হতাশ করছে তরুণরা, চিন্তায় বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্ট : সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীমদের বিকল্প কে? যত দিন গড়াচ্ছে এ প্রশ্নটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর ভর করছে দুশ্চিন্তা হয়ে। বেশ কয়েকটি নামও তাদের বিকল্প হিসেবে দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এখনো তারা আস্থার প্রতীক হতে পারেননি। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে এনামুল হক বিজয় ও সৌম্য সরকার ধারাবাহিকতা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মুশফিকের বিকল্প হিসেবে তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ও নূরুল হাসান সোহানকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। সাব্বির রহমান রুম্মান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজরাও পরিপূর্ণ ভরসার বার্তা দিতে পারেননি। আর এ জন্যই জাতীয় দলের ম্যানেজার ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের কণ্ঠে একরাশ হতাশা।

বিশেষ করে সৌম্য, লিটন ও সাব্বির সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। কোটনি ওয়ালশ হয়তো দুই-চার দিনের মধ্যে ফিরবেন ঢাকায় তখন হয়তো বসে প্ল্যান করা হবে। যেহেতু প্লেয়াররা এখন প্রিমিয়ার লিগে ও পরে বিসিএল খেলবে, ওদের ম্যাচ খেলতে দেয়া উচিত। যত খেলবে তত শিখবে। আমরা খুবই চিন্তিত যে বিষয়টা নিয়ে, আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা একদম হচ্ছে না। শেষ কয়েকটা বছর ধরে রিয়াদ, মুশফিক, তামিম যেভাবে খেলছে তরুণরা সেভাবে পারছে না।’

তিন ফরমেটের ক্রিকেটেই তামিমের সঙ্গী হিসেবে সৌম্য সরকারকে বেশ লম্বা সময় ধরেই দলে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু একটি দুটি ম্যাচ ভালো করলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ১০ টেস্টে ২৯৩৬ গড়ে করেছেন ৫৫৮ রান। নেই কোনো সেঞ্চুরি, শুধু চারটি ফিফটিই সম্বল। তবে তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশা ওয়ানডে ও টি-২০-তে। সেখানেও তিনি নিজের প্রতিভার আলো দিয়ে দলের ভরসা হতে পারেননি। ৩২ ওয়ানডেতে ৩৪৫৩ গড়ে ৯৯৭ রান করেছেন মাত্র ১ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিতে। আর ৩৩ টি-২০ ১৯২৪ গড়ে করেছেন ৬৩৫ রান।

সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে দেখা পেয়েছেন প্রথম ফিফটির। সাব্বির ১১ টেস্টে ২৪০৫ গড়ে করেছেন ৪৮১ রান। নেই কোনো সেঞ্চুরি ও তবে হাঁকিয়েছেন ৪ ফিফটি। যদিও সাব্বিরকে বলা হয় টি-২০ ও ওয়ানডে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান। কিন্তু এ দুই ফরমেটেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। শুরুতে তাকে খেলানো হয়েছে লেজের দিকে শক্তি বাড়াতে। এরপর তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় মিডল অর্ডারে। কিন্তু ৫১ ওয়ানডেতে তিনি ১০২৭ রান করেছেন, গড় ২৫৬৭। এখানেও তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৫ ফিফটি। ৩৯ টি-২০ ম্যাচে ৮৮৩ রান করেছেন ২৭০৬ গড়ে। হাঁকিয়েছেন ৪ ফিফটি।

লিটন কুমার দাস ৮ টেস্টে ২৯৬১ গড়ে ৩৮৫ রান করেছেন। কিন্তু তার কাছে টেস্টেই সবচেয়ে বেশি আশা ছিল টিম ম্যানেজম্যান্টের। কারণ ঘরোয়া চার দিনের ক্রিকেটে তিনি সেরা পারফরমার। তার খেলা ১২ ওয়ানডে ম্যাচে লিটন ছিলেন একেবারেই আড়ালে। মাত্র ১৫০০ গড়ে করেছেন ১৩৬ রান। আর ৯ টি-২০ ১৭০০ গড়ে করেছেন ১৫৩ রান। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ, দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দলকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে তামিম, সাকিব ও মুশফিকদের দিকেই। এমনকি শ্রীলঙ্কা আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও ছিল একই চিত্র। দলের কোনো সিনিয়র ক্রিকেটার ইনজুরিতে পড়লে তরুণদের মধ্য থেকে বিকল্প পাওয়া বেশ কঠিন কাজ।

খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘যদি লিটন, সাব্বির, সৌম্যর মাঝে সেই ধারাবাহিকতাটা থাকত তাহলে হয়তো এক-দুইটা প্লেয়ারকে পরের সিরিজে বিশ্রাম দিতে পারতাম। সামনের দুই বছর অনেক খেলা হবে বাংলাদেশের। তাই এটা এখন আমাদের জন্য বড় চিন্তার বিষয়।’