১০০ জনের পকেটে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : কিছুদিন নীরব থাকার পর অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা আবার জমজমাট হয়ে উঠেছে। দুই বছর আগেও এই অবৈধ ব্যবসা কেবল ঢাকা শহরেই সীমিত ছিল। এখন তা মহানগর, বড় বড় জেলা শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দেশে আড়াই থেকে তিন কোটি মিনিট অবৈধ ভিওআইপি কল হচ্ছে। এতে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। এই অর্থ চলে যাচ্ছে অসাধু ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের কাছে, যাদের সাথে রয়েছেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বর্তমান মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এই অসাধু চক্রের সহযোগী নন বলেই জানা যায়। তবে এই অসাধু ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের কয়েকজন চিহ্নিত হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘটনায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা কথাও উঠছে।
ভয়েসওভার ইন্টারনেট প্রটোকলের (ভিওআইপি) মালিকদের সবাই প্রভাবশালী। সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিরাই এর মালিক। প্রকাশ্যে না থেকেই ক্ষমতাসীন দলের অনেক ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত। এদের সহযোগিতা করছেন বিটিআরসির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জানা যায়, দৈনিক তিন কোটি মিনিট অবৈধ কল আসছে অবৈধ পথে। চার বছর আগেও আন্তর্জাতিক কল থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এখন তা নেমে এসেছে ৮০০ কোটি টাকা। দৈনিক প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা কার বা কাদের পকেটে যাচ্ছে, তার কোনো হদিস নেই।
এ ব্যাপারে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, সচিব, বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। মন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলদের নির্লিপ্ততার কারণেই তাদের কারো কারো এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আসছে। আবার কেউ কেউ বলেন, চাকরি হারানোর ঝুঁকি নিতে চান না বলেই তারা নীরবতা পালন করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীতিকথাও ইদানীং তারা খুব একটা বলেন না।
বিটিআরসি গত বছর ঢাকা ও বাইরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম আটক করে। বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের পর অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা কী করে হাজার হাজার অবৈধ সিম ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করছে, বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ সে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টাও করে না। রাজধানীর গুলশান, নিউ ডিওএইচএস, বসুন্ধরা, বারিধারা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নিকেতন এলাকায় অবৈধ ভিওআইপির জমজমাট ব্যবসা চলে আসছে। রেডিলিংকের মাধ্যমে বিভিন্ন মহানগর ও জেলা শহরে এই অবৈধ ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো রাঘববোয়াল এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত, উচ্চপর্যায়ে সে কথাও জানা রয়েছে। রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী সদস্য সাবেক, বর্তমান কয়েকজন এমপি বিটিআরসি ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের শতাধিক লোক এই অবৈধ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। দৈনিক কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকা এদের পকেটে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে এদের একটি খণ্ডিত তালিকাও দেওয়া হয় এক বছর আগে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।