ACS এবং আপনার শিশু সন্তানদের সার্বিক নিরাপত্তা

মোহাম্মদ এন মজুমদার :

সন্তানদের সাধারণ ও স্বাভাবিক অভিভাবক হচ্ছেন তাদের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন কিংবা অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা। তবে যেখানে পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়রা ব্যর্থ হন, কিংবা গাফেলতি করেন অথবা শিশুদের ওপর অত্যাচার বা অবহেলা করেন, সেক্ষেত্রে ACS (Administration for Children Services শিশুদের নিরাপত্তা ও ভরণপোষণে এগিয়ে আসেন। ACS যদি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট শিশুগুলো তাদের পিতা-মাতা কিংবা কোন নিকটাত্মীয়ের কাছে নিরাপদ নন, তখন ওই শিশুকে তাদের অধীনে নিয়ে আসতে পারেন। পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দেও কাছ থেকে সন্তানদের ACS-এর তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং বেদনাদায়ক হলেও বাস্তবে শিশুদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক শহরের এই সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ACS Intervention বা ACS হস্তক্ষেপ কখন ও কেন হয়ে থাকে : যখন কোন শিশুকে তাদের পিতা-মাতা মারধর বা নির্যাতনের খবর ACS-এর কাছে আসে, তখনই ACS অনুসন্ধান কাজ শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে, ACS একাধিকবার শিশুর পিতা-মাতার সাথে কথা বলে, হোম ভিজিট করে যদি এ মর্মে নিশ্চিৎ হন যে, শিশু তার নিজ গৃহে নিরাপদ নয়, তখনই ওই শিশুকে ACS-এর তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা হয়। ACS ওইসব শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধানে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। শিশুদের পোস্টার কেয়ার, সেফ হোম ইত্যাদি স্থানে পুনর্বাসন করে। পূনর্বাসন প্রক্রিয়ার আগে ACS আবার তথ্যানুসন্ধান করে যদি নিশ্চিৎ হন যে, সন্তানাদি নিজ গৃহে নিরাপদ এবং তাদের পিতা-মাতা সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভরণপোষণ দিতে সমর্থ, সেক্ষেত্রে ACS উক্ত শিশুকে তাদের পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারেন।

ACS কিভাবে শিশু নির্যাতনের খবর পায় : সাধারণত স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতাল, প্রতিবেশীর ফোন কল, ডাক্তার/থেরাপিস্টদের ফোন কল ইত্যাদিকে ACS-এর শিশু নির্যাতনের Source বা মাধ্যম হিসাবে গণ্য করা হয। স্কুলে শিশুদের ক্লাসে নেয়ার আগে এবং ক্লাসে শিক্ষক ও নার্সরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যদি নিশ্চিৎ হন যে কোন শিশুকে অত্যাচার এবং নির্যাতন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ACS Investigation করে থাকে। এছাড়া ডাক্তার এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্স এবং চিকিৎসকরা যদি এ মর্মে নিশ্চিৎ হন যে, শিশুটি তার নিজ গৃহে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয় কর্তৃক অত্যাচারিত ও নির্যাতিন হচ্ছে, সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও শিশুদের নিরাপত্তার পক্ষে ACS এবং পুলিশ বিভাগকে অবগত করে থাকেন। অত্যাচারিত শিশুর পক্ষেACS এবং পুলিশ বিভাগ কাজ করে এবং সংশ্লিষ্ট অত্যাচারী পিতা-মাতা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিচারের আওতায় আনেন।

সুতরাং আমাদের অভিভাবক, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্ব থেকে আসা পিতা-মাতাদের তাদের সন্তানদের লালণ-পালণ ও নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত শাসন, শিশুদের মারধর থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুর গায়ে ক্ষতের চিহ্ন অঈঝ এবং পুলিশ বিভাগের তদন্তের বিষয় হতে পাওে এবং আপনি আপনার শিশুকে হারানোর বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন।

পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল স্কুল থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল’ ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে ব্রঙ্কসে একটি ল’ ফার্মে কর্মরত এবং অন্য একটি ফার্মে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।