হাজার বছর পরে কেউ কি মনে রাখবে?

সৌরভ কান্তি দাস : হীরামুক্তামানিক্যের ঘটাযেন শূন্য দিগন্তের ইন্দ্রজাল ইন্দ্রধনুচ্ছটা যায় যদি লুপ্ত হয়ে যাক শুধু থাক এক বিন্দু নয়নের জলকালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল এ তাজমহল।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শাহজাহান)
মানুষ বাঁচে তার কর্মে- প্রচলতি কথা হলেও ভাবনার বিষয় হলো কত দিন বাঁচে? ৫০ বছর, শত বছর, ২০০ বছর? কিন্তু হাজার বছর কি বাঁচে? কোটি কোটি মানুষ পৃথিবীতে আসেন আবার চলেও যায়। কিন্তু হাজার বছর পরও ইতিহাস কয়জনকে মনে রাখে?
‘বাঁচেন’ তারাই যারা তাদের ‘কর্মে’ শুধু মানুষের মনে নয়, ইতিহাসের পাতায়ও স্থান করে নিয়েছেন। কবিগুরু সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লিখতে গিয়ে এর যথার্থ উদাহরণ টেনেছেন। সম্রাট শাহজাহান এক তাজমহল গড়ে ‘শুভ্র সমুজ্জ্বল’ হয়ে আছেন। কিন্তু সম্রাট শাহজাহানকে কি আজ থেকে শত বছর পর মানুষ মনে রাখবে?
আসলে ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটা খোদাই করে নেয়ার জন্য কী কী করা দরকার? Ñএ বিষয়ে মার্কিন সংবাদিক জারিয়া গর্ভেট খুঁজেছেন আরো খানিকটা বিস্তর। বিবিসির প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, শ্বেত পাথরের বড় একটা সমাধি দেখতে পশ্চিম লন্ডনের হাইগেটে গিয়েছিলাম। দেখলাম বাক্সের মতো বিলাশ আকৃতির একটি সমাধি। তার নিচে কুকুরের ভাস্কর্য। প্রথম দেখায় মনেই হবে না যে এটা ভাস্কর্য। সমাধির গোড়া থেকে উপর পর্যন্ত অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাজানো রয়েছে শ্বেত পাথর। তার উপর লেখা রয়েছে, টম সয়ারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। এ লেখাটি দেখেই আমাদের গাইড জিজ্ঞেস করল, আমরা কেউ টম সয়ার সম্পর্কে জানি কী না। স্বভাবতই আমরা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলাম।
টম সয়ার ইংল্যান্ডের প্রথম বক্সিংয়ে বেয়ার নাকেল (খালি হাতে বক্সিং) বিজয়ী। একজন রাজমিস্ত্রি হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে খেলার জগতের জনপ্রিয় একজন তারকা হয়ে উঠেন তিনি। তার ফাইনাল ম্যাচে হ্যাম্পশাযারের মাঠে কমপক্ষে হাজারো দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তার জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে ফাইনাল ম্যাচে তৎকালীন মন্ত্রী লর্ড পামারস্টোন উপস্থিত ছিলেন, এমনকি রানী ভিক্টোরিয়াও খেলার ফলাফল জানতে চেয়েছিলেন। ১৮৬৫ সালের ৮ নভেম্বর মারা যান এ কিংবদন্তি। তার শেষকৃত্যে অনুষ্ঠানে দুই মাইল এলাকাজুড়ে প্রায় ১ লাখ শুভাকাক্সক্ষী উপস্থিত ছিলেন। ওই দিনের দৃশ্য দেখার জন্য অনেকেই গাছ ও মন্দিরের মিনারে চড়ে ছিল। মৃত্যুর ১৫২ বছর পরেও তার সুনামে এতটুকু চিড় ধরেনি। বক্সিং দুনিয়ায় এখনো একজন কিংবদন্তি তিনি। তারপরও পৃথিবীতে এখনো এমন মানুষ পাওয়া যাবে যার কাছে টম সয়ারকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
সময়ের পরিক্রমায় অনেক ব্যক্তিই খ্যাতির উচ্চশিখরে আরোহণ করেও সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেননি। তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হরিয়ে গেছে অর্জিত সব খ্যাতি। রানী ভিক্টরিয়ার যুগে বক্সিং খেলাটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খেলা হলেও টম সয়ারের মতো আরো কোনো ব্যক্তি এতটা তারকাখ্যাতি লাভ করতে পারেননি।
রোমান সম্রাট নিরো তারকা গ্ল্যাডিয়েটর স্পাইকোলাসের প্রতি গভীর অনুরক্ত ছিলেন। তাই যখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাকে হত্যা করা হবে। তখন এ কাজটি যেন গ্ল্যাডিয়েটর স্পাইকোলাসই করেন এ জন্য আরজি জানিয়েছিলেন।
কেন কিছু মানুষ মারা যাওয়ার আমরা তাদের ভুলে যাই? আবার কেন কিছু মানুষকে আমরা মনে রাখি, সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের মিশিয়ে ফেলি, মনোসমীক্ষণ করি, তাদের জীবন, মৃত্যু অর্জন নিয়ে গল্প, উপন্যাস ও সিনেমা তৈরি করা হয়?
অবশ্য চিরস্থায়ী খ্যাতির পেছনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে, প্রতিযোগীর ঈর্ষা এবং তাদের ভাষা ও সভ্যতা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অন্যতম। তার পরও এমন কিছু গোপনীয় রহস্য রয়েছে যার কারণে মৃত্যুর বহুকাল বাদে অনেকে তাদের খ্যাতি চিরকাল ধরে রাখতে পেরেছেন। আবার অনেকে ঠিকঠাক মতো শুরু করলেও শেষ করতে পারেননি। মৃত্যুর পর আরো দশজনের মতো তাদেরও ভুলে গেছে মানুষ।
ব্যক্তিত্ব ধরে রাখুন, তবে বাড়াবাড়ি নয়
এ বিষয়ে স্যান্ট এন্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক থমাস হ্যারিসন বলেন, প্রাচীন গ্রিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে চিরখ্যাতি অর্জন করাটা ছিল জাতীয় সমস্যা। তাদের মূল লক্ষই ছিল খ্যাতি অর্জন। বিষয়টি হাস্যকর হলেও বোকামি নয়। বিভিন্ন উপায়ে মানুষ খ্যাতি অর্জন করতে পারে। মোটকথা, নিজের নাম স্পষ্টভাবে অন্যের মুখে শুনাটাই এখানে সার্থকতা।অন্যরা তোমার সম্পর্কে কি জানে? Ñএ ধারণাটি হোমারের কবিতার মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। যেখানে যুদ্ধের ময়দানে খ্যাতি অর্জনের জন্য, ঝুঁকি ও ত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
আসলেই অন্যরা আপনার সম্পর্কে কিভাবে এ বিষয়টি জানার আগে, আপনার সম্পর্কে কি জানে সে বিষয়টা জেনে নেয়া জরুরি। তবে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে, সৈনিকরা দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দেন। এখানে ব্যক্তির খ্যাতির চেয়ে দেশের খ্যাতিটা মুখ্য বলে মনে করেন এক্সিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ের অধ্যাপক লিটেন মিচেল।
বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পেশা নির্বাচন করুন
যারা উচ্চ খ্যাতি সম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করতে পারেননি তাদেরও সাধারণ মানুষের মনে বেঁচে থাকার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তারা যদি নিজের লক্ষ্যে অটল থাকেন। দার্শনিকদের কথাই দরুন, তারা যে শুধু সমাজের একটি নির্দিষ্ট স্তরের মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন এমন নয়, বরং তাদের প্রভাব ছিল ও খ্যাতি ছিল সমাজের সর্ব স্থরে। অধ্যাপক লিটেন মিচেলের মতে, দার্শনিকদের মনে রাখার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে তারা মানুষের চিন্তার ধরনকে পাল্টে দিয়েছিলেন। তবে প্রাচীন দার্শনিকরা খ্যাতি লাভের জন্য কিছু সুবিধাও ভোগ করেছিলেন। কারণ ওই সময় সমাজে অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। তবে খ্যাতি লাভের জন্য স্বতন্ত্র চিন্তা বা ধারণার কোনো বিকল্প নেই। ২০১৩ সালে একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির খোঁজে বের হন। এ ক্ষেত্রে তারা সেসব ব্যক্তির একটি তালিকা করেন, যাদের ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ তালিকার সবার উপরে কার্ল মার্ক্সের নাম উঠে আসে।
তবে অনেকেই মনে করেন, খ্যাতি বা সাধারণ মানুষের মনে বেঁচে থাকার জন্য পেশা হিসেবে রাজনীতিই উৎকৃষ্ট। তবে এখানে শর্ত হচ্ছে স্বতন্ত্র থাকা। মনে রাখা ভালো, বিশ্বে সে সব রাজনীতিক এখনো স্মরণীয় যাদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, দেশ পরিচালনার নীতি, অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।
বর্তমান সময়ে এমন কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি পাওয়া যাবে, যার মৃত্যুর এক হাজার বছর পরেও মানুষ তাকে মনে রাখবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই কম্পিউটারের জনক এলেন টুরিংয়ের কথা উল্লেখ করেছেন লিটেন মিচেল। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেই এলেন টুরিং জনসম্মুখে আসতে পেরেছেন কারণ তার সম্পর্কে ভালো কথা বলা হয়েছিল তাই। তবে একুশ শতকে এমন কিছু রাজনৈতিক ও বিশ্ব নেতা রয়েছেন, যাদের প্রভাবও অতুলনীয়। এ ক্ষেত্রে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটেনের প্রধামন্ত্রী থেরেসা মের মধ্যে একটি তুলনা করা যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি ট্রাম্প তার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরও দির্ঘদিন মানুষ তাকে স্মরণ রাখবে। সেটা তার ভালো কাজও হতে পারে আবার হটকারী সিদ্ধান্তের জন্যও হতে পারে।
হ্যারিসন বলেন, আমি মনে করি না বুদ্ধিজীবীদের মানুষ বেশি দিন মনে রাখে। তবে হাস্যকর হলেও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিরা। তাদের খুব ছোট পরিসরে হলেও একটি গোষ্ঠী মনে রাখে। কাজেই পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের ভেতরের সম্ভাবনা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অভিজাত হওয়া যাবে না প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, অভিজাত্যই আজীবন খ্যাতির নিশ্চয়তা দেবে। কিন্তু এ ধারণার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ক্রিস রোজেক। তার মতে, আভিজাত্য কখনই আজীবন খ্যাতির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না, ১০০০ বছর পর মানুষ ব্রিটেনের রাণীকে মনে রাখবে। অধিকাংশ অভিজাত পরিবারই বংশানুক্রমিক। একজনের মৃত্যুর পর অন্যজন এসে ওই জায়গা দখল করে। ১০০ বছর বাদে মানুষ প্রিন্সেস ডায়ানাকে মনে রাখবে বলেও আমি মনে করি না।
ভাগ্যবান হওয়া
চির খ্যাতি লাভের জন্য ভাগ্য একটি বড় বিষয়। অনেকে হয়তো দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। তার পরও খ্যাতির পেছনে ভাগ্য বিরাট ভূমিকা পালন করে। অনেক সময় দেখা গেছে, সমজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও মৃত্যুর কিছু দিন পরে মানুষ ভুলে যায়। আবার অনেকেই অল্পবয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন ঠিকই; কিন্তু মৃত্যুর হাজার বছর বাদেও মানুষ তাদের মনে রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, মিশরের কিশোর ফেরাউন টুটেন খানমের নাম। যে মাত্র ১৮ বছর বয়সে খ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩ অব্দে মারা গেলেও মৃত্যুর হাজার বছর পর মানুষ তার কথা মনে রেখেছে। অথচ বলার মতো, তেমন কোনো অবদান তিনি রেখে যেতে পারেননি। এ রকম হাজারো ঘটনা আছে, যেখানে ব্যক্তি তেমন বিশেষ কিছু করতে না পারলেও মৃত্যুর হাজার বছর পরও মানুষ তাদের মনে রেখেছে।
উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া
এখানে উত্তরাধিকার বলতে প্রতিষ্ঠিত কোনো স্মৃতিচিহ্ন রেখে যাওয়াকে বুঝানো হয়েছে। যা মৃত্যুর পরও প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় বহন করবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পরে, আগ্রার তাজমহল, চীনের গ্রেটওয়ালের নাম। তাজমহল যত দিন টিকে থাকবে তত দিন মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নাম থাকবে। তেমনি গ্রেট ওয়ালের সঙ্গে কিন শি হুযাংয়ের নামও ঠিকে থাকবে হাজার বছর। তাই মনত্ত্বাতিকবিদদের দাবি, কাঠামোগত কোনো উত্তরাধিকার ব্যক্তির খ্যাতি ও সুনাম ধরে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। এ ক্ষেত্রে যারা মৃত্যুর পর মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চান, তাদের জন্য এ রকম কাঠামোগত উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া জরুরি।
স্মরণীয় মৃত্যু
একটি স্মরণীয় মৃত্যুও ব্যক্তিকে চির খ্যাতি এনে দিতে পারে। অধিকাংশ বিখ্যাত ব্যক্তিই তাদের ৪০তম জন্মদিন পালন করতে পারেননি। স্মরণীয় মৃত্যুর সঙ্গে যদি নাটকীয়তার বিষয়টি যুক্ত হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। এ রকম, স্মরণীয় ও নাটকীয় মৃত্যু অতীতে অনেকেই খ্যাতি এনে দিয়েছে। ক্লিওপেটট্রার কথাই ধরা যাক, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এ নারী আত্মহত্যা করে ইতিহাসে অন্যতম জায়গা দখল করে রেখেছেন। একই রকম জুলিয়াস সিজারও। সিনেট অধিবেশন চলাকালে সিনেটরদের অতর্কিত হামলায় মারা যান তিনি। তার এ নাটকীয় মৃত্যু চিরখ্যাতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে মনে করেন অনেকেই।
নায়ক হতে না পারলেও খলনায়ক হোন
ইতিহাস যে সব সময় নায়কেই মনে রেখেছে এমন নয়। অনেক খলনায়ক আছেন যাদের কুকর্মের জন্যও মৃত্যুর হাজার বছর বাদে মানুষ তাদের মনে রেখেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ হতে পারেন, অ্যাডলফ হিটলার। এই সারিতে রয়েছে, পেশাদার খুনী জ্যাক দ্য রিপার, জলদস্যু ক্যাপটেন ব্লকবিয়ার্ডও। এ ছাড়া সংগীত শিল্পী জন লেনেনকে হত্যার পর বিখ্যাত হন মার্কা ডেভিড চেম্পম্যান নামে এক খুনী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিশ্বের সব বিখ্যাত ব্যক্তিকে মেরে ফেলার কথাও জানিয়েছিলেন।
ধর্মের প্রবক্তা
ধর্মের প্রবক্তাদের ক্ষেত্রেও মানুষের মনে রাজত্ব করা সহজ। এমন অনেক মানুষ পাওয়া যাবে, যারা জীবদ্দশায় একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে হাজার বছর ধরে মনুষের মনে বিরাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন, যিশু খ্রিস্ট, গৌতম বুদ্ধ। ১৯৫৪ সালে সাইন্টলজি চার্চ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিকে প্রমাণ করেছেন মার্কিন লেখক এল রন হুবার্ডও। প্রতিষ্ঠানটি খ্রিস্ট ধর্মীয় বিভিন্ন আচার ব্যবহার নিয়ে কাজ করে।
উচ্চ মননশীল হওয়া
সর্বশেষ, যারা চিরখ্যাতি পেতে চান, তাদের উচ্চ মননশীলতা অর্জনে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। সমৃদ্ধির বিষয়টি বুঝাতে একটি কথা প্রচলতি আছে, তারা ক্রোসাসের মতোই সৃমদ্ধি। আসলে এ কথাটি একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। যিনি আজ থেকে অন্তত দুই হাজার বছর আগে তুরস্কের লিডিয়া শাসন করেছিলেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর ওই সাম্রাজ্যটি শাসন করেন। তিনি ওই সময় খ্যাতি পেয়েছিলেন উপহারের জন্য। তিনিই রাজা ছিলেন, যেকোনো উপহারের জন্য কখনো কার্পণ্য করেননি। ক্রোসাসই প্রথম কোনো রাজা যে ভালো কাজের জন্য খাঁটি সোনা ও রূপা উপহার দিতেন। বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার দেয়া এসব উপহার বর্তমানে ডেলফিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আপনার ব্যতিক্রমী রুচি ও মনন মৃত্যুর পর মানুষের মনে আপনার জায়গা করে দিয়ে যেতে পারে। তাই কেউ যদি চিরকাল খ্যাতি অজন করতে চায় উচ্চ রুচি ও মননের অধিকারী হওয়াটাও জরুরি।
বিবিসি অবলম্বনে