স্বাগত টেস্টের নতুন ভেনু

স্পোর্টস রিপোর্ট : সবুজের সমারোহে গত ৩ নভেম্বর সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে আমন্ত্রণ জানায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গত ৩ নভেম্বর থেকে শুরু বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের মধ্যকার প্রথম টেস্ট দিয়ে দেশের অষ্টম টেস্ট ভেনু হিসেবে যাত্রা শুরু হতে চলেছে নয়নাভিরাম এই স্টেডিয়ামের। নতুনের পথচলার দিনে পুরনো কড়চা ভালো লাগার কথা নয় একদমই। তবু, পুরনোতেই ইতিহাসের আশ্রয় বলে সেটাকে উপেক্ষা করাও বেশ কঠিন। নবতম টেস্ট ভেনুর অভিষেকের দিনে তাই আগের সাতটি টেস্ট ভেনুর খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া যাক চলুন। লিখেছেনÑ দীপায়ন অর্ণব

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা : একসময় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সূতিকাগার ছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের গর্বটাও এই মাঠের। ২০০০ সালে নিজেদের প্রথম টেস্টে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ, ম্যাচটা হেরেছিল ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে। তবে সেটা বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট হলেও, এই মাঠের অভিষেক টেস্ট ছিল না। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম নামকরণের পর এই মাঠে প্রথম টেস্ট হয় ১৯৯৯ সালে। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। অভিষেক টেস্টের পর এই মাঠে আরও আটটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তবে ২০০৪-০৫ মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর গড়ায়নি এই মাঠে।

এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম : ২০০১ সালের নভেম্বরে দেশের দ্বিতীয় টেস্ট ভেনুর মর্যাদা পায় চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে এই ভেনুর যাত্রা শুরু হয়। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৮ উইকেটে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মতো এই স্টেডিয়ামের টেস্টযাত্রাও খুব একটা দীর্ঘায়িত হয়নি। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে এ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ টেস্ট। তবে সেই টেস্টটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে হয়ে আছে অন্যতম স্মরণীয় এক অধ্যায়। জিম্বাবুয়েকে সেই ম্যাচে ২২৬ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে টেস্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম : এম এ আজিজ স্টেডিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সরিয়ে নেওয়ার পর দেশের তৃতীয় ও চট্টগ্রামের দ্বিতীয় টেস্ট ভেনু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলংকা। সেই ম্যাচেও ৮ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। গত এক যুগে এরপর আরও ১৬টি টেস্ট ম্যাচ গড়িয়েছে এই মাঠে, যার সর্বশেষটি হয়েছে এ বছরের জানুয়ারিতে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের দিক দিয়ে বন্দরনগরীর এ মাঠটি এখন ক্রিকেটকর্তাদের দ্বিতীয় পছন্দের ভেনু।

শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, বগুড়া : বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে দেশের সবচেয়ে দুর্ভাগা টেস্ট ভেনুর খেতাব দিয়ে দেওয়া যায় সহজেই। ২০০৬ সালের মার্চে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি আয়োজন করে দেশের চতুর্থ টেস্ট ভেনুর মর্যাদা পেয়েছিল এই মাঠ। ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ১০ উইকেটে। সেটা শুরু, আর সেটাই শেষ। গত ১২ বছরে এরপর আর কোনো টেস্ট আয়োজনের সৌভাগ্য হয়নি এই ভেনুটির। খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, ফতুল্লা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামই শুধু নয়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ পায় আরও একটি টেস্ট ভেনু। সে বছরের এপ্রিলে দেশের পঞ্চম টেস্ট ভেনু হিসেবে যাত্রা শুরু করে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। এই মাঠের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া, লড়াই করে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছিল ৩ উইকেটে। তবে এরপর আর টেস্ট আয়োজনের সুযোগ খুব একটা পায়নি ঢাকার অদূরের এ স্টেডিয়ামটি। অভিষেক টেস্টের পর গত ১২ বছরের মধ্যে কেবল ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি টেস্ট হয়েছিল এই মাঠে।

শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, খুলনা : ২০১২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের সপ্তম টেস্ট ভেনু হিসেবে সাদা পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। এই মাঠের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচে ক্যারিবিয়ানরা জেতে ১০ উইকেটের ব্যবধানে। গত ছয় বছরে এরপর আরও দুটি টেস্ট হয়েছে এই মাঠে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের এপ্রিলে এই মাঠে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা দেশের ক্রিকেট বলতে এখন সবার আগে যে মাঠের নাম মুখে আসে, সেটা ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। অন্য টেস্ট ভেনুগুলোর চেয়ে অনেক পরে যাত্রা শুরু করলেও এ মাঠটিই এখন দেশের হোম অব ক্রিকেট। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামটি ফুটবল ফেডারেশনের হাতে চলে যাওয়ার পর মিরপুরে অবস্থিত এ মাঠটি পুরোপুরি ক্রিকেট আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ২০০৭ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আয়োজন করে দেশের ষষ্ঠ টেস্ট ভেনু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এ স্টেডিয়াম। এখন পর্যন্ত এই মাঠে ১৭টি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মাঠেই বাংলাদেশ টেস্ট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে।