২০২১ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হতে পারে বাংলাদেশেও

স্পোর্টস ডেস্ক : দুই বছরের ব্যবধানে ক্রিকেটের দুটি বড় আসরের আয়োজক দেশ হওয়ার কথা রয়েছে ভারতের। নিজেদের মাটিতে ২০২১ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০২৩ বিশ্বকাপ আয়োজন করার ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এরই মধ্যে নানা রকম পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি থেকে বেশ খারাপ একটা খবরই পেল তারা। সংস্থার এক বৈঠকের পর আইসিসি ভারতীয় বোর্ডকে জানিয়েছে, করমুক্তি না দিলে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। যদিও টুর্নামেন্টের বাকি এখনও তিন বছর, তবু ভারতের বিকল্প স্বাগতিক দেশের ব্যাপারেও ভেবে রেখেছে আইসিসি। ভারতীয় টাইম জোনের কাছাকাছি থাকা অন্য কোনো দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় সংস্থাটি। তাই বিকল্প আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার নাম ভেবে রেখেছে তারা। কর নিয়ে চলা সমস্যাটা মূলত বিসিসিআই নয়, ভারত সরকারের সৃষ্ট। কোনো দেশ যদি বড় কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়, তবে সাধারণত সেই টুর্নামেন্টের স্বার্থে টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট প্রায় সব আর্থিক লেনদেনের কর মওকুফ করে দেয় দেশটির সরকার। কিন্তু ২০১৬ সালে ভারতে আয়োজিত টি-২০ বিশ্বকাপের পর পুরোপুরিভাবে মওকুফ করেনি ভারত সরকার, সম্প্রচার সংস্থা স্টার ইন্ডিয়াকে সে সময় ১০ শতাংশ কর দিতে হয়েছিল। এমনকি দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই টুর্নামেন্টের পুরো কর মওকুফের প্রস্তাবনাও অনুমোদন করা হয়নি, বিসিসিআই ও আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া তাগাদায়ও পাওয়া যায়নি সাড়া। এর ফলে টুর্নামেন্ট থেকে আইসিসির কাক্সিক্ষত যে আয় ধরে রাখা হয়েছিল, তার সঙ্গে প্রকৃত আয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারএবার তাই ও পথ মাড়াতে চাইছে না বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। কর মওকুফের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ঝুঁকিও নিতে চাইছে না আইসিসি। কারণ, বড় দুই টুর্নামেন্টেও কর মওকুফ সুবিধা না গেলে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাতে পারে তারা সংস্থার বৈঠকের পর আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর মওকুফ না করা হলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের জন্য বিকল্প কিছুই ভাবতে হবে তাদের। এমনকি এরই মধ্যে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসনকে বিকল্প স্বাগতিক দেশের নাম প্রস্তাব করার ব্যাপারেও বলা হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আইসিসির এই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব অমিতাভ চৌধুরী। আইসিসির কঠোর অবস্থানের পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি।