হিন্দু এসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সরস্বতী পূজা

আটলান্টিক সিটি প্রতিনিধি : সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দেবী সরস্বতী হলেন জ্ঞান-বিদ্যা-সংস্কৃতি ও শুভ্রতার দেবী। তাঁর সৌম্য অবয়ব, শুভ্র বসন, হংস সম্বলিত পুস্তক ও বীণাধারিনী দেবী সনাতনী হিন্দুদের হৃদয়ে এমনভাবেই বিরাজিত। অনন্তকাল ধরে শিক্ষাকে উঁচুস্তরে আসীন করা হয়েছে সনাতন ধর্মে।ঋষিরা ব্রহ্মের অনন্তশক্তির অংশকে একেকজন দেব-দেবীরূপে কল্পনা করেছেন। ব্রহ্মের যে শক্তি বিদ্যা শিক্ষা দান করেন তাঁকে সরস্বতী দেবী জ্ঞ্যানে পূজার্চনা করা হয়। যে কারণে শাস্ত্রে বলা হয়েছে,চতুর্ভুজা ব্রহ্মের মুখ থেকে আবির্ভূতা শুভ্রবর্ণা বীনাধারিণী চন্দ্রের শোভাযুক্তা দেবীই হলেন সরস্বতী। সরস্বতীর ধ্যান, প্রণামমন্ত্র ও স্তবমালা থেকে সামগ্রিক রূপটি হল-‘তিনি শুভ্রবর্ণা শ্বেত পদ্মাসনা, শ্রীহস্তে লেখনী, পুস্তক ও বীণা’।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরের গ্লোবাল মল, জিমি কার্টার বুলেভার্ড, নরক্রস এ গত একুশে জানুয়ারি, রোববার হিন্দু এসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ইনক এর উদ্যোগে বিদ্যা ও ললিতকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর পূজা উদযাপিত হয়।ঐদিন সকাল থেকেই মঙ্গলালোকে উদ্ভাসিত ধূপ-ধূনোর গন্ধে মাতোয়ারা ধরনীতে বেজে ওঠে শান্তির মোহনীয় সুর।
জর্জিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী হিন্দুরা ঐদিন সকালে পুরোহিতের পূজার্চনা শেষে দেবী সরস্বতীর পদচরণে অঞ্জলি ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে।
সরস্বতী দেবীর পূজা উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে নৃত্য ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।সংগীত প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ফারাহ মোয়াজ্জেম চৌধুরী ও দময়ন্তী রুদ্র। জ্যোতিকা ব্যানার্জির সঞ্চালনায় ও চন্দ্রশেখর দত্তের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপস্থিত ভক্তরা প্রাণভরে উপভোগ করেন। এছাড়া স্থানীয় ব্যান্ড দল ‘কাহন’ এর মনোজ্ঞ পরিবেশনা সবাই প্রাণভরে উপভোগ করেন। উল্লেখ্য ১৪তম বারের মতো অনুষ্ঠিত সরস্বতী পূজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সত্যব্রত কর ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাশ রিপন। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সরস্বতী পূজার বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে সরস্বতী পূজার দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।