৬ হাজার টাকার জন্য গেল শিশুর প্রাণ

সিদ্ধিরগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অপহরণের তিন দিন পর আফসানা (১০) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি হাত পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী লাশ সোনারগাঁও উপজেলার কাইকারটেক এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আফসানা সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। গত ২৪ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন স্কুলছাত্রী আফসানার বাবা মো. আশরাফুল ইসলাম। সেখানে ২৩ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয়ে আফসানা আর বাসায় ফেরেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। দুদিন পর ২৬ জানুয়ারি সকালে লাশ পেয়ে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। বিকেলে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন আফরাফুল ইসলাম। এ দিকে ২৪ তারিখ রাতেই আশরাফুল ইসলামের কাছে ফোন করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জানান, তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তার কাছে ৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ ও মিষ্টি খাওয়ার জন্য দাবি করেন ওই ব্যক্তি। আশরাফুল ইসলাম জানান, নিতাইগঞ্জে এসে তারা টাকা দিয়ে যেতে বলেছিল। আমরা জানাই আমাদের মেয়েকে নিয়ে আসেন টাকা দেবো। এ কথা বলার পরই তারা জানায় তাহলে মেয়ের লাশ পাবেন। তিনি আরও জানান, আমাদের সঙ্গে কারও কোনো পারিবারিক দ্বন্দ্ব নেই। কাউকে সন্দেহও করছি না। হাসপাতালে লাশ শনাক্ত করতে এসে আফসানার মা রুবিনা বেগম বারবার কান্নায় মূর্ছা যেতে যেতে বলেন, বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে কেন তারা মেরে ফেলল। ছয় হাজার টাকার জন্য তো আর কেউ কাউকে মেরে ফেলে না। ওরা আমার মানিককে মেরে ফেলার জন্যই নিয়ে গেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই। সোনারগাঁও থানার ওসি (অপারেশন) আবদুর জব্বার জানান, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক ব্রিজের পূর্বপাশে সকালে এলাকাবাসী অজ্ঞাত বস্তাবন্দী, হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো এক কিশোরীর লাশ দেখতে পায়।
বিষয়টি সোনারগাঁ থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।