হুজরতিতে আ.লীগ-বিএনপির কাছে জামায়াত ফেল?

মোস্তফা কামাল : বাংলাদেশে ধর্মান্ধতা-ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিকে বিদ্রুপ করে স্মার্টনেস দেখানোর চর্চা অনেকদিনের। আবার সচরাচর নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ধর্মকর্মের শোডাউনও চলে। কে কতো বেশি ধার্মিক, তা জানান দেয়ার প্রতিযোগিতা হয়। এবার তা শুরু হয়েছে বেশি আগেভাগে। হিসাব মতো নির্বাচনের আরো এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। তাহলে কেন এই আগাম হুজরতি?
এ প্রতিযোগিতায় এবার বেশি আগুয়ান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজনীতিতে নানা কথা বলা হলেও এ দলের নেতাকর্মীরা নামাজ-রোজায় বেশি পাকা। অন্যদের ইসলামে ভেজাল আছে দাবিও তাদের। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ যোগ করার বাহাদুরি আছে বিএনপির। জাতীয় পার্টি তো ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ করার হকদার। এর মাঝেই বিএনপির সাম্প্রতিক সমাবেশগুলোতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জান্নাত না পাওয়ার বার্তা দেয়ার রহস্য কি? কি কি কারণে প্রধানমন্ত্রীসহ এ সরকারের লোকেরা জাহান্নামে যাবেন- কোরআন-হাদিসের আলোকে সেই বর্ণনা দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। বদদোয়ার সমান্তরালে আগামীতে আল্লাহর রহমতে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে বলেও দাবি করছেন। জবাবে আল্লাহকে হাজির-নাজির করে টেনে আনছে আওয়ামী লীগও। দলের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ক্ষমতার মালিক আল্লাহ এবং আল্লাহর মেহেরবানীতেই তারা এতোদিন ক্ষমতায় আছেন। ইনশাল্লাহ আগামীতে আবারও আসবেন। তাহলে বিএনপি কিভাবে ‘আল্লাহর রহমতে’ ক্ষমতা নিশ্চিত করবে? এ সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে দেখেছে বিএনপি। আবার নির্বাচন করেও অভিজ্ঞতা নিয়েছে। এ দুয়ের মাঝে নির্বাচন ঠেকানো বা বানচালের চেষ্টা করেও হেরেছে চরমভাবে। এ তিনের বাইরে কোন ম্যাজিকে এখন আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমতার আশা বিএনপির?
নির্বাচনী মৌসুমে বিভিন্ন দলের নেতাদের নামাজের ওয়াক্ত ছাড়াও মসজিদে ঢুকে পড়া, বেশি বেশি জানাযার নামাজে ছুটে যাওয়া, পীর-পয়গম্বরের মাজার জিয়ারত, দোয়া-মাহফিলে শরীক হওয়ার প্রতিযোগিতায় মানুষ বিনোদিত হয়। জামায়াতের ‘যা করে আল্লায়, ভোট দেবো পাল্লায়, আওয়ামী লীগের ‘ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ’ ধরনের স্লাগানের সুর মানুষের কাছে ভোটরঙ্গ। এ রঙ্গের মাঝেই কেন ‘আল্লাহর রহমতে’ আগামীতে বিএনপির ক্ষমতার দখল পাওয়ার ‘জিন্দাবাদ আওয়াজ’? এর কাউন্টার হিসেবে নিয়মিত নামাজ-রোজা, তাহাজ্জতসহ নফল ইবাদতে এগিয়ে থাকার জানান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ইসলামের খেদমতে বেশি অবদানের কৃতিত্ব প্রমাণসহ দাবিও করছেন তারা। সেইসঙ্গে বিএনপির চেয়েও বেশি করে ‘বিসমিল্লাহ’ জপছেন। বড় দু’দলের ধর্ম চর্চার তোড়ে আচানকভাবে মার খাচ্ছে এ কর্মে একসময়ের সোল এজেন্সি নেয়া জামায়াত। এমনিতেই তারা মাঠ ছাড়া। রাজনীতিতে নিষিদ্ধ না হলেও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নেই। ডানে-বামে তাল মিলিয়ে কোনোমতে সময় পার করলেও ধর্মের দোহাইতে এগোচ্ছে না। বরং ধর্মের আওয়াজ থেকে পিছু হটছে। নতুন নামে ইসিতে নিবন্ধনের ধর্ণা দিতে গিয়ে তারা ইসলাম-জামায়াত দুই শব্দই লুকিয়ে ইংরেজি নামে ঝুঁকেছে। এক গ্রুপ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি- বিডিপি নামে আবেদন করেছে ইসিতে। এর আগে, ২০২০ সালের ২ মে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের একটি গ্রুপ নিজেদের সংস্কারপন্থী ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করে ইংরেজি নাম এবি পার্টি (আমার বাংলাদেশ পার্টি)-র ব্যানারে। আরবি-উর্দু নাম ছেড়ে এখন জামায়াতের ইংরেজি ধরার পেছনে কী মাজেজা? লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন, ঢাকা।