১০০ টাকার জন্য ভাইকে খুন

সাতক্ষীরা : কলারোয়ায় পাওনা মাত্র ১০০ টাকা দিতে না পারায় রুবেল (২০) নামে এক ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে তার চাচাতো ভাই আবু সাঈদ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের উত্তর দিগং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রুবেল ওই গ্রামের হাসানুর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতকের মা তরুণা বিবিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই ইমামুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাই (রুবেল) ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ থাকায় ভ্যান চালাতে পারেনি, সারা দিন বাড়িতে ছিল। রাত ৮টায় আবু সাঈদ বাড়িতে এসে টাকা চায়। রুবেল দুদিন পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে আবু সাঈদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করে। ঘটনার সময় বৃদ্ধ দাদা মালেক সরদারসহ বাড়ির সদস্যরা রুবেলকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারপিট করে আবু সাঈদ। একপর্যায়ে ধারালো ছোরা দিয়ে গলায় আঘাত করলে রুবেল মাটিতে পড়ে যায়। পরে আবু সাঈদ তার গলা কেটে দিয়ে পালিয়ে যায়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত ডাক্তার বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই (পথিমধ্যে) রুবেলের মৃত্যু হয়েছে।
ইমামুল আরও বলেন, আমার সামনেই ভাইকে গলা কেটে হত্যা করেছে চাচাতো ভাই আবু সাঈদ, আমি ভয়ে কোনো কথা বলতে পারিনি।
নিহতের বৃদ্ধ দাদা মালেক সরদার জানান, ঘটনার সময় আমিসহ বাড়ির সদস্যরা রুবেলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছি; কিন্তু আবু সাঈদ আমাকে মারধর করেছে। আমার সামনে এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করল। আর দাদা হয়ে আমি কিছুই করতে পারলাম না।
নিহতের স্ত্রী তাসলিমা জানান, তিনি আশাশুনি উপজেলায় বাবার বাড়িতে ছিলেন। রাতে খবর পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে কলারোয়ায় এসেছেন। তিনি একটি কন্যাসন্তানের (৯ দিন বয়স) মা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিজের মেয়েকে প্রথম দেখার জন্য রুবেলের আশাশুনিতে যাওয়ার কথা ছিল। মেয়েকে তার আর দেখা হলো না। মাত্র ৯ দিন বয়সেই বাবাকে হারাল আমার মেয়ে। কথা বলতে বলতেই মূর্ছা যান তাসলিমা কলারোয়া থানার ওসি বিপ্লব দেবনাথ জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাত সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেরিনা আক্তার ঘটানস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহত রুবেলের ছোট ভাই ইমামুল বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ে ব্যবহƒত ছোরাটি জব্দ এবং মামলার আসামি তরুণা বিবিকে (ঘাতক আবু সাঈদের মা) গ্রেপ্তার করে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় আদালতের মাধ্যমে তাকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
নিহত রুবেলের এক আত্মীয় জানান, ময়নাতদন্ত শেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর রুবেলের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতেই তাকে দাফন করা হয়।