২ মাস দণ্ড ভোগ হয়ে গেছে খালেদা জিয়ার

রাজনীতি ডেস্ক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণার দিন গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ১১তম দিন কারাভোগ করেছেন তিনি।
এর আগে ২০০৮ সালে কারাবন্দী থাকাবস্থায় এই মামলায় তাকে আটক দেখানো (শ্যোন এরেস্ট) হয়। আইন অনুসারে ওই সময় এই মামলায় আটক থাকা ৪৯ দিনও দ- ভোগ হিসেবে দেখাতে হবে। সে হিসাবে বর্তমান ১১ দিন ও আগের ৪৯ দিন মিলে ৬০ দিন বা দুই মাস দ- ভোগ করা হয়ে গেছে পাঁচ বছরের দ-প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, রায় ঘোষণার পর ১১ দিন কারাভোগ করা হলেও মোট ১১ দিন বলা যাবে না। এর সঙ্গে আগে এই মামলায় আটক থাকার সময়কেও যুক্ত করে হিসাব করতে হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ক ধারায় বলা আছে,দ-প্রাপ্ত ব্যক্তি জেলহাজতে থাকিলে সেক্ষেত্রে কারাদ-ের মেয়াদ বাদ দিতে হইবে : (১) কেবলমাত্র মৃত্যুদ-ে দ-নীয় অপরাধের ক্ষেত্র ব্যতীত যে ক্ষেত্রে কোনো আদালত একজন অভিযুক্তকে কোনো অপরাধে অপরাধী হিসেবে গণ্য করিয়া থাকেন এবং এইরূপ অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করিয়া বিনাশ্রম বা সশ্রম যেকোনো মেয়াদের দ- প্রদান করিয়া থাকেন, সে ক্ষেত্রে উক্ত আদালতে ওই অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইত্যবসরে যে মোট মেয়াদ জেলহাজতে থাকিবে ওই মোট মেয়াদ প্রদত্ত কারাদ-ের মেয়াদ হইতে বাদ দিবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে কারাবন্দী থাকাকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। ওই বছরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
অবশ্য মুক্তির আগেই তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর ২০ দিন পর ২৩ জুলাই ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ফলে সেদিন থেকেই এ মামলায় খালেদা জিয়ার কারাভোগ শুরু হয়। এ কারণে ওই বছর মুক্তির আগ পর্যন্ত এ মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন ৪৯ দিন।