হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রীকে অপহরণ

রাঙামাটি : রাঙামাটির সদর উপজেলার কতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় গত ১৮ মার্চ দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম নেতা ধর্ম সিং চাকমা আহত হয়েছেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পাশের একটি মেসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এছাড়া হামলাকারীরা সেখানে অবস্থান করা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ধর্ম সিং চাকমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ সোয়া ৯টায় কতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা শাখার সভাপতি ধর্ম সিং চাকমার বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধর্ম সিং চাকমা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুর্বৃত্তরা পাশের একটি মেসে হানা দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থান করা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ হামলার প্রতিবাদে ও অপহৃত দের উদ্ধারের দাবিতে গত ১৮ মার্চ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সংযোগ সড়ক অবরোধ করে হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। সন্ধ্যা ৬টার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে, এ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার জন্য গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ কর্মীদের দায়ী করেছেন ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা। এ ছাড়া হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক নীতি শোভা চাকমা আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই নেত্রীকে অপহরণের নিন্দা ও অবিলম্বে তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

এছাড়া ঢাকা থেকে পৃথক বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস। অবিলম্বে এই দুই নারী নেত্রীকে খুঁজে বের করারও দাবি জানান তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং দুই নারীকে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখে অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধ ও একটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। কারা এই হামলার পেছনে জড়িত ও দুই নারীকে অপহরণ করা হয়েছে কি না বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।