হজ নিয়ে সাংবাৎসরিক তেলেসমাতি

মুহম্মদ ফজলুর রহমান : হজের মওসুম এলেই সাতকাহন কথা হয় হজযাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে। বিভিন্ন এজেন্সি সক্রিয় হয়ে ওঠে হাজিদের হয়রানি করতে। তারা মূলত প্রতারকচক্র। তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতি বছর অনেকে হজ পালন থেকেই বঞ্চিত হন। এই প্রতারক চক্র নিয়ে প্রতিবছরই বহু কথা হয়। কিন্তু এদের হাত থেকে হাজিদের মুক্তি মেলে না। এ চক্র খুবই শক্তিশালী। অপরাধ করেও শাস্তি পায় না। আসলে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বাংলাদেশে একশ্রেণির অপরাধী চক্র আছে, যারা কখনও বিচারের সম্মুখিন হয় না, খুঁটির জোর থাকায়।
এখন হজের মওসুম না হলেও কথা বলছি হজ নিয়ে। গত ১৪ জানুয়ারি সউদি আরবের সঙ্গে হজ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাই। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি অনুসারে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশির হজ পালন করার কথা। কিন্তু প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে শেষ পর্যন্ত কতজন হজ পালন থেকে বঞ্চিত হন, কে জানে! এ চক্র প্রত্যেক হজ মওসুমেই সক্রিয় থাকে এবং কিছু মানুষের হজব্রত পালনের পবিত্র প্রত্যাশা নস্যাত করে দেয়। এরা চতুর এবং ক্ষমতাবান। এদের হাত আইনের হাতের চেয়েও যেনো লম্বা! আইনের হাত এদের ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। বরং উল্টো প্রতারক চক্রের হাত আইনের ঘাড় মটকে দেয়! তাই এ প্রতারক চক্র সব রকমের দুষ্কর্ম করে, মানুষকে ঠকিয়ে, হয়রানি করেও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। যে যতই শাসানী দিক, নির্ভয়ে অব্যাহত গতিতে চলে তাদের দুষ্কর্ম। শর্ষেয় ভূত, তাই বাংলাদেশের ঘাড়ে জেঁকে বসা প্রতারণা আর থামে না। উল্টো কারও ওঝাগিরি দেখানোর দুর্মতি দেখা দিলে ওই ওঝাদেরই শিক্ষা দিয়ে দিতে পারে ঐ চক্র!
‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’ এ প্রবাদ বাক্যটি যে কত সত্য এবং অর্থপূর্ণ, তা বাংলাদেশে হজ মওসুম এলেই বুঝতে পারা যায়। বাংলাদেশ মুসলমান অধ্যুষিত একটি দেশ শুধু নয়, মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগই মুসলমান, এবং অত্যন্ত ধর্মভীরু মুসলমান। আর মুসলমানদের জন্য যত এবাদত রয়েছে, তার মধ্যে ফরজ বা অবশ্য পালনীয় একটি এবাদত হচ্ছেÑ হজ। ফরজ এবাদতের মধ্যে হজের স্থান চতুর্থ। কালেমা, নামাজ, রোযার পরেই হজ। পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য যেতে হয় পবিত্র কাবা, যেখানে সেই দেশ সউদি আরব। সউদি আরব আল্লাহর প্রিয় পয়গম্বর, আমরা যার সৌভাগ্যবান উম্মত, নবীকূলের শ্রেষ্ঠ এবং শেষ নবী হযরত মুহম্মদ (স.)-এরও পবিত্র জন্মভূমি।
সেই পবিত্র ভূমিতে পবিত্র ফরজ এবাদত হজব্রত পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক মুসলমান সউদি আরব যান। হজ এমন একটি ফরজ, যা মুসলমানদের পালন করতে হয় আর্থিক সামর্থসহ কয়েকটি বিশেষ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে। এবং অনেকে অনেকবার হজ করলেও তা প্রত্যেকের জীবনে ফরজ একবারই। আপনি যতবার করবেন, ততবারই পূণ্য অর্জন করবেন, কিন্তু একবার করতে পারলেই ফরজ আদায় হয়ে যাবে। সব শর্ত পূরণের অবস্থা বিদ্যমানের পরেও যারা হজব্রত পালন করবে না, তাদের ফরজ এবাদত পালনের শর্ত লংঘিত হবে। এমন একটি ফরজ কাজ নিয়েও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে প্রতি বছর তেলেসমাতি কারবার ঘটে! এর ফলে প্রত্যেক বছরই কয়েক হাজার মুসলমান নিয়ত করে, টাকা-পয়সা জমা দিয়ে এবং আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেও অসৎ ধর্মব্যবসায়ীদের কারসাজিতে হজব্রত পালন করতে পারেন না। হতাশায় আচ্ছন্ন ভগ্নহৃদয় নিয়ে তাদের ঘরে ফিরে যেতে হয়, যেখানে তাদের লজ্জায় অধোবদন থাকতে হয়। এলাকার অনেকেই হয়তো ভেবে বসেন, নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে লজ্জা ঢাকার চেষ্টা করছে!
যারা এই ঠগবাজির কারবার করে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে, তারাও কিন্তু মুসলমান। কিন্তু ঐ যে প্রবাদে বলেÑ চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনিÑ বিষয়টি ঠিক তেমন! ওরা মুসলমান হলেও ঠগ, জোচ্চোর, বাটপার। ধর্মের অনুশাসনের ধার ধারে না ঐ তস্কর গোষ্ঠী। বরং ধর্মের নামে মানুষ ঠকাতে ওদের জন্য সুবিধা হয়। অবশ্য এ ঠগবাজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একশ্রেণির অসৎ সরকারি আমলা-কর্মচারিও জড়িত থাকে। যারা হজ ব্যবসায়ীদের সব অপকর্মের সহযোগী হিসেবে নেপথ্যে থেকে কাজ করে। হাজি ঠকানোর বা হাজিদের হজবঞ্চিত করার এই অবৈধ কারবারে কোটি-কোটি টাকার লেনদেন হয়! হজ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যেই সেসব অর্থ বণ্টনের কথা শোনা যায়! আর কথায় বলেÑ যা রটে, তা কিছু হলেও সত্য বটে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আজ যা রটনা, কালই তা সত্য!
হজ-ঠগবাজী নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল কিছুদিন পূর্বে, ঠিকানার ৬ অক্টোবর ২০১৭ সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায়। শিরোনামÑ ‘হজ তেলেসমাতির নেপথ্যে।’ প্রতিবেদনটিতে হজ কেলেংকারির নানা চমকপ্রদ তথ্য এবং প্রক্রিয়া উঠে এসেছে। হজ দুর্নীতি শুরু হয় হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধনের সময় থেকেই। সংবাদটিতে যা বলা হয়েছে তার নিগূঢ় অর্থ হচ্ছেÑ হজ দুর্নীতি আসলে একদল মাফিয়ার হাতে বন্দি। এমন কিছু মাফিয়া চক্র আছে, যারা সমগ্র হজ কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে। এদের প্রত্যেকের ১২-১৪টি করে হজ লাইসেন্স থাকে। নিজেদের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে লাইসেন্সগুলো ইস্যু করা হয়। এদের পৃথক কোন অফিস নেই। কোনো কাঠামো নেই। লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রেও কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না। সব শর্ত লংঘন করে জালিয়াতি-জোচ্চুরি, ঘুষ-দুর্নীতি, অবৈধ লেনদেনের মধ্য দিয়ে এ সব লাইসেন্স দেয়া হয়। এ সব ভুয়া দুই নম্বরী লাইসেন্সধারীরাই মাফিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যে যেভাবে পারছে হজযাত্রীদের সঙ্গে পদে পদে প্রতারণা করে চলেছে। এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র।
প্রতিবেদনটিতে যে অভিযোগটি ভয়ংকর, তা হচ্ছেÑ দুর্নীতিগ্রস্থ হজ এজেন্সিসহ হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সরকারি যেসব সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোও এই আদম ব্যবসার সহযোগী। এ সংস্থাগুলো হচ্ছেÑ ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিমান। ‘দশ চক্রে ভগবান ভূত’-এর মত এদের মিলিত চক্রের কাছে হজযাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, এ মিলিত দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে হজ কেলেংকারি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না কখনই।
ভুয়া ও প্রতারক হজ এজেন্সির বরাত দিয়েও কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তাতে জানা যায়Ñ সমগ্র বিশ্বে প্রায় ৩ হাজার হজ এজেন্সি আছে। তারমধ্যে অর্ধেকের বেশি আছে বাংলাদেশে! আবার এসব এজেন্সির মধ্যে অধিকাংশই ভুয়া এবং অস্তিত্বহীন। তারা লাইসেন্স নিয়েছেই ভুয়া বা প্রতারণা ব্যবসার উদ্দেশ্যে। এ কারণে তারা একই ব্যক্তি, ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক লাইসেন্স নিয়ে রেখেছে। একটি কোন কারণে বাতিল কিংবা কালো তালিকাভুক্ত হলে, অন্যগুলো দিয়ে তারা তাদের প্রতারণা ব্যবসা চালিয়ে যায়। তাদের ৩-৪ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হলেও তোয়াক্কা করে না মোটেই, অন্য লাইসেন্সে সব ক্ষতি পুষিয়ে নেয়।
অনেকে এই ভুয়া হজ লাইসেন্স বিক্রি করেও কোটি-কোটি টাকা কামাই করে। জানা যায়, গত (বাকি অংশ ৫৭-এর পাতায়)
হজ নিয়ে সাংবাৎসরিক তেলেসমাতি
বছর এ রকম একজন ভুয়া হজ এজেন্সির মালিক হজ মওসুম শুরুর আগে ১০টি এজেন্সির লাইসেন্স ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করে চুপচাপ বসেছিলেন।
জাতীয় হজ ব্যবস্থাপনা নামে একটি জাতীয় কমিটি আছে, যার প্রধান উপদেষ্টা হচ্ছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, এ কমিটির বছরে একটি সভা হলেও অনেক কিছু সুষ্ঠু মনিটরিং করা সম্ভব হতো। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে যে সভা হয়, তার গুরুত্ব অনেক। তাতে দুর্নীতি সম্পূর্ণ দূর না হলেও, কিছুটা হয়তো হ্রাস পেতো। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, কোন বছরই এ কমিটির সভা ডাকা হয় না। গত বছর একটি সভা ডাকার উদ্যোগ নেয়া হলেও মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ফাইল আটকে যায়। বৈঠক হলে মন্ত্রীকে অনেক কিছুর জবাব দিতে হবে, এ আশংকাতেই নাকি তিনি বৈঠক আহ্বানের ফাইল আটকে দেন!
অনেক দালাল স্থানীয় মসজিদের ইমামদেরকে নাকি কাজে লাগায়। গ্রামগঞ্জ থেকে হজযাত্রী সংগ্রহে অনেক সময় এসব দালালদের খপ্পরে হজ এজেন্সিও জিম্মি হয়ে পড়ে। আসলে বাংলাদেশে এখন কৃষকরা জিম্মি, কারখানার শ্রমিকরা জিম্মি, হজ যাত্রীরাও জিম্মি! বাংলাদেশে অন্ধকারের শক্তিই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী। তাদের কাছে সবাই জিম্মি। সবাই অসহায়। তাই তারা সবকিছু নিয়ে বাণিজ্য করে। তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, দারিদ্র্য নিয়ে ব্যবসা করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে, জনগণের দুর্ভোগ, রোগ-শোক, ত্রাণÑ সবকিছু নিয়েই ব্যবসা করে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দেশে ঠগ-জোচ্চুরি থাকবে না, লুটপাট, প্রতারণা থাকবে না, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে, কারও অসম্মান হবে নাÑ এ স্বপ্ন নিয়েই মানুষ জীবনের মায়া ছেড়ে, ঘর-সংসার ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। আমরা ৯ মাস যুদ্ধ করে যে স্বাধীনতা পেলাম, যার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিলো, কয়েক লাখ মা-বোন সম্ভ্রম দিলো, দেশের সাধারণ মানুষ কী অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট ভোগ করলো! কিন্তু হায়, দুর্ভোগ গেল না, অসম্মান গেল না। মানুষ ঠগবাজদের বঞ্চনা, প্রতারণা থেকে মুক্তি পেল না।
মানুষ ফরজ আদায় করতে হজে যাবে, সেখানেও প্রতারণা, জালিয়াতি! সাধারণ মানুষের বিপদ পদে পদে। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেমেছিল বাঙালিরা। মুক্তিযুদ্ধ করে সেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ করতে হয় ৯ মাস। মিত্র দেশ হিসেবে প্রতিবেশি ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করে। ভারতের সাহস এবং শক্তি ছিল সে সময়ের সোভিয়েট ইউনিয়ন। জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল ত্রাতার ভূমিকায়। নিরাপত্তা পরিষদে দু-দুবার ভেটো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কিছু পশ্চিমা দেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দূরভিসন্ধি নস্যাৎ করে দেয়। আমাদের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত হয়। তাদের প্রতি আমরা অশেষ কৃতজ্ঞ।
তা সত্ত্বেও এ মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাকামী ৩০ লাখ মানুষকে প্রাণ উৎসর্গ করতে হয়। সম্ভ্রম খোয়াতে হয় কয়েক লাখ মা-বোনকে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এতো কম সময়ে এত বিপুল প্রাণহানী এবং ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বে দ্বিতীয় আর কোন জাতি দিয়েছে, এমন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক কোটি মানুষকে অনেকটাই অপ্রস্তুত অবস্থায় ভিটেমাটি ছেড়ে সহায়-সম্বলহীনভাবে ভারতে আশ্রয় নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পার করতে হয়।
স্বাধীনতার জন্য মানুষের এই যে ত্যাগ এবং অসহনীয় কষ্ট স্বীকার, তার পেছনে কাজ করেছে তাদের কিছু স্বপ্ন। প্রথমত, স্বাধীনতাহীনতায় কোন বাঙালি বাঁচতে চায়নি। এর বাইরে আরও স্বপ্ন দেখেছেÑ পাকিস্তানের দুঃসহ উপনিবেশিক শাসন, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা, বৈষম্য থেকে মুক্তি লাভের। সবাই একটি গণতান্ত্রিক, অসম্প্রদায়িক দেশ পাবে, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই মিলে-মিশে সুখে-শান্তিতে বাস করবে। সবাই ন্যায় বিচার, সুশাসন পাবে, গণতন্ত্র পাবে। অবাঙালি মুসলমানের হাতে বাঙালি মুসলমান বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার হলেও, সকল মানবিক এবং মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হলেও, এবার বাঙালির শাসনে সকলের সকল শোষণ-নিপীড়ন, বৈষম্য-বঞ্চনা থেকে মুক্তি মিলবে। এ বিশ্বাস সব বাঙালি মানসে দৃঢ় ছিল যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে বাঙালি শাসক হয়ে কোন বাঙালিকে শোষণ করবে না। দাবি তুলে, জীবন দিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে না। গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায় বিচারের দাবি নিয়ে রাজপথে নামতে হবে না।
বাঙালিদের জন্য সবই অলীক স্বপ্ন। তারা মুসলমান হয়েও মুসলমানদের হাত থেকে রেহাই পেল না। বাঙালি হয়েও বাঙালি শাসকদের কালো হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি হাজিরাও না। হজ পালন করতে গিয়ে তাদের প্রতারকদের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে। নাগরিক জীবনে যত রকম দুর্ভোগ আছে, বঞ্চনা আর অভিশাপ আছে, সবকিছুর শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। দুর্ভোগের হাত থেকে সাধারণ মানুষের পরিত্রাণ লাভের কোনই পথই আজ আর দেখা যাচ্ছে না।
লেখক : প্রধান সম্পাদক, ঠিকানা।
২৬ জানুয়ারি ২০১৮, নিউইয়র্ক।