স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক আচরণ

শামসুল হুদা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পটভূমি সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে নবাব সিরাজদৌল্লাহর শোচনীয় পরাজয়ের পর এদেশে সূচনা ঘটেছিল ইংরেজ রাজত্বের। ধীরে ধীরে ব্রিটিশরা পুরো ভারত উপমহাদেশ গ্রাস করে নেয় এবং এ দেশে ইংরেজ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। প্রায় দুশো বছর পরাধীন থাকার পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি পৃথক দেশ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা। পূর্ব বাংলা, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পশ্চিম পাঞ্জাব আর বেলুচিস্তান নিয়ে গঠিত হয়েছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গসহ উপমহাদেশের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে গঠিত হয় ভারত। পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছিল দুটি অংশে- পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব বাংলাকে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ এবং বাকি চারটি প্রদেশের সমন্বয়ে নামকরণ করা হলো ‘পশ্চিম পাকিস্তান।’ জনসংখ্যার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা থেকে গেল সংখ্যালঘিষ্ঠ পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে। করাচী হলো রাজধানী। কিন্তু প্রথম থেকেই পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর হাতে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলার মানুষ শোষণ-বঞ্চনা, অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয় এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা সর্বক্ষেত্রে চরমভাবে অবহেলিত হতে থাকে। এই শোষণ এবং বঞ্চনাই একসময় রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের রূপ নেয়। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের নিপীড়িত, বঞ্চিত সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে জড়াতে বাধ্য হয়। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বা ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ৭০-এর নির্বাচন আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন জোরদার করে মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম করেছিল। ফলশ্রুতিতে একাত্তরে সংঘটিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ লাখ শহীদের উষ্ণ রক্ত¯্রােত এবং দু লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম ও নির্যাতনের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক কাঙ্খিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়।
আমরা এখন রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন। দাপটের মর্যাদাকে যদি স্বাধীনতা বলে মানতে হয়, তা হলে সেই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। পাইনি প্রত্যাশিত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক মুক্তি । স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ কিন্তু সেই মুক্তি কোথায়? স্বাধীনতা আর মুক্তি- এক কথা নয়। অনেক ত্যাগ, তিতীক্ষা ও সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু স্বাধীন দেশের কাঙ্খিত প্রাপ্তি সুদূর পরাহত। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তা এখনও কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবায়নের গতি ধীর। তার একমাত্র কারণ, সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবর্তে দেশ অপরাজনীতিতে নিমগ্ন। নীতি-নৈতিকতাহীন রাজনৈতিক দলে পরিপূর্ণ আমাদের দেশ। বড় বড় রাজনৈতিক দলের মুখে শোনা যায়- তারা দেশের কল্যাণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ! সবাই দেশের কল্যাণ চায়, কিন্তু কাঙ্খিত কল্যাণ অর্জিত হচ্ছে না কেন? তার কারণ সদিচ্ছা, পরার্থপরতা, দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালবাসার তীব্র অভাব। আমরা অনেকেই মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বলি, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তার বিপরীত। দেশের রাজনীতিতে শালীনতা বলতে কিছু নেই। দেশে চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি অহেতুক কাদা ছোঁড়াছুড়ির মহড়া। ক্ষমতার লড়াই, প্রতিহিংসা, বর্বরতা, দুর্নীতি, লুট, সরকারি কোষাগার আত্মসাত ও অর্থপাচারের প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক দলগুলো নিমগ্ন। গুটিকতক সৎচিন্তার রাজনীতিবিদ থাকলেও দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে তাদের সেই সৎচিন্তা লোপ পেয়ে যায়। প্রায় সময় আমাদের দেশের বিভিন্ন দল সংসদে, রাজপথে দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতির কথা তেমন না বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একদল অন্যদলকে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে অকথ্য ভাষায় কটূক্তি ও বদনাম রটাতে ব্যস্ত থাকে।
আমাদের দেশের রাজনীতির মূলনীতি হলো- স্বজনপ্রীতি ও দলীয় স্বার্থ হাসিল। আমাদের দেশে দলতন্ত্র, গোষ্ঠীতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র বিদ্যমান। তুলনামূলকভাবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণের চেয়ে নিজের গোষ্ঠী, আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণ ও স্বার্থ অধিক প্রাধান্য পায় রাজনীতিতে। আমাদের দেশে বিরোধীদের মতে- সরকারি দল যা করে, সবই খারাপ। অন্যদিকে, সরকারি দল মনে করে- বিরোধীদলের সব সমালোচনা অযৌক্তিক। এ ধরনের আচার কি গ্রহণযোগ্য? সর্বজন স্বীকৃত আসল কথা হলো- ভাল-মন্দ কার্যকলাপ, ভুলত্রুটি সব দলের মধ্যেই থাকতে পারে। নৈতিকতার ভিত্তিতে একদল অপরদলের ভাল কর্মকা-ের প্রশংসা ও মন্দ কর্মের সমালোচনা করাটাই হলো যুক্তিসংগত ও চিরাচরিত নিয়ম। এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু প্রতিহিংসার মনোবৃত্তিতে রীতিনীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন দল অন্ধের মত আচরণ করতে অভ্যস্ত। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নোংরা রাজনীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বীয় স্বার্থসিদ্ধি, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও একে অপরকে ঘায়েল করতেই অহর্নিশ ব্যস্ত। দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ জনসাধারণ রাজনীতি নিয়ে কি ভাবলো, কি আশা করলো- তাতে রাজনৈতিক দলের কিছু যায় আসে না। দেশের মঙ্গলের জন্য বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের নীতিবাক্য, সুপরামর্শের কোন গুরুত্বই তাদের কাছে নেই। পাঁচ বছর পর পর রদবদল করে ক্ষমতায় আসাই তাদের কাজ। একদল ক্ষমতায় গিয়ে মহা ধুমধামে নেতাকর্মী সাংসদদের নিয়ে সব রকমের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবে। পালাক্রমে অন্যদল পরবর্তী পাঁচ বছর স্বার্থ আদায় করবে নীল নকশায়। একদল ক্ষমতায় গেলে অন্যদল পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিন্দা করার কাজের। এমন রেষারেষি ও হিংসাত্মক প্রতিশোধের রাজনীতিই চলছে আমাদের বাংলাদেশ। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন আচরণ নেই। আর একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- বিভিন্ন দল কর্তৃক সুশীল ছাত্রসমাজকে ছাত্র রাজনীতির গঠনমূলক ও গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান থেকে লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িয়ে ফেলা। যুগে যুগে যে কোন অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদে এগিয়ে এসেছে ছাত্রসমাজ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর বাস্তবতা অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রসমাজ শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু আমাদের স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের হীনস্বার্থে ছাত্রসমাজকে দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে জড়িয়ে তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লাগাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ছাত্রসমাজ অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ডে জড়াচ্ছে এবং নিজেদের জীবনকে উচ্ছন্নের পথে ঠেলে দিচেছ। রাজনৈতিক দল কর্তৃক ছাত্রদেরকে ব্যবহারের কারণে তারা মূল রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে নানা অপকৌশলে হল দখল, সিট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি, শোডাউন, চাঁদাবাজি, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, অন্য ছাত্র সংগঠনকে ঘায়েল করার জন্য হানাহানি, মারামারি-খুনাখুনি ইত্যাদি অনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছে পুরোদমে। এভাবে তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন গর্হিত ও অনাকাঙ্খিত কর্মে লিপ্ত হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। অনেক ছাত্র মাদকাসক্ত হয়ে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভে ব্যর্থ হয়ে জীবন নষ্ট করছে, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষেত্রে দেশ গঠনের অন্তরায় ও অপূরণীয় ক্ষতি।
আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। স্বাধীনতা কি, কতটুকু স্বাধীনতা- এটা বোঝার বিষয়। কোন এক সময়ে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আমার থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল- বাংলাদেশ স্বাধীন করে আমাদের অর্জন কি? বলেছিলাম- অর্জন তো অবশ্যই হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এটাইতো একটা বড় অর্জন। তবে স্বাধীনতার মর্ম স্পর্শ করে কাক্সিক্ষত অর্জন কতটুকু হয়েছে, তা বিশ্লেষণের ব্যাপার। এত কিছুর পরও আমি বলবোÑ কাক্সিক্ষত উন্নতি যদিও হয়নি, অনেক উন্নতি অবশ্যই লক্ষণীয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে, যা অর্থনীতির উন্নতির সাথে জড়িত। কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষিখাতে উন্নতি এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনও লক্ষ্যণীয়। সাধারণভাবে শিক্ষার ক্ষেত্র প্রসারিত হলেও গণমুখী ও কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজনীয় ও প্রত্যাশিতভাবে প্রসার লাভ করেনি। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্র ও স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। শিল্পক্ষেত্রে সর্বাঙ্গীন উন্নতি না হলেও বিশেষ করে পোষাক শিল্পে অনেক উন্নতি হয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটা সামগ্রিক জীবনমানের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কাঙ্খিত অগ্রগতি হয়নি। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দেশ আরও উন্নতি হওয়ার কথা। অথচ আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে অনেক ব্যবধান।
বাংলাদেশকে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ পরিহাস করা মন্তব্য থেকে অবশ্য উত্তরণ হয়েছে। কিন্তু উন্নতির ফল সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারছে না। তা একশ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে কুক্ষিগত হয়ে আছে। তাই আবারো বলবো, সামগ্রিক বিচারে কাঙ্খিত উন্নতি হয়নি। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক মুক্তি আশানুরূপ হয়নি। গণতন্ত্রের উন্মেষ ও বাকস্বাধীনতাও প্রশ্নবিদ্ধ।
মালয়েশিয়া, কোরিয়া আমাদের বহু পরে স্বাধীনতা অর্জন করেও বর্তমানে সাফল্যের সোপানে পৌঁছে গেছে। তাদের মত আমরা কেনো পারিনি? এর অন্যতম প্রধান কারণÑ এক শ্রেণীর মানুষের অবাধ দুর্নীতি, জনগণের স্বার্থ পদদলিত করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন, প্রতিহিংসার রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, সহিংসতা, হানাহানি, সংঘাত, মিথ্যাচার ও ক্ষমতার লোভ।
এমতাবস্থায় আমাদের ব্যর্থতার কারণ সম্যক উপলব্ধি করে উন্নতির বাস্তবমুখী কর্মপন্থা গ্রহণ এবং নিঃস্বার্থভাবে তা সামনে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন আনতে হবে। অপরাজনীতি বর্জন করে শুদ্ধ রাজনীতির চর্চা করতে হবে। স্বজনপ্রীতি, প্রতিহিংসা ও সংঘাত পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি ব্যক্তিস্বার্থে নয়, সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
স্বাধীনতা মানে যথেচ্ছাচারের ছাড়পত্র নয়। আমরা যেমন খুশি তেমন চলবো বা যেমন খুশি তেমন আচরণ করবো, তা নয়। স্বাধীনতা পেয়ে আমরা অধিকার বা রাইট অর্জন করেছি। কিন্তু আমাদেও দায়িত্ববোধ বা অবলিগেশনও আছে। আমরা তা অনুসরণ করছি কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন। রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, দেশের আপাময় জনসাধারণ- সবাই দেশের মঙ্গল চায়, উন্নতি চায়। কিন্তু মঙ্গল ও উন্নতি আশানুরূপ হচ্ছে না কেন? এতে বাধা কোথায়? বাধা আমাদের, যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের। কেননা, আমরা বলি এক, করি আরেক। আমাদের কথায় ও কাজে মিল নেই। প্রশ্ন করা যেতে পারেÑ আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু। আমাদের ধ্যান-দারণা, চিন্তা-চেতনার ভেতর ঢোকাতে হবেÑ আমরা দেশকে কতটুকু ভালবাসি। দেশের উন্নতির জন্য নিঃস্বার্থভাবে, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সবার মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টি করতে হবে। তবেই দেশের কাঙ্খিত উন্নতি সম্ভব এবং দেশের অগণিত হতদরিদ্র, অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যাবে। তবেই হবে দেশের উন্নতি, আমাদের সাফল্য।
ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।