৯/১১ হামলার ১৯ বছর

ঠিকানা রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারসহ তিনটি স্থানে সন্ত্রাসী হামলার ১৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা করেন। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে। তৃতীয় উড়োজাহাজটি আক্রমণ করে পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ায়। ভয়াবহ এই হামলায় প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ। ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর হয় যুক্তরাষ্ট্র। সে দিন ১৮ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিমান বিধ্বস্ত হয় টুইন টাওয়ারে। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ কাপুরুষোচিত এ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মোট ২ হাজার ৭৫৩ জন নিহত হন। হাজার হাজার মানুষ আহত হন। উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৪৩ জন সদস্য প্রাণ হারান। আহতও হয়েছেন অনেকেই। এখনো অনেকে ৯/১১-এর ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রতি বছরই এই দিনটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালন করা হয়। এবারও দিনটি পালন করা হবে। ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই কর্মসূচি শুরু হবে। এই অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজনেরা অংশগ্রহণ করেন। সেই সাথে অমেরিকার প্রেসিডেন্ট, সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, নিউইয়র্ক সিটির হাই অফিশিয়ালরা উপস্থিত থাকেন। নিহত বাংলাদেশিদের স্বজনেরাও অংশ নেন। এ হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সে সতর্কতা আমলে নেননি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিৎসা রাইস। এসব হামলার জন্য আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদাকে দায়ী করে আসছে দেশটি। হামলার মূল হোতা হিসেবে ভাবা হয় আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে। এ ঘটনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন ও অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। হামলার পর বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামে যুক্তরাষ্ট্র। আফগান তালেবান মিলিশিয়ার সঙ্গে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাই আল-কায়েদা নির্মূল ও বিন লাদেনকে ধরার জন্য আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে নামে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে হামলা চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক বাহিনী। কয়েক মাসের মধ্যেই আল-কায়েদার অনেক নেতাকে হত্যা ও বন্দী করা হয়। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান টুইন টাওয়ার হামলার মূল নায়ক ও আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। হামলার প্রায় ১০ বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্দেশে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিল সদস্যরা।