স্টোকস-ব্রুকে জয়ের দিকে ছুটছে ইংল্যান্ড

ঠিকানা অনলাইন : ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপের সামনে ১৩৮ রানের লক্ষ্যকে মামুলিই বলা যায়। তবে এই মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই যেন ঘাম ছুটে যাওয়ার অবস্থা ইংলিশ শিবিরের। প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে কিছুটা ব্যাকফুটেই বাটলারের দল। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে বেন স্টোকস আর হ্যারি ব্রুক মিলে ইংল্যান্ডকে ধীরে ধীরে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ইংলিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৭ রান।

ঐতিহাসিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের ফাইনালে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলো ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের মুখে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১৩৭ রান তুলতে পারে পাকিস্তান।

১৩৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারটি দেখেশুনেই কাঁটিয়ে দিতে চেয়েছিলো দুই ইংলিশ ওপেনার জস বাটলার আর অ্যালেক্স হেলস। প্রথম ৫ বল পার করলেও ওভারের শেষ বলেই হেলসকে ফিরতে হয়েছে প্যাভিলিয়নে।

ইনিংসের প্রথম ৫ বল থেকে ৭ রান তোলে ইংল্যান্ড। তবে শাহিন শাহ আফ্রিদির ওভারের শেষ বলে গতির কাছে পরাস্ত হন হেলস। বলের লাইন মিস করলে সেটি আঘাত হানে হেলসের মিডল স্ট্যাম্পে।

অল্প রানের পুঁজি নিয়েও প্রথম ওভারে ইংলিশ শিবিরে আঘাত হেনে অনেকটা পুনরীজ্জীবিত পাকিস্তান। হেলসের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে বাটলারের সঙ্গী হন টুর্নামেন্টে প্রথম ব্যাট করতে নামা ফিল সল্ট।

প্রথম ওভারে উইকেট হারালেও নাসিম শাহের করা দ্বিতীয় ওভারেই পাল্টা আক্রমণ করেন ইংলিশ অধিনায়ক বাটলার আর সল্ট। দুই ব্যাটার মিলে তিন বাউন্ডারিতে এই ওভার থেকে নেন ১৪ রান।

শাহিন শাহ আফ্রিদির করা তৃতীয় ওভার থেকেও বাটলারের এক বাউন্ডারিতে ৭ রান তোলে ইংল্যান্ড। তিন ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ইংলিশদের রান দাঁড়ায় ২৮।

চতুর্থ ওভারে বোলার বদলে হারিস রউফকে আক্রমণে আনেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। তাকেও প্রথম বলেই বাউন্ডারি দিয়েই স্বাগত জানান সল্ট। তবে অধিনায়কের ভরসাকে মিথ্যা প্রমাণ করেননি হারিস। তৃতীয় বলেই সল্টকে সাজঘরে ফেরান হারিস। ৯ বলে ১০ রান করেই মিডউইকেটে ইফতিখার আহমেদের হাতে ক্যাচ দেন সল্ট। বেন স্টোকস ক্রিজে এসে ওভারের বাকি তিন বলে কোনো রান না করেই পার করে দেন।

পঞ্চম ওভারে আবারও আক্রমণে আসেন নাসিম শাহ। দুই সঙ্গীকে হারালেও পাকিস্তানি বোলারেদের ওপর চড়াও হয়েই খেলেছেন ইংলিশ অধিনায়ক বাটলার। উইকেটরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে নাসিমকে উড়িয়েছে বাটলার। এই ওভার থেকে ইংলিশরা তোলে ১১ রান।

পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে আবারও হারিস রউফের হাতে বল তুলে দেন বাবর। আরও একবার অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন রউফ। ওভারের তৃতীয় বলেই ফেরান বিপদজনক হয়ের উঠতে থাকা ইংলিশ অধিনায়ক বাটলারকে। ৪৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে ইংলিশরা। ১৭ বলে ২৬ রান করেই উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ধরা পড়েন বাটলার। পাওয়ার প্লে শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪৯ রান।

দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে অনেকটা মন্থর হয়ে যায় ইংলিশদের রান তোলার গতি। পাওয়ার প্লে’র পরের ওভারেই স্পিনার শাদাব খানকে আক্রমণে আনেন বাবর আজম। শাদাবের ওভার থেকে আসে মাত্র ৫ রান। অষ্টম ওভারে বোলিং করতে আসেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। এই ওভার থেকেও সুবিধা করতে পারেননি স্টোকস আর ব্রুক। তুলতে পারেন মাত্র ৭ রান।

নবম ওভারে আবারও বোলিংয়ে আসেন শাদাব খান। স্টোকসের কাছে ওভারের তৃতীয় বলে একটি বাউন্ডারি হজম করলেও মাত্র ৮ রান দিয়েই ওভার শেষ করেন শাদাব।

১০ম ওভারে বল হাতে আবারও ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের সামনে আসেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ওভারের চতুর্থ বলে ওয়াসিমকে বাউন্ডারি মেরে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন স্টোকস। ১০ ওভার শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭৭ রান। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ৬১ রানের।

ইংলিশদের হয়ে ১৬ বলে ১৭ রান নিয়ে ব্যাট করেছেন স্টোকস, সমান সংখ্যক বলে ১৪ রান নিয়ে তার সঙ্গে আছেন হ্যারি ব্রুক।

ঠিকানা/এসআর