২২ মার্চ খুলছে সিটির ৪৮৮টি হাইস্কুল

ঠিকানা রিপোর্ট : ছাত্র-ছাত্রীদের কলকাকলি এবং শিক্ষকদের কর্মচাঞ্চল্যে শ্মশানের নীরবতা কাটিয়ে আগামী ২২ মার্চ থেকে আবারো প্রাণসঞ্চার হয়ে উঠছে নিউইয়র্ক সিটির ৪৮৮টি হাইস্কুল ও আশপাশের এলাকা। মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো বলেন, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের যাবতীয় নির্দেশাবলী অনুসারে বিদ্যালয় ফ্যাসিলিটিগুলোকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য পুরোপুরি তৈরি করা হয়েছে। ডি ব্লাসিয়ো আরও বলেন, প্রায় ১ বছর ঘরে আবদ্ধ থেকে অধিকাংশ শিশু-কিশোরই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে আগ্রহী সিটির নতুন শিক্ষা চ্যান্সেলর মীসা রস পটার জানান, নবম থেকে দ্বাদশ গ্রেডের ৫৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এবং ১৭ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তার সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ পাঠদানের প্রস্তুতি হিসেবে ১৮ মার্চ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিদ্যালয়ে হাজির হতে হবে। সিটি শিক্ষা বিভাগ এবং চ্যান্সেলর পটার জানান, শুরুতে অর্ধেক বিদ্যালয়ের প্রায় সকল শিক্ষার্থীকে এবং পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে ৫ দিনের শ্রেণিকক্ষ পাঠদানে অংশ নিতে হবে। চ্যান্সেলর পটার জানান, নিউইয়র্ক পাবলিক স্কুলের কোভিড-পজিটিভ হার ৫.৭% এবং সার্বিক বিচারে বিদ্যালয়গুলো অধিকতর নিরাপদ।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মিডেল স্কুলে শ্রেণিকক্ষ পাঠদান শুরু হয়েছে এবং ফল বা শরতে এলিমেন্টারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরে আসতে হবে। নিউইয়র্কের হাইস্কুল খোলার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বছর মার্চের ১৫ তারিখ নিউইয়র্ক সিটির সকল স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত সেপ্টেম্বরে স্কুলের ক্লাস রিমোটলি এবং ব্লেন্ডিং এই দুই পদ্ধতিতে খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন কিছু স্টুডেন্ট ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম এবং কিছু স্টুডেন্ট পুরোপুরি রিমোট লার্নিং প্রোগ্রামে অংশ নেয়। এরপর করোনার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে আবার ইনপারসন ক্লাস অর্থাৎ ব্লেন্ডিং লার্নিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবার জন্য রিমোট লার্নিং করা হয়। নভেম্বরের পর থেকে এভাবেই চলছিল। দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীরা স্কুলে না যাওয়ায় এবং তারা ঘরে বসে লেখাপড়া করার কারণে অনেকেই হাঁপিয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় অভিভাবকরা অনেকটাই উদ্বিগ্ন। সব মিলিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চাইছেন যাতে করে স্কুল আবার খুলে যায় এবং ইনপারসন ক্লাস করানো সম্ভব হয়। এই অবস্থায় আবার স্কুল খুলছে ২২ মার্চ থেকে। এর আগেই স্কুলের শিক্ষক ও স্টাফরা স্কুলে যাবেন। স্টুডেন্টরা ইন পারসন ক্লাসে অংশ নিবে ২২ মার্চ থেকে। এদিকে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এখনো দুই রকম পদ্ধতি চালু রাখা এক হচ্ছে রিমোর্ট লার্নিং আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ব্লেন্ডিং পোগ্রাম। শিক্ষার্থীরা চাইলে ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবে। সেই জন্য তাদের ফরম পূরণ করতে হবে। আর তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য সিদ্ধান্ত নিবে- কে কোন দিন স্কুলে যাবে।
স্কুল খোলার ব্যাপারে স্কুলের চ্যান্সেলর রিচার্ড এ কারানজা বলেন, ‘আমরা আমাদের হাইস্কুলগুলো ২২ মার্চ সশরীরে শিক্ষার জন্য পুনরায় খুলবো। শিক্ষা বছরের শুরু থেকে আপনাদের সন্তানদের সশরীরে শ্রেণিকক্ষে প্রেরণ করার জন্য যারা উদগ্রীব হয়ে আছেন, আমরা তাদের অনেকের বক্তব্য শুনেছি। আমি জানি, যখন আপনার সন্তান অ্যাবহতভাবে রিমোটে লার্নিং গ্রহণে কঠোরভাবে কাজ করে গেছেন। আপনি ও আপনার সন্তান অন্য গ্রেডের শিক্ষার্থীদের সশরীরে শিক্ষায় পুনরায় ফিরে যেতে দেখেছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে যেসব ৯-১২ গ্রেডের শিক্ষার্থী ফল-এ মিশ্র শিক্ষা বা ব্লেন্ডেড লার্নিং বেছে নিয়েছিল তাদের এখন শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
অন্য গ্রেডের শিক্ষার্থী ও স্টাফরা যখন স্কুল ভবনে পুনরায় ফিরে এসেছে, আমরা স্কুল কমিউনিটিকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখায় সহায়তা করতে এবং আমাদের ভবনে শিক্ষার্থীদের সশরীরে শিক্ষার সময় সর্বাধিক করতে কঠোর চর্চা গড়ে তুলেছি। স্পোর্টস ও পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও শিগগিরই তথ্য শেয়ার করা হবে। সাপ্তাহিক কোভিড-১৯ পরীক্ষা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই জন্য বাধ্যতামূলক সম্মতি দিতে হবে। সকল স্কুলে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ও স্টাফকে র‌্যান্ডমলি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে টেস্টিং করা হবে। এই জন্য সবাইকে বাছাই করা হবে না। যখন যাকে বাছাই করা হবে তাকে পরীক্ষা করা হবে। যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পরীক্ষা ও টেস্ট করা জন্য সম্মতিপত্র জমা দেয়নি, তাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে গেলে সশরীরে শিক্ষার জন্য উপস্থিতির প্রথম দিনে সেটা দিতে হবে। পরিবার ও তাদের সন্তানদের সশরীরে শিক্ষার জন্য ফিরে আসার প্রথম দিনের আগে ‘মাই স্টুডেন্ট, এনওয়াইসি সাইটে, এনওয়াইসি স্কুল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্মতিপত্র জমা দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
যদি আপনার শিক্ষার্থীদের সাথে সংযুক্ত একটি এনওয়াইসিএসএ অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে থেকে থাকে তাহলে লগ ইন করতে হবে, শিক্ষার্থীর নামে ক্লিক করতে হবে। ম্যানেজ অ্যাকাউন্টে গিয়ে ক্লিক করে যখন এটি ড্রপডাউন মেন্যু আসবে তখন সম্মতি ফর্মসমূহে ক্লিক করতে হবে। পৃষ্ঠাটি পড়তে এবং এরপর একবারে শেষে আপনার সন্তানের জন্য সম্মতির অপশনটি বেছে নেন।
যাদের ইতিমধ্যে একটি এনওয়াইসিএসএ অ্যাকাউন্ট না থাকে তাহলে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। স্কুল থেকে একটি অ্যাকাউন্টি তৈরি করার জন্য ক্রিয়েশন কোড দেয়া হবে। এটি থাকলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট করা যাবে। এবং উপরে উল্লেখিত সম্মতি দিতে পারবেন। যদি স্কুল থেকে কোড না থাকে তারপরও কোভিড টেস্টিংয়ের জন্য সম্মতি দেয়া যাবে। এই জন্য অভিভাবক ও সন্তানের তথ্য দিতে হবে। চিঠির সাথের ফরম পূরণ করে দিতে পারবেন। যেসব শিক্ষার্থী সম্মতিপত্র জমা দিবে না তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি দূর থেকে শিক্ষায় (রিমোট লানিং) স্থানান্তর করা হবে।
শিক্ষা গ্রহণে পছন্দ ও সশরীরে শিক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, আপনাদের মাঝে যারা শিক্ষা বছরের শুরুতে অথবা নভেম্বরে বেছে নেয়ার সময়কাল (অপ্ট-ইন-পিরিয়ড) চলাকালে আপনার সন্তানের শিক্ষা গ্রহণের পছন্দ হিসেবে মিশ্র শিক্ষা বা ব্লেন্ডেড লার্নিং বেছে নিয়েছেন, তাদের নতুন সময়সূচিসহ আপনার সন্তানের স্কুল শিগগিরই যোগাযোগ করবে।
যদি আপনি আগে শিশু শিক্ষা বা ব্লেন্ডেড লার্নিং বেছে নিয়ে থাকেন কিন্তু এখন পুরোপুরি দূর থেকে বা রিমোট রাখতে চান, আপনি যত শিগগির সম্ভব আপনার পছন্দ পরিবর্তন করতে পারবেন। এই জন্য বিশেষ সাইটও রয়েছে।
স্কুলের উপস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, মিশ্র শিক্ষা বা ব্লেন্ডেড লার্নিংয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে সশরীরে শিক্ষার জন্য উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। যদি আপনার সন্তান নিয়মিতভাবে সশরীরে উপস্থিত না হয় তবে আপনার স্কুল যোগাযোগ করবে এবং যদি অনয়িমতি উপস্থিতি অব্যাহত থাকে তাহলে আপনার সন্তানকে পুরোপুরি রিমোট লার্নিংয়ে স্থানান্তর করবে। এটা স্কুলগুলোকে সরাসরি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য সশরীরে শিক্ষা নির্দেশনায় সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করার সুযোগ দিবে। কেউ ভ্রমণ করে থাকলে বসন্তকালীন ছুটি স্প্রিং ব্রেক শুরু হবে, সোমবার ২৯ মার্চ। যেসব শিক্ষার্থী ও স্টাফ সম্প্রতি নিউইয়র্কের বাইরে স্টেট ভ্রমণ করেছেন তাদের ট্রাভেল অ্যাডভাইজারির তালিকায় কোনো স্থান থেকে বেরিয়ে এসেছেন তাদের নূন্যতম ১০দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারিন্টাইনে থাকতে হবে। এরপর টেস্ট করার পর নেগেটিভ হলে আর কোয়রিন্টাইনে থাকতে হবে না।
ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের শিক্ষার্থীরা সিটিজুড়ে এইচ প্লাস এইচ সাইটগুলোতে পরীক্ষা বা টেস্টিংয়ে অব্যাহতভাবে অগ্রাধিকার পাবে, সাইটগুলোর একটি তালিকাও দেয়া আছে।
চ্যান্সেলর আরও বলেছেন, আপনার সন্তান যেখানেই শিক্ষা গ্রহণ করুক না কেনো, তারা যেন একটি দৃঢ়, সহায়ক শিক্ষা গ্রহণ করে তা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।