১৯৮৮ সালে ইরান লিগ চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে বিজয়ী মোহামেডান

স্পোর্টস রিপোর্ট : ফুটবলে ইরানের জাতীয় দলকে বাংলাদেশ হারাবে তা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। হয়তো কোনো দিন সম্ভবও নয়। জাতীয় দল না হলেও ইরানের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবকে হারানোর যে রেকর্ড রয়েছে বর্তমান প্রজন্মের ক্রীড়ামোদীরা তা কি বিশ্বাস করবে? প্রায় ৩০ বছর আগে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৮৮ সালে জুলাইয়ে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান ক্লাব কাপ ফুটবলে বাছাইপর্ব লড়াই। ঢাকা মোহামেডান, শ্রীলঙ্কার সান্ডোর্স ও ইরানের পিরুজি ক্লাব সেই আসরে অংশগ্রহণ করে। ইরান চ্যাম্পিয়ন পিরুজি। তাই স্বাভাবিকভাবে তারাই ছিল ফেবারিট। ঘরের মাঠে মোহামেডান প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে দুর্বল সান্ডোর্সের বিপক্ষে। জাতীয় দলের সাতজন খেলোয়াড় নিয়েও ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি। সান্ডোর্স আবার পরের ম্যাচে শোচনীয়ভাবে হেরে যায় পিরুজির কাছে। এ অবস্থায় মোহামেডানের সঙ্গে ড্র করলেই চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে ইরান চ্যাম্পিয়নরা। ড্র নয়, মাঠভরা দর্শকরা নিশ্চিত ছিলেন পিরুজির সামনে দাঁড়াতেই পারবে না মোহামেডান। শোচনীয় হারে মাঠ ছাড়বে নাসের হেজাজির শিষ্যরা। ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিট পরই গোল করে পিরুজি সেই আভাসও দিয়েছিল। ওই সময়ে ইরানের জাতীয় দলের বেশ কজন খেলোয়াড় ছিলেন পিরুজিতে। তাদের খেলা দেখতেই যানবহন ধর্মঘট সত্ত্বেও গ্যালারি ভরে গিয়েছিল। হেজাজি ছিলেন ইরানের জাতীয় দলের খেলোয়াড়। ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপে তিনি ইরানের গোলরক্ষক। মোহামেডানের কোচ হওয়ায় স্বাগতিকদের উপকারে আসে। তিনি ইরানের কৌশল বুঝে ছক এঁকে কায়সার, কানন, সাব্বিরদের মাঠে নামান। সময় যত গড়াতে থাকে মোহামেডান তেলে-বেগুনে জ্বলতে থাকে। গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আক্রমণের পর আক্রমণ। ভেঙে পড়ে পিরুজির রক্ষণভাগ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের তরুণ সালাহ্উদ্দিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পরিকল্পিত আক্রমণে তারই গোলে সমতায় ফিরে মোহামেডান। পরে সালাহ্উদ্দিন পুনরায় গোল করলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ইরান চ্যাম্পিয়নকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথম দল হিসেবে এশিয়ান ক্লাব কাপে চূড়ান্তপর্বে উঠে যায়। পরের দিন, অধিকাংশ দৈনিকে যা শীর্ষ নিউজে স্থান পেয়ে যায়।
জয়ের নায়ক সালাহ্উদ্দিনকে নিয়ে দর্শকদের সেকি উল্লাস
চূড়ান্তপর্বেও মোহামেডানের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। কাতার আল সাদ ও উত্তর কোরিয়া চ্যাম্পিয়ন এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে ড্র। এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে মোহামেডানের স্থান ছিল সাতে। ৩০ বছর আগের ঘটনার স্মৃতিচারণ করার একটাই উদ্দেশ্য এএফসি ক্লাব কাপে এবার বাংলাদেশের দুটি ক্লাব ঢাকা আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং লড়বে। আবাহনীর খেলা মার্চে। সাইফ আজই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মালদ্বীপ টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে লড়বে। ৩০ জানুয়ারি মালেতে অ্যাওয়ে ম্যাচ। এএফসি কাপে বাংলাদেশ দলগুলো কোনো চমকই দেখাতে পারছে না। অংশগ্রহণ করাটাই এর মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের ফুটবলে বড় প্রাপ্তি বলে আহামরি কিছুই নেই। তবে ৩০ বছর আগে ইরান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে মোহামেডানের সেই ঐতিহাসিক জয় এখনো জেগে আছে দর্শকদের মধ্যে। সেই স্মৃতি অম্লান।