অন্তিম প্রার্থনা

শামীম আরা ডোরা

আমার খোদা, আমার রসুল, আমার দয়াময়,
এই জীবনে পাপ করেছি তার যে হিসেব নাই।
ছোট বড় পাপ করেছি সারাটি জীবন,
মার্জনা করো, দিলের মালিক, তুমিই অকৃপণ।
দয়ার সাগর, মায়ার সাগর তুমিই অন্তর্যামী,
তোমার কাছে চাইছি ভিক্ষে, আমরা বিপদগামী।
রোজ হাশরের ময়দানেতে হিসাব যখন হবে,
রসুল তোমার অঙ্গীকার উম্মতদের নিতে হবে।
মদিনার ধন, মদিনার প্রাণ তুমিই আমার নবী
এই পাপীকে রক্ষা করো তুমিই প্রেমের ছবি।
রসুল তোমার উম্মতেরা চাইছে যখন পানি,
তুিমই তখন আসবে নেমে আমরা সবাই জানি।
ধ্যানের ছবি, জ্ঞানের ছবি তুমিই প্রেমময়
তোমার ছায়ায় এই যে পাপী পাড়ি দিতে চাই।
-নিউ ইয়র্ক।

মানুষগুলো অন্যরকম

মামুন জামিল

(কবিতার শিরোনাম কবি নির্মলেন্দু
গুণের একটি কবিতা থেকে নেয়া)

বাঘ-ভালুকে ভয় করেনা যত
না হয় মানুষ দেখে
মন তবে কি প্রাণীর মত হচ্ছে বদল একে একে ?
যদিও বসত মানুষ পাড়ায়, যোগ্য হবার অনেক বাকি
দলহারা এক ভেড়ার মত সারক্ষণই চুপসে থাকি !
মানুষগুলোর সাথে আমার চলন-বলন-সঞ্চালনে
তাল মেলাতে নাভিশ্বাস এক , খেই থাকেনা শুদ্ধ ক্ষণে!
খুন খারাবি নিষ্ঠুরতা সবই দেখি মানুষ মেলায়
পশুর সাথে মিল থাকেকি ঐ ধরনের পাষাণ খেলায়?
মানুষই গায় রসিক কোরাস- ‘বিশ্ববিবেক’ ‘মানবতা’
তারাই গড়ে গর্ব ভরে সভ্য হাতে কু-সভ্যতা !!
আমার তো আর হয়না হওয়া ওদের মত সভ্য মানুষ
মানুষ মেলায় উড়ছি যেন অযাচিত নষ্ট ফানুস!
কাকের যেমন ঠিক সাজেনা সুসজ্জিত ময়ূর পেখম
আমিও ঠিক হইনা মানুষ- ‘”মানুষগুলো অন্যরকম'”!!
-নিউ ইয়র্ক।

স্মৃতির নকশি কাঁথা

সাহেরা আফজা

বিছিয়েছি পরিপাটি আমি
স্মৃতির নকশি কাঁথা আজ
আমার মনের আঙিনাতে
এ জীবনভর এঁকেছি যা কিছু
লিখেছি যত কথা, কত আলাপন
ওরা সকলই যেন আজ
গল্প শোনায় আমায় ডেকে
নির্বাক শ্রোতা আমি
ঘোর লাগা চোখে রয়েছি চেয়ে!
ছেলেবেলার সেই দুরন্তপনা
স্কুল প্রাঙ্গণ খেলার মাঠ
যতেœ লুকানো মার্বেলের থলি
পুকুরের হাসিমুখ শাপলার দল
ডাকছে আমায় হাতছানিতে।
শৈশব কৈশোরের মধুর সে দিনগুলো
ফেলে আসা বেদনার ভারে
ফুটে আছে নীলপদ্ম হয়ে
আমার হৃদয় সরোবরে।
অবুঝ আমার মন সবুজের খোঁজে
হারিয়ে গেছে কোথা
বুঝি গাছের পাতায় দুর্বাঘাসে
দূর পাহাড়ের বনবিথিকায়।
আমার চঞ্চলতা বার বার
দোল দিয়ে যায় সরষে ক্ষেতে
চপলতা দোলে বাবলা গাছে
রাশি রাশি হলদে ফুল।
আমার যত না বলা কথা
অভিমানের তাপে বাষ্প হয়ে
ছাড়িয়ে ধরা ছোঁয়ার সীমানা
মিশে গেছে মেঘমালার ভিড়ে।
আর যাপিত এ জীবনের
ছোট বড় সকল পাওয়া সুখ আনন্দ
ছড়িয়ে আছে আমার হৃদয় কাননে
নানা রঙের গোলাপের ভিড়ে
ওরা আমার পথের দিশারী
এগিয়ে নেয়ার আলোর মশাল
ওদের সুবাসে সমৃদ্ধ আমি
সঞ্জীবনী সুধার আরকে
আমি বেঁচে থাকি
এলোমেলো এ জীবনে আবার
বাঁচার স্বপ্ন দেখি।
আরো কত রয়েছে বাকি
এ নকশি কাঁথার ফোঁড়ে ফোঁড়ে
রয়েছে লেখা রয়েছে আঁকা
বড় ক্লান্ত আজ আমি এই ক্ষণে
তাই যতনে আবার তুলে রাখি
স্মৃতির এ নকশি কাঁথাখানি
আমার হৃদয়ের গোপন তোরঙ্গে।
পেনসিলভেনিয়া।

বৃষ্টিবিধুর

লাবলু কাজী

বৃষ্টির তপ্ত অশ্রুজল আকাশের নিচে ভাসমান মেঘ।
মেঘ বালিকার আমন্ত্রণে আমার জানালার বিশাল কাঁচে
ঝুপঝাপ শব্দে আছড়িয়ে পড়ছে।
ভালোবাসার আঠার মত লেগে থাকার বায়নায় প্রিয়ার অনীহায় গড়িয়ে নিচে ধাবিত বিদায়ে রাগ ঝাড়ছে।
এই দুর্লভ দৃশ্যে বিমোহিত এই অপরূপা সৃষ্টির গুণকীর্তনে আত্মা স্রষ্টায় কৃতজ্ঞতায় নিবেদিত প্রাণ।
হ্রদয় উপভোগে বিরামহীন, আনমণে টেনে নিচ্ছে সব মধু
যেমনটি মৌমাছি টেনে নেয় ফুলের মধু আহরণে।
সামনের হলুদাভ ঝরা পাতা গাড়ির দুমড়ানো, মুচড়ানো করুণ
অবস্থার মত আমায় ব্যথায় কুচকিয়ে মরমে মেরে চলে গেল।
আর তো পেছনে ফিরে তাকালো না সোজা চলে গেল।
কোথায় কেমন আছি একটি বার তো খোঁজ নিলো না।
মনের মনণে জায়গা করে নেওয়া বেলা আর আমার সোনালী
জীবনের দিনগুলো মনের মন্দিরে ভিড় করে আমায় কাঁদায়।
সেই ক্রন্দনের ঝরে পড়া অশ্রুফোটার বিন্দু বিন্দু সংযোজন
যেন আজকের এই বৃষ্টি।
আকাশ ব্যথায় একাত্ম, ম্রিয়মান। তাই তো ওর রঙের
এই সংমিশ্রণ ক্রন্দনের দৃশ্যপটের চিহ্ন।
অনুভবে যাকে চিনি,পাই যে স্রেফ আমরই হয়ে থাকে
তাকে কিভাবে ভুলি এ ব্যথা কি যে ব্যথা না কাউকে বলার
না কেউ বুঝবে ” আমার, আমার হয়েই থাকলো”!
বেলা না হয় এই বৃষ্টির ফোঁটা হয়েই থাক!
কখনও কখনও বৃষ্টির ছোঁয়া আমেজে যদি ওকে একান্তে
পেয়ে আনন্দের আর্তিতে উপভোগ করি ক্ষতি কি ?
যে যা বলুক আমার কি আসে যায় তাতে!
নিউ ইয়র্ক।

বদলে যাই

মোহাম্মদ মুকিত চৌধুরী

কত ধর্মের ধারাবাহিকে
আমি মুসলমান।
আর কত বদলাবে
ধর্মের আবরণ,
নেই তা অনুমান।
জানে তা কার সৃষ্টিকর্তা
কার ভগবান।
ইংলিশ ছেড়ে উর্দু ধরি
ধুতি ছেড়ে পাজামা পরি,
উর্দু ফেলে ঘরে ফিরি
কোমরে ফের লুঙ্গি বাধি।
বাংলার সাথে হিন্দি
এখন করি বহমান।

লুঙ্গি ছেড়ে ধুতি কি
পরতে হবে কাল।
বাংলার সাথে কেন
হিন্দির মিশ্রণ,
আমার বর্তমান।
গতস্য উর্দু হলো
হারামীদের মান।
হিন্দি বর্তমান
ভারতীদের জান।

আসাম, ত্রিপুরা, কলকাতা
বাংলার যৌথথামার,
বাংলাভাষার সমমান।
শহীদদের আত্মা তখন
দেখবে কিছু শান।
আমরা সবাই হব
আরো মহিয়ান।
-নিউ ইয়র্ক।

একটি প্রীতির রাখী মালিপাখি

গৌরব সরকার

জরির টোপর পালতোলা মেঘ,
একটু তাকাও যদি ;
দেখবে হেসে টাপুর-টুপুর
বইছে গানের নদী — !
তার পাশে সব এতোল বেতোল,
নাম না জানা গাছে ;
শিউলি-টগর- বকুল -পলাশ
ফুলরা ফুটে আছে !
জল চিক চিক, গান চিক চিক,
ঝিনুক পুঁতির খোঁজে ;
একটা মানুষ ঢেউ হয়ে যায় —
কেউ কি সেটা বোঝে ?
কেউ বোঝেনা, কেউ বোঝেনা,
নীল পালকে মুড়ে ;
লোকটা ক্রমেই যায় হারিয়ে
দূরের থেকে দূরে — !
দিন থেকে রাত ছুটতে ছুটতে —
মন ভোলা তার ছবি ;
নিঝুমপুরের হাওয়ায় ভাসে —
ঠিক যেন সে কবি!
তুমিই তবে জরির টোপর,
পালতোলা মেঘ পাখি ;
লোকটাকে রোজ পরিয়ে দিও
একটি প্রীতির রাখী !
বাংলাদেশ।