হাসিনার বাহিনীকে মোকাবিলা করতে হলে কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে

ফোরামের বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বক্তারা

ঠিকানা রিপোর্ট: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বক্তারা স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারও অতীতের মত ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে। তাই শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা না পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফোরামের জতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন।
গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ’র উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়। ফোরাম সভাপতি মৌলানা মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিত্রনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিত্রনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস আহমেদ। কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। কোরআন তেলোয়াত করেন ফোরামের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ গোলাম হোসেন।

অনুষ্ঠানে ফোরামের ২০১৯ সালের নতুন কমিটির সুপার ফাইভ ও প্রধান উপদেষ্টাকে পরিচয় করিয়ে দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন। নতুন কমিটির সভাপতি শেখ হায়দার আলাী, সিনিয়র সহসভাপতি ছাইদুর খান ডিউক, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক এলিজা আক্তার মুক্তা। নতুন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ডাঃ নার্গিস রহমান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নতুন কমিটির প্রত্যেককে ফুলদিয়ে বরণ করে নেন।
ইঞ্জিনিয়ার তানভীর হাসান খান প্রিন্স দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনটি আমাদের সকলকে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়ে পালন করা উচিত। তিনি আসন্ন নির্বাচন প্রসংগে বলেন, বিত্রনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণমানুষের দল। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনের বিকল্প নেই।
গিয়াস আহমেদ শহীদ জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ও শহীদ জিয়ার নাম একই সুতায় গাঁথা। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান নির্বাচন প্রসংগে বলেন, বিত্রনপি নির্বাচনে যাচ্ছে এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিত্রনপি ও জাতীয়তাবাদী ফোরামের পক্ষ থেকে জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে আগমনকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আব্দুল লতিফ সম্রাট তার দীর্ঘ বক্তব্যের শুরুতেই বিনম্র চিত্তে স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তিনি বলেন, সিপাহী জনতা যদি জিয়াউর রহমানকে অক্ষত অবস্থায় ব্যারাক থেকে না আনতো তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস আজ ভিন্নভাবে রচিত হতো। তাই এদিনটি দেশ ও জাতির জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্রবং দেশনায়ক তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিশ্চিত হবে। এটি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে। কারণ ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার অতীতের মত ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবেন। তাই শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা না পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক ফারুক হোসেন মজুমদার, ফোরামের ড. নূরুল আমিন পলাশ, ছাইদুর খান ডিউক,
নাছিম আহমেদ, শেখ হায়দার আলী, হেলালুর রহমান হেলাল, সোহরাব হোসেন, ব্রুকলিন বিত্রনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম জনি, স্টেট বিত্রনপি নেতা খলকুর রহমান, কাজী কামাল, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস সেক্রেটারি কাওসার আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, এডভোকেট আরিফ আর চৌধুরী, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, মোতাহার হোসেন, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোজাম্মেল হক, এলিজা আক্তার মুক্তা, ডাঃ নার্গিস রহমান, ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-জামালুর রহমান চৌধুরী, সালজার খান হৃদ, গোলাম মোস্তফা, মাসুদ রেজা খান, জহিরুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, আবুল কালাম, আশিকুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, তারেক খান, মোঃ আবুবকর, এস এম হাবিবুর রহমান, সুলতানা খানম, সারোয়ার কামাল কামরুজ্জান ও লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করেন নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন।