন শুরু করেছে জেদ্দার এক বন্দিশিবিরে আটক বেশকিছু রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের সেখানে আটক করে রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। খবর মিডল ইস্ট আই।

জেদ্দার শুমাইসি ডিটেনশন সেন্টারে আটক বন্দীরা জানায়, মিয়ানমারের বাসিন্দা হলেও গত মাসে তাদের বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে আর কোনো বিকল্প না থাকায় তারা অনশন শুরু করেছে।

শুমাইসি ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফাঁস হওয়া ছবি ও ভিডিওর বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বন্দীরা তাদের দেয়া খাবার শিবিরের মেঝেতেই ফেলে রাখছে, যাতে করে সৌদি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সেগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

এসব ছবিতে দেখা যায়, বন্দিশালার মেঝেতে বাক্সভর্তি রুটি ও স্যুপ পড়ে রয়েছে। বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে না দেয়ার দাবিতে অনশনরত বন্দীরা তাদের বিছানায় শুয়ে-বসে আছে।

তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের সুযোগ পায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে জাহিদ (বন্দীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে) নামে শুমাইসির এক বন্দী জানান, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে বন্দীরা এ অনশনের উদ্যোগ নেয়।

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘যখন আমরা অনশন শুরু করি, তখন আমাদের সংখ্যা ছিল ৩০০ জন এবং ধীরে ধীরে আমাদের সঙ্গে আরো অনেকে যোগ দিতে থাকে। অনশনে অংশগ্রহণকারী এক বৃদ্ধকে এরই মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি না আর কত দিন টিকতে পারব। তারা আমাদের খাদ্যগ্রহণের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন।’

জাহিদ জানান, কিছুদিন আগে সৌদি আরব থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর জন্য প্লেনে তোলার সময় ওই দৃশ্যধারণের অভিযোগে তাদের অনেকেরই সেলফোন কেড়ে নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে গত চার মাসে এটি রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় অনশনের ঘটনা।

রাফিদ (এটিও ছদ্মনাম) নামে আরেক বন্দী জানান, আগেরবারের অনশন চলাকালে আন্দোলন স্থগিত রাখলে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্ত করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু দেখা গেল প্রতিশ্রæতি ভেঙে সৌদি কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে ৬০ রোহিঙ্গাকে এভাবে পাঠানো হয়েছে। এমনভাবে পাঠানো হচ্ছিল, যেন তারা বাংলাদেশিদের স্বদেশে পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমরা তো সেখানে যেতে পারি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা বলেছিল, আমাদের ছেড়ে দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই এখান থেকে বেরোতে পারেনি। আমরা আপনাদের সহায়তা চাইছি। দয়া করে আমাদের এখানে রাখতে দেবেন না। যদি সম্ভব হয়, তাহলে জাতিসংঘকে বলুন আমাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। শুমাইসিতে আমাদের রোহিঙ্গা ভাইদের কেউ কেউ এখন মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছে। বিষয়টি অসহনীয় হয়ে পড়েছে এবং আমাদেরও আবার অনশনে যেতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুমাইসি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতর থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও ভয়েস নোট সূত্রে জানা যায়, হাতকড়া বাঁধা অবস্থায় অনেক রোহিঙ্গাকে সেখান থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যদিও তারা এসেছে মিয়ানমার থেকে।