সৌদি যুবরাজকে গ্যাংস্টার বললেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা

ঠিকানা ডেস্ক : সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে পুরোপুরি একজন গ্যাংস্টার ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা। তাদের মতে, সৌদি যুবরাজ এরই মধ্যে বহু অপকর্মের হোতা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদে সাবেক জেনারেল জন আবিজায়িদের মনোনয়ন নিশ্চিত করা নিয়ে ৬ মার্চ সিনেটের শুনানিতে তারা যুবরাজের কড়া সমালোচনা করেন। খবর রয়টার্সের।

শুনানিতে আইনপ্রণেতারা বলেন, জেনারেল আবিজায়িদকে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাবেক এই চার তারকা জেনারেল সহজেই সিনেটের সমর্থন পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইরাক যুদ্ধের সময় আবিজায়িদ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন।ওই শুনানিতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের পাশাপাশি বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটররাও ছিলেন। তারা সবাই সৌদি আরবের নিন্দা করেছেন।ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের জড়িয়ে পড়া, দেশটির এলোমেলো ক‚টনৈতিক তৎপরতা ও মানবাধিকার ক্ষুণ্নের ঘটনা তাদের সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। নারী আন্দোলনকারীদের ও এক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে নির্যাতন এবং প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির খুনের ঘটনা তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পায়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা সৌদি যুবরাজের কড়া সমালোচনা করেন। কয়েকজন আইনপ্রণেতা খাসোগি খুনের জন্য তাকে দায়ী করেন, অন্যরা তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় দেন।

শুনানি কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান জিম রিশ বলেন, সৌদি আরব এমন অনেক কিছুতেই জড়িত, যেগুলো পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। শুনানির একপর্যায়ে রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান পুরোপুরি গুণ্ডা হয়ে গেছেন। আরেক রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসনও এই কথাটির পুনরাবৃত্তি করেন। শুনানিকালে আবিজায়িদ খাসোগির খুনের বিষয়ে জবাবদিহির আহ্বান জানান এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন, কিন্তু বারবার ওয়াশিংটন-রিয়াদের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে এর ওপর জোর দেন। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা চাপা উত্তেজনা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদটি খালি পড়ে ছিল।