৮ লক্ষাধিক মোবাইল সিম রোহিঙ্গাদের হাতে

কক্সবাজার : উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক রোহিঙ্গাদের মাঝে বাংলাদেশি মোবাইল সেবা গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। থ্রিজি, ফোরজি বন্ধ হয়েছে। চালু রয়েছে টুজি। তবে রোহিঙ্গাদের কাছে নতুন সিম বিক্রয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সিম ও মোবাইল বিক্রয়কারী, মোবাইল অপারেটরের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসন কয়েক দফা বৈঠক করেছে। এতে একটি বিষয় উঠে এসেছে সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে চব্বিশ ঘণ্টা মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করা যায়। কিন্তু এতে ওই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দারা মোবাইল ব্যবহার নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিভিন্নপন্থায় বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে সীমান্তের এপার এবং ওপারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে অনেকে চোরাচালান, মাদক পাচার, মানবপাচার, ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮ লক্ষাধিক মোবাইল সিম রয়েছে রোহিঙ্গাদের মাঝে। বাংলাদেশি অপারেটরদের সিম শুধু রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে নয়, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের মংডু পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অনুরূপভাবে মিয়ানমারের চার অপারেটরের সিমকার্ড এপারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ব্যবহার করে থাকে। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠান করার পর সকল মহলে বিস্ময় ছড়িয়েছে এ কারণে যে, এরা কিভাবে নিজেদের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যমে এমন সমাবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যেই প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তথ্য এসেছে রোহিঙ্গা শিবিরের বহু ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের যেমন অবস্থান রয়েছে, তেমনি অস্ত্রেরও মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিওর পক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র জোগানদানের ঘটনাও উদঘাটিত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পক্ষে রোহিঙ্গা শিবির কেন্দ্রিক মোবাইল সেবা বন্ধের কথা বলা হলেও অদ্যাবধি এ ব্যাপারে কার্যকর কিছুই হয়নি। আশ্রিত রোহিঙ্গারা ঠিকই নেটওয়ার্ক পাচ্ছে। দিনরাত ব্যবহƒত হচ্ছে এদেশীয় সিম। ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে ল্যাপটপ, কম্পিউটার ইত্যাদি। এতে করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিমিষেই পাচার হয়ে যাচ্ছে।
এ দিকে বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকা-সহ সকল অপকর্মের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনই অন্যতম। নিমিষেই তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গাদের মাঝে মোবাইল সেবা বন্ধের একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি অপারেটদের মোবাইল সিম গেল কিভাবে। একটি নয়, কারও কারও কাছে ৫ থেকে ৭টি সিমও রয়েছে। এ ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে রোহিঙ্গারা এ দেশে আশ্রয় নেয়ার পর স্থানীয়রাই মূলত এদের কাছে মোবাইল সিম সরবরাহ করেছে। স্থানীয়রা নিজেদের নামে একাধিক সিমকার্ড নিয়ে কিছুটা অধিক মূল্যে রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করেছে। এসব মোবাইল সিম শুধু এ দেশে আশ্রিতদের মাঝে নয়, সীমান্তের ওপারেও চলে গেছে। উখিয়া টেকনাফ অঞ্চলের মোবাইল অপারেটরদের যেসব টাওয়ার রয়েছে এসব টাওয়ার থেকে নেটওয়ার্ক ওপারের মংডু পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া দুটি মোবাইল অপারেটর সংস্থা আশ্রয় শিবির কেন্দ্রিক টাওয়ারও প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে, যাতে রোহিঙ্গারা সহজে মোবাইল নেটওয়ার্ক যোগাযোগের আওতায় থাকে।
এসব নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ব্যবহƒত অধিকাংশ মোবাইল সিম স্থানীয়দের নামে নিবন্ধিত। স্থানীয়দের কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫টি পর্যন্ত সিমকার্ড গ্রহণ করেছে নিজেদের নামে। এসব সিম কার্ডের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গাতের হাতে চলে গেছে। ওই সভায় আরও জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গারা নিজ নামে খুব বেশি সিমকার্ড নিবন্ধন করতে পারেনি। কিন্তু আশ্রয় শিবিরে রয়েছে মোবাইল সিমের রমরমা ব্যবহার। এদের অধিকাংশ বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে থাকে। আবার অনেকের হাতে রয়েছে মিয়ানমারের মোবাইল সিম। তবে মিয়ানমারের মোবাইল সিম থেকে বাংলাদেশি সিমের মোবাইলে যোগাযোগ করা যায় না। ফলে রোহিঙ্গারা নিজেদের সুবিধার্থে দুই দেশের মোবাইল সিম ব্যবহার করে থাকে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

কক্সবাজার : রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সরকারি হিসেবে ক্যাম্পগুলোতে ৪৬টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গাদের নাম জড়িয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ড বা হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা যুবলীগের স্থানীয় নেতা মো. ওমর ফারুককে হত্যা করে। টর্চের আলো প্রক্ষেপণ নিয়ে বাগিবিতণ্ডার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর নিজ বাড়িসংলগ্ন ক্যাম্পের পাশেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে টেকনাফ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন রোহিঙ্গা নিহত হয়। যদিও কক্সাবাজার জেলায় রোহিঙ্গারা আসার সময় সম্প্রতি নিহত যুবলীগ নেতা মো. ওমর ফারুক তাদের বেশ সহায়তা করেন। উদ্যোগী হয়ে ওমর ফারুক স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয় করেন। রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণের ব্যবস্থা করেন। রোহিঙ্গাদের এত সহায়তা দিলেও তারাই ওমর ফারুককে হত্যা করেন। এ হত্যাকা-ে ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সিআইসিরা সার্বক্ষণিক ক্যাম্পে অবস্থান না করায় ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গারা ইয়াবা পাচার, ডাকাতি, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জড়াচ্ছে। এসব নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা গ্রুপে গ্রুপে আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সুরক্ষিত নয়। এ জন্য প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে বিভিন্নভাবে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা থেকে ৫৫ হাজার ১৮৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে শনাক্ত করে ক্যাম্প এলাকায় ফেরত পাঠানো হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চার হাজার ৯ জনকে আটক করে পুনরায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়। ক্যাম্পে আশ্রিত অনেক রোহিঙ্গাদের আত্মীয়-স্বজন বা পূর্বপরিচিত লোকজন মিয়ানমারে অবস্থান করার সুযোগে তারা এখন বিভিন্নভাবে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে তাদের অপরাধ প্রবনতা দিন দিন বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের এ হত্যাকা- নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহসাই একটি নির্দেশনা দেবেন।

রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে বাধা দেন মুহিবুল্লাহ
রোহিঙ্গা সমাবেশের মদদদাতারা শনাক্ত

কক্সবাজার : বিতর্কিত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ও তার সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কর্মকা- নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই। এসব নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে চলছে নানা আলোচনা। তবে সর্বশেষ অভিযোগ উঠেছে, মুহিবুল্লাহর সংগঠনের লোকজনই শেষ মুহূর্তে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে সম্মত পরিবারগুলোর দেশে ফেরা ঠেকিয়ে দিয়েছিল।
জানা গেছে, একটি পরিবারও যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে সম্মত না হতো, তাহলে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হতো না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুরনো (অনেক দিন আগে আসা রোহিঙ্গা) রোহিঙ্গারাই শুধু জানত, টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্পের অন্তত ২২টি পরিবারের লোকজন স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত ছিল।
স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে কোনো রোহিঙ্গা পরিবার রাজি না হলে প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ২২ আগস্ট ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রত্যাবাসনের জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুতি নিতেন না। কিন্তু প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ায় এসব বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা আর মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ২৫ আগস্টের সমাবেশের জন্য নেপথ্যে অর্থ জোগান দেওয়াসহ নানাভাবে ভূমিকা পালনকারী বেশ কিছু এনজিও, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ছাড়াও কক্সবাজারের কয়েকজন পেশাজীবীর নামও আছে। কক্সবাজারের প্রশাসন ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার পর একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এনজিও ব্যুরোতে। তবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করছেন না।
জানা গেছে, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার দুই বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে গত ২৫ আগস্ট সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কুতুপালং ক্যাম্পের বর্ধিত-৪ নম্বর ব্লকে বিশাল ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয় এআরএসপিএইচ, ভয়েস অব রোহিঙ্গা এবং রোহিঙ্গা রিফিউজি কাউন্সিলের (আরআরসি) উদ্যোগে। এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জের (সিআইসি) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই সেদিনের সমাবেশটি করা হয়েছিল।
সমাবেশের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজারের উখিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাসুদ ভূঁইয়া। সেদিনের সমাবেশে মাসুদ ভূঁইয়া সার্বক্ষণিক মঞ্চে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর পাশে বসা ছিলেন। জানা গেছে, উখিয়ার সিকদার বিল গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ ভূঁইয়া রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত। এমনকি মুহিবুল্লাহর সংগঠনেরও একজন অন্যতম উপদেষ্টা তিনি। তবে মাসুদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। তিনি সমাবেশে গিয়েছিলেন আমন্ত্রিত হয়েই।
এআরএসপিএইচর উপদেষ্টা হিসেবে ঢাকায় কর্মরত দুলাল মল্লিক নামের এক আইনজীবীসহ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির আরো দুই আইনজীবীর নামও এসেছে। আইনজীবী দুলাল মল্লিক উখিয়ার বাসিন্দা। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্য দুজনের একজন উখিয়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম। তিনি কক্সবাজারে দুদকের নিয়োজিত আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। অন্যজন টেকনাফের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান কক্সবাজার জেলা ও দায়রা আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত। দুজনই বলেন, তারা মুহিবুল্লাহকে কোনো দিন দেখেননি।
অন্য দিকে মুহিবুল্লাহর সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের নামও এসেছে।
এ ছাড়া ওই সমাবেশের জন্য অনেক সংস্থার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত সেবা সংস্থা ‘কারিতাস’ সেদিনের রোহিঙ্গা সমাবেশে মদদদাতাদের মধ্যে অন্যতম ভূমিকা পালন করে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারিতাসের কর্মকর্তারা। কারিতাসের চট্টগ্রামের প্রকল্প পরিচালক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কারিতাস রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজ করে না।’
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী প্রতিবেদন দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অনেক কিছুই আমাদের নজরেও এসেছে। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। এ ছাড়া অন্য যেসব এনজিও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গা সমাবেশে মদদ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অভিযোগ উঠেছে, ২২টি পরিবারের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মুহিবুল্লাহর নির্দেশে এআরএসপিএইচের লোকজন শালবাগান ক্যাম্পের পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। তারা মূলত ২১ আগস্ট রাতেই ক্যাম্পটিতে কায়েম করে ত্রাসের রাজত্ব। ক্যাম্পটির কয়েক শ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের মাঠে নামিয়ে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের ওই রাতে ধরে নিয়ে পাশের পাহাড়ে আটকে রাখা হয়। মুহিবুল্লাহর লোকজনের বাধার কারণে সেই ২২ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এখন কেউ কথা বলতে পারছে না। জানা গেছে, ওই প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ার পরও মুহিবুল্লাহর সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক ভালো ছিল। এ কারণে ২৫ আগস্ট তিনি নির্বিঘ্নে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সমাবেশ ঘটাতে পেরেছিলেন।